সংখ্যাতত্ত্ব আর পরিসংখ্যান নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ০০:২৭
সংখ্যাতত্ত্ব আর পরিসংখ্যান নিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বিশ্বকাপে এটি ছিল ২১তম আসর। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয় ১৯৩০ সালে। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আটটি দল শিরোপা জিতেছে। টানা এক মাসের উত্তেজনাকর সময় শেষে অবশেষ পর্দা নামলো রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এর।


৩২ দলের খেলা ৬৪ ম্যাচ শেষে সময় হয়েছে পরিসংখ্যানের হিসেব কষার। পুরো বিশ্বকাপের নানান হিসেব, সংখ্যাতত্ত্ব আর পরিসংখ্যান নিয়েই এবারের আয়োজন।


১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছিল ফ্রান্স। এর আগে ব্রাজিল ৫ বার, জার্মানি ৪ বার, ইতালি ৪ বার, আর্জেন্টিনা ২ বার, উরুগুয়ে ২ বার, ইংল্যান্ড ১ বার, স্পেন ১ বার ফ্রান্স ২ বার করে শিরোপা ঘরে তুলেছে।


সর্বোচ্চ গোল


এবারের আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। এবারের টুর্নামেন্ট মোট ৬টি গোল করেন তিনি। অবশ্য ফাইনালের দেখা পায়নি ফুটবলের জনক ইংল্যান্ড। হ্যারি কেনের পরে চারটি করে গোল নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে যৌথভাবে আছেন বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু আর রাশিয়ার ডেনিস চেরিশেভ।


মোট গোল


এবারের আসরে মোট গোল হয়েছে ১৬৯টি। গত ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে দুই গোল কম। টুর্নামেন্টের মোট ৬৪টি ম্যাচের প্রতিটিতে গড়ে গোল হয়েছে ২.৬টি। এক ম্যাচে সবথেকে বেশিবার গোল হয়েছে গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম বনাম তিউনিসিয়ার ম্যাচে। সে ম্যাচে ৫ গোল করে বেলজিয়াম। আর বাকি ২ গোল করে তিউনিসিয়া।


কার্ড


এবারের আসরে রেফারির পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের হয়েছে ২১৯ বার। গড়ে প্রতি ম্যাচে ৩.৫ বার। আর লাল কার্ড থেকে মাঠ ছেড়েছেন বিভিন্ন দেশের চার খেলোয়াড়।


এরমধ্যে এক ম্যাচে সবথেকে বেশি বার কার্ড বের হয়েছে গ্রুপ পর্বে বেলজিয়াম বনাম পানামার ম্যাচে। সেই ম্যাচে বেলজিয়াম ৩টি আর পানামা ৫টি হলুদ কার্ড দেখে।


পাসিং


রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩২টি দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে বল পাস করেছেন ৪৯ হাজার ৬৪৭ বার। গড়ে প্রতিম্যাচে ৭৭৮.৭ বার। এরমধ্যে সবথেকে বেশিবার পাসিং হয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেন বনাম ফ্রান্সের ম্যাচে। আর এককভাবে সবথেকে বেশিবার বল পাস করেছেন স্পেনের সার্জিও রামোস। গুণে গুণে ৪৮৫ বার।


দলীয় পারফর্মেন্স


দলীয় পারফর্মেন্সে এগিয়ে আছে স্পেন। দলগতভাবে সর্বোচ্চ ১৬টি গোল দেয় স্পেন। সবথেকে বেশি ৩২১ বার আক্রমণে যায় ইংল্যান্ড। সর্বোচ্চ সংখ্যক তিন হাজার ৩৩৬ বার পাসিংও ইংলিশদের। আর সব থেকে বেশিবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিয়েছে এবারের আসরের রানারস আপ ক্রোয়েশিয়া।


একক পারফর্মেন্স


দলগত পারফর্মেন্সের পর একক হিসেব নিকেষে সবথেকে বেশিবার আক্রমণের চেষ্টা করে ব্রাজিলের নেইমার। সবথেকে বেশি দৌড়েছেন ইংল্যান্ডের জন স্টোনস। ৬৯ কিলোমিটারেরো বেশি দৌড়েছেন এই ইংলিশ খেলোয়াড়। আর সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে সবথেকে বেশিবার প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকিয়েছেন বেলজিয়ামের কুরটোইস।


পেনাল্টি


টাইব্রেকারের ছাড়া এবার ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১৬ জন খেলোয়াড় পেনাল্টি থেকে ২১টি গোল পেয়েছেন। এর সঙ্গে যোগ হতে পারত আরো বেশ কয়েকটি পেনাল্টি। যদি না পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, আইসল্যান্ডের গিলফি সিগুর্ডসন ও ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদ্রিচ ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির নাম। একটি করে পেনাল্টি মিস করেই সুযোগটা হারিয়েছেন তাঁরা। এক বিশ্বকাপে এর আগে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল হয়েছিল ১৯৯৮ সালে।


সেট পিস


এবারের বিশ্বকাপ থেকে সেট পিস থেকেও রেকর্ড সংখ্যক গোল হয়েছে। ফাইনাল পর্যন্ত ১৬৯ গোলের ৭১ টিরই উৎস যে সেট পিস। শতকরা হিসাবে মোট গোলের যা ৪৪ ভাগ। ২০০২ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা সেট পিসের হিসাব রাখা শুরু করে। এরপর এবারই সেট পিসে সবচেয়ে বেশি গোল এসেছে। এবারের আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৪৬টি গোল এসেছিল সেট পিস থেকে।


শেষ মুহূর্তের গোল


এবার শেষ মুহূর্তের গোলেরও রেকর্ড হয়েছে। শেষ পাঁচ মিনিটে হয়েছে ২৯টি গোল। যার ১৯টিই যোগ করা সময়ে। আগের রেকর্ডটি ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের। সেবার শেষ পাঁচ মিনিটে গোল হয়েছিল ২৪ টি।


আত্মঘাতী গোল


এবারের আগে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬টি আত্মঘাতী গোল দেখেছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপ। এবার সেমিফাইনাল পর্যন্ত সংখ্যাটা কিনা ১১!


সবচেয়ে কম লাল কার্ড


এটাকে রেকর্ড না বললেও চলে। এবারের বিশ্বকাপে মাত্র ৪টি লাল কার্ড দেখিয়েছে রেফারিরা। এর জন্য ভিএআর দায়ী। সংখ্যাটা ১৯৭৮ বিশ্বকাপের পর সর্বনিম্নও। সর্বশেষ ১৯৭০ বিশ্বকাপে কোনো লাল কার্ড বা বহিষ্কারের ঘটনা দেখেনি বিশ্বকাপ। হলুদ কার্ড দেখানোয় অবশ্য কৃপণতা দেখাচ্ছেন না রেফারিরা। ২১৬ বার হলুদ কার্ড বের করেছেন রেফারিরা, সংখ্যাটা ২০১৪ বিশ্বকাপের চেয়ে ৩৫টি বেশি।


টাইব্রেকার


এবারের বিশ্বকাপে রেকর্ড চারটি ম্যাচ গড়িয়েছে টাইব্রেকারে। ১৯৯০, ২০০৬ ও ২০১৪ বিশ্বকাপেও চারটি করে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল। সেই সঙ্গে এক বিশ্বকাপে দুটি টাইব্রেকার জেতার রেকর্ডও ছুঁয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পথে দুবার টাইব্রেকার-বাধা পেরিয়েছিল আর্জেন্টিনা।


গোল্ডেন বল: লুকা মদ্রিচ(ক্রোয়েশিয়া)


গোল্ডেন বুট: হ্যারি কেন (ইংল্যান্ড)


গোল্ডেন গ্লাভস : কোর্তোয়া (বেলজিয়াম)


ফিফা ইয়ং প্লেয়ার: কিলিয়ান এমবাপ্পে(ফ্রান্স)


বিবার্তা/শারমিন/শাহনাজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com