বিবাহ বিচ্ছেদের পরও সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন! কিছু পরামর্শ...
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:০২
বিবাহ বিচ্ছেদের পরও সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন! কিছু পরামর্শ...
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

সন্তানই প্রথম প্রায়োরিটি। আর তাই কোনো ভাবেই সন্তানকে অবহেলা করবেন না। খারাপ ব্যবহার কিংবা রাগ দেখাবেন না।


সন্তানকে আবহেলা নয়


যে কোনো বিচ্ছেদই বেদনাদায়ক। সেই সঙ্গে জুড়ে থাকে মানসিক যন্ত্রণা। একসঙ্গে পথ চলতে গিয়ে নানা সমস্যার শিকার হতে হয় সকলকেই। থাকে বিভিন্ন রকম টানাপোড়েন। নিতান্তই মানাতে না পারলে তবেই একজন দম্পতি ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেন। অনেকে আবার সন্তানের মুখের দিকে চেয়েই কোনওক্রমে সম্পর্কে টিকে থাকেন। ওর তো মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে- এমনটা শুনতে কোনও সন্তানেরই ভালো লাগে না। কারণ একটি সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য মা-বাবা উভয়কেই প্রয়োজন। ছোট থেকেই যদি বাচ্চা দেখে মা-বাবা তার সামনেই অশান্তি করছে তা যেমন সে মেনে ন্তে পারে না, তেমনই একদিন বাড়ি ছেড়ে ব্যাগ গুছিয়ে মা অথবা বাবা বেরিয়ে যাবেন এমনটাও কল্পনা করতে পারে না। মুখে কিছু না বললেও মানসিক একটা কষ্ট তো থাকেই। এছাড়াও থাকে আইনি টানাপোড়েন। কার কাছে সন্তান থাকবে সে নিয়ে মা-বাবার ঠান্ডা লড়াই চলতেই থাকে। একটা বাচ্চার পক্ষে কখনও এভাবে মা কিংবা বাবাকে বেছে নেওয়া খুবই কঠিন। যেখান থেকে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের ভবিষ্যৎ। তাই সন্তানের কথা ভেবেই বিচ্ছেদের পর তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখুন। কোনও কারণে আপনাকে যাতে ভুল না বোঝে কিংবা 'মা' অথবা 'বাবা' শব্দটার উপর তীব্র ঘৃণাবোধ তৈরি হবে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।


সন্তানকেই প্রথম প্রাধান্য দিন


সন্তানের সামনে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, একে অপরের গায়ে হাত তোলা এসব করবেন না। এতে প্রথম থেকেই তার মন যেমন বিক্ষিপ্ত হয়ে যাবে তেমনই আপনাদের সম্পর্কেও ভুল ধারণা তৈরি হবে। সন্তানের ভালো, সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে দুজনেই আলোচনা করুন। তাকে বুঝিয়ে দিন যাই হোক না কেন আপনারা দুজন সব সময় তার পাশে আছেন।


ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু হোক সন্তান


অনেক সময় বাবা-মায়ের আলাদা হয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ বাচ্চার মাথায় ঢোকে না। ফলে সে নিজের মতো করে কারণ বানিয়ে নেয়। ভাবে সেই দোষী। যার কারণে বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়েছে।ভাবে হয়তো আরও একটু ভালোভাবে থাকলে এমনটা হতো না। সবকিছুর মূল হোতা নিজেকে ভাবায় সবার কাছ থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে । তাই এ সময় সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত খেয়াল রাখুন। তাকে বোঝান যে আপনারা দু'জনেই তাকে কতটা ভালোবাসেন।


সন্তানের সঙ্গে ঘুরতে যান, ছুটি কাটান


বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও উইকেন্ডটা একসঙ্গেই কাটান। আর তখন স্বামী-স্ত্রী এমন কোনও আচরণ করবেন না যাতে সন্তানের উপর কোনও উল্টো প্রভাব পড়ে। একসঙ্গে ঘুরে যান, সিনেমা দেখুন, খেতে যান। বা সপ্তাহের একটা দিন সন্তানের পড়াশোনার দিকেও নজর দিন। হয়তো অংক বা বিজ্ঞানটা একটু পড়িয়ে দিলেন। হোমটাস্ক করিয়ে দিলেন।


নিয়মিত কাউন্সেলিং করান


বাড়ির থেকেও বাইরের লোকেরা আপনার সন্তানকে বেশি উত্যক্ত করবে। কেন আপনাদের বিচ্ছেদ হয়েছে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তাই এই বিরূপ মন্তব্যের যেমন বিরোধিতা করবেন তেমনই সন্তানকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাউন্সেলিংও করাবেন। প্রয়োজনে দুজনে মিলেই যান।


বিচ্ছেদের কারণ খোলাসা হোক


বাচ্চার কাছ থেকে এখন হয়তো আপনি আপনাদের বিচ্ছেদের সঠিক কারণটি লুকাচ্ছেন। কিন্তু কেমন হবে বলুন তো, যখন অন্য কারও কাছ থেকে উস্কানিমূলক কথা শুনবে সে আর সত্য-মিথ্যা হাজারটা কথা লোকে শোনাবে তাকে। তাই সন্তানকে নিজেদের বিচ্ছেদের কারণটা খুলে বলুন যতটা সম্ভব। আর সেটা অবশ্যই বয়স অনুযায়ী সহজ করে বোঝানোর চেষ্টা করুন। তবে মাথায় রাখবেন যাতে করে আপনার কথায় আপনার সন্তানের এমন মনে না হয় যে, আপনারা তার জন্যই বিচ্ছেদের দিকে এগিয়েছেন।


বিবার্তা/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com