সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে পাইলটের বর্ণনা
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ১৫:৩৩
সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে পাইলটের বর্ণনা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ডে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভাল মাঠ সংলগ্ন মসজিদ আল নূরে বন্দুক নিয়ে হামলা চালায় অস্ট্রেলিয়ান ব্রেনটন ট্যারেন্ট। এতে এখন পর্যন্ত ৪০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। নিহতদের মধ্যে ২জন বাংলাদেশি রয়েছেন।


এ হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। সংবাদ সম্মেলনে ৩-৪ মিনিট দেরি হওয়ায় হামলা থেকে বেঁচে যায় ক্রিকেটাররা। তবে ধন্যবাদ দিতে হবে অজ্ঞাত নারীকে যিনি কিনা মসজিদে ঢুকার আগে খেলোয়াড়দের সাবধান করে দেন।


ঘটনার পরপরই খেলোয়াড়রা প্রথমে হেগলির ওভাল মাঠে পরে নিরাপত্তা বেষ্টিত হয়ে হোটেলে ফিরে আসে। হোটেলে ফিরে হামলা সম্পর্কে পুরোপুরি বিবরণ দেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট।


তিনি এভাবেই শুরু করেন, প্রথমেই যদি দুর্ঘটনাটার কথা বলি, তাহলে আপনারা সবাই-ই হয়তো দেখেছেন কী হয়েছে সেখানে। এটা আমরা আসলে কেউই আশা করি না যে কোনো দেশে এমন কিছু হোক। তবে আমর সত্যিই ভাগ্যবান। বাসে আমরা অনেকজন ছিলাম, ১৭ জনের মতো। এর মধ্যে সৌম্য সরকারও ছিল। আমরা সবাই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলাম। দুইজন (নাঈম হাসান ও লিটন দাস) শুধুমাত্র হোটেলে ছিল, বাকি সবাই আমাদের সঙ্গেই ছিল।


আমরা খুবই কাছে ছিলাম। আমার মনে হয় যেনো মসজিদটা আমাদের চোখের সামনেই ছিল। বাস থেকে আমরা পরিষ্কার দেখছিলাম। খুব বেশি হলে হয়তো ৫০ গজ দূরে ছিলাম। যেটা বললাম, আমরা খুব ভাগ্যবান। আর যদি ৩-৪ মিনিট আগে চলে আসতাম তাহলে হয়তো বড়সড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত। আমি শুকরিয়া আদায় করতে চাই যে এমন কিছু ঘটেনি।


আমরা ভাগ্যবান যে সেখানে ছিলাম না। মনে হচ্ছিলো যেন মুভিতে যেমন দেখি, রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষ বের হয়ে আসছে। বেশ কয়েকজন মানুষ বের হতে পেরেছিল। আমরা প্রায় ৮-১০ মিনিট ওভাবেই মাথা নিচু করে বাসের মধ্যে বসে ছিলাম। যাতে কোনো কারণে যদি গুলি বাসকে লক্ষ্য করেও করা হয়, আমাদের যেনো না লাগে। পরে যখন বুঝলাম যে অস্ত্রধারীরা যদি বাইরে এসে এলোপাথাড়ি গুলি শুরু করে, তখন বাসের মধ্যে একসঙ্গে অনেককে পাওয়া যাবে, ঘটনার তীব্রতা আরও বেড়ে যাবে। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম যে পেছন দিক দিয়ে যে গেট আছে, সবাই গেট দিয়ে বের হয়ে যাবো।


তারপর আপনারা সবাই দেখলেন যে আমরা পার্কের মধ্য দিয়ে হেঁটে-দৌড়িয়ে চলে গেলাম ড্রেসিংরুমের ভেতরে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ আমরা ড্রেসিংরুমের মধ্যেই ছিলাম। আলোচনা হচ্ছিলো কীভাবে আমরা এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারি।


নিউজিল্যান্ডের পক্ষ থেকে চেষ্টা করছিল কীভাবে আমাদের সবাইকে একসাথে করে টিম হোটেলে নিয়ে যেতে পারে। তারা চেষ্টা করেছে। আমার কাছে মনে হয় তারা নিজেদের দেশটাকে নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে, তার মধ্যে সর্বাত্মক চেষ্টাই করেছে। তাদের তো আসলে দোষ নেই, তারা যেভাবে সবসময় দেখে অভ্যস্ত, সেভাবেই চেষ্টা করেছে।


আমার মতে খেলোয়াড়রা তখন সেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে বাস থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। পরে যখন আমরা ভিডিও দেখলাম, দেখতে পেলাম যে বাইরে এসেও গুলি করছিল।


সবকিছু মিলিয়ে, আমাদের দলের সবাই এখন হোটেলে আছে। সবাই ভালো আছে, সুস্থ্য আছে। বাংলাদেশে যারা দেখছেন বা দেখবেন সবাই চিন্তিত। তাদের বলতে চাই খেলোয়াড়রা সবাই সুস্থ আছে। আর শনিবারের ম্যাচটি বাতিল করা হয়ে আছে।


এখন আমাদের পরিকল্পনাও করা হয়ে গেছে কীভাবে আমরা দেশে ফিরব। আমাদের লজিস্টিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে কীভাবে টিকিটগুলো কনফার্ম করে এখান থেকে আমরা চলে যেতে পারি। সার্বক্ষণিকভাবে বোর্ডের যোগাযোগ রয়েছে। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, তামিম, মুশফিক কিংবা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গেও কথা বলছে বোর্ড। বিসিবি যেহেতু দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক, তারা সবকিছু মনিটরিং করছে।


নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডকেও ধন্যবাদ। তারা যেভাবে আমাদের টিম হোটেলে নিয়ে এসেছে এবং আমাদের নির্ভার করেছে। আমি নিশ্চিত যে এর সঙ্গে ক্রিকেটের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, সেটা যে দেশেই হোক। তো আমরা খেলতে চাই, ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আমরা একটা টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারতাম বাড়তি। তবে এখন দুর্ঘটনা ঘটায় ফিরে যেতে হচ্ছে।


বিবার্তা/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com