নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কর্মী পাচ্ছে না জার্মানির বৃদ্ধাশ্রমগুলো
প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৭:২৫
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও কর্মী পাচ্ছে না জার্মানির বৃদ্ধাশ্রমগুলো
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

জার্মানিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, কিন্তু সেই হারে বাড়ছে না তাদের যত্ন নেয়ার ব্যবস্থা। চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল অবশ্য এই অবস্থার উত্তরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


পাডারবর্নে সম্প্রতি এক নার্সিং হোম পরিদর্শন করেছেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল। সেসময় তাঁর সঙ্গে দেখা হয় ফ্রাউ শুল্টারের। ৯৩ বছর বয়সী এ মানুষটির এখন নড়াচড়ার ক্ষমতাও নেই।
তিনি জানালেন, ‘‘আমি বরং এর চেয়ে বাসায় থাকলেই ভালো করতাম। এখানকার খাবার জঘন্য।''


অবশ্য নার্সিং হোমের কর্মীদের নিয়ে তাঁর কোনো অসন্তোষ নেই। বরং শত কষ্টের মধ্যেও তাঁদের মুখের হাসির প্রশংসাই করলেন ফ্রাউ শুল্টার।


দেশজুড়ে কর্মীসংকট


জার্মানিতে প্রায় ৩০ লাখ বয়স্ক লোক রাষ্ট্রের সেবা নিচ্ছেন। ২০৬০ সালের মধ্যে তা পৌঁছাবে ৪৫ লাখে।


বয়স্কদের সংখ্যা বাড়তে থাকা এবং তাঁদের সেবাদাতার সংখ্যা কমতে থাকায় দ্রুতই এক দুর্যোগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। বিভিন্ন সেবাক্ষেত্রে এখন ৩৬ হাজার পদ খালি আছে, এর মধ্যে শুধু বয়স্কদের সেবাদানেই খালি ১৫ হাজার কর্মীর পদ।


সেবাদান কর্মী ফের্ডি সেবি অবশ্য এই অবস্থার পরিবর্তনে আশাবাদী। তিনি গত বছরের সেপ্টেম্বরে ম্যার্কেলের নির্বাচনী প্রচারণার এক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘‘আমার জন্য এটা খুবই দুঃখের যে, কোনো রাজনীতিবিদই এই সমস্যার সমাধানে আগ্রহী না।''


তিনি সেই সময় ম্যার্কেলকে একটি ওল্ড কেয়ার হোম পরিদর্শনের আহ্বানও জানান।


ম্যার্কেল সে-কথা ভোলেননি। ১০ মাস পর ঠিকই হাজির হয়েছেন সেবির বৃদ্ধাশ্রমে। ঘুরে দেখেছেন কী পরিস্থিতিতে তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়।



নতুন সেবাকর্মী


তরুণ কর্মীদের এই খাতে আকৃষ্ট করাটা দিনদিন খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে হাজার হাজার বৃদ্ধাশ্রম ভুগছে কর্মীস্বল্পতায়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদে জানা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধাশ্রম এখন পদ খালি হলেও আর বিজ্ঞপ্তি দেয় না। কারণ, সেসব পদের জন্য কেউ আবেদনই করেন না।


বেতনের সাথে শ্রমের সামঞ্জস্য না থাকায় তরুণরা এই খাতে আকৃষ্ট হচ্ছেন কম। জার্মান ফেডারেল স্ট্যাটিসটিক্স অফিস ডেস্টাটিস বলছে, তিন বছরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন কর্মী প্রতি ঘণ্টায় ১৮ ইউরো আয় করেন। অন্যখাতের কর্মীরা সেখানে আয় করেন ঘণ্টায় ২২ ইউরোর মতো।


ম্যার্কেলও বুঝতে পেরেছেন এই সমস্যা৷। তিনি নিজেও এই বেতনবৈষম্যে আপত্তি জানিয়েছেন। বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শন শেষে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘যাঁরা সারাদিনই মানুষের সাথে কাজ করছেন, ব্যাংক বা মেশিনচালকদের চেয়ে বেশি বেতন না হোক, তাঁদের অন্তত সমান বেতন কেন পাবেন না?''


এই অচলাবস্থা দূর করতে জার্মানির স্বাস্থ্য ও পরিবার এবং শ্রম মন্ত্রণালয় যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাক্কাতেই ১৩ হাজার খালি পদ পূর্ণ করার পরিকল্পনা তাঁদের। পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমের কর্মীরা যাতে অন্তত ৩০০০ ইউরো মাসিক বেতন পান, সে উদ্দেশ্যেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ অর্থআসবে কোত্থেকে, তা নিয়ে আছে প্রশ্ন।


সেবি অবশ্য বেশ খুশি যে ১০ মাস পরে হলেও ম্যার্কেল ঠিকই তাঁর কথা মনে রেখে বৃদ্ধাশ্রম পরিদর্শনে এসেছেন। তিনি মনে করেন, ম্যার্কেলের আন্তরিকতা এই ডুবন্ত খাতকে উদ্ধারে যথেষ্ট। সূত্র : ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com