নিয়ম ভেঙে উপাচার্য পদে বহাল থাকতে চান আখতারুজ্জামান?
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০১৯, ১৬:০১
নিয়ম ভেঙে উপাচার্য পদে বহাল থাকতে চান আখতারুজ্জামান?
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্যানেল সিনেট কর্তৃক চূড়ান্ত হলেও এক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।নিয়মনীতি লংঘন করে তিনি উপাচার্য হওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগ এনে, এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।


বুধবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে তিন জনের উপাচার্য প্যানেল চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিনেটের চেয়ারম্যান ও ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।


বিএনপিপন্থী সাদা দলের সিনেটের অধিবেশন বর্জন করায় এবং আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দলের পেশ করা উপাচার্য প্যানেল নিয়ে মতানৈক্য না থাকায় অধিবেশনে ভোটাভুটি ছাড়াই উপাচার্য প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে।এই প্যানেল এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের নিকট পাঠানো হবে।সেখান থেকে একজনকে উপাচার্য পদে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য।


তিন জনের ভিসি প্যানেলে রয়েছেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল।


এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) রাতে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দল ভিসি প্যানেল চূড়ান্ত করেছিল। নীল দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ভিসি প্যানেল নিয়ে মতানৈক্য হলে ভোটাভুটি হয়েছিল। এতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ৪২ ভোট, উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ৩৬ ভোট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এস এম মাকসুদ কামাল ৩০ ভোট পেয়ে প্যানেলে মনোনীত হয়েছিলেন।


এছাড়া উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ২৮ ভোট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান ২০ ভোট পেয়েছেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ভোট বেশি পাওয়ায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের নাম চূড়ান্ত সিনেট তালিকায় সবার উপরে থাকার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে নিয়ম লংঘন করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে সিনেটের চূড়ান্ত তালিকায় প্রথমে রাখা হয়েছে।


আওয়ামী লীগ সমর্থক নীল দলের শিক্ষকদের একাংশ এ বিষয়ে বিবার্তাকে অভিযোগ করে বলেন, দলীয় ফোরামে সর্বাধিক ভোট পাওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের নাম তালিকায় সবার আগে থাকার কথা থাকলেও তা লংঘন করে উপাচার্য আখতারুজ্জামানের নাম দেয়া হয়েছে।সিনেট অধিবেশনে এর প্রতিবাদ জানানো হলে সভাপতিত্ব করা আখতারুজ্জামান তা পাশ কাটিয়ে অধিবেশন শেষ করে দিয়েছেন।


নামের ক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি ও ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বিবার্তাকে বলেন, আমরা মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) নীল দলের যৌথ সভায় ভোট করে একটি প্যানেল ঠিক করেছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া হলো যিনি সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে তার নামটি আগে, তারপর মধ্যম, তারপর তৃতীয়জন এভাবে চূড়ান্ত ভিসি প্যানেল ঠিক করা হবে। কিন্তু বুধবার (৩১জুলাই) সিনেট অধিবেশনে সেই সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। সেখানে আমরা দেখলাম অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নামটি প্রথমে এসেছে, যিনি ওই যৌথ সভায় ৩৬ ভোট পেয়েছিলেন। আর দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদের নাম। কিন্তু অধ্যাপক সামাদ সর্বোচ্চ ৪২ ভোট পেয়েছেন।


তিনি বলেন, যখন নীল দলের সভার সিদ্ধান্ত লংঘন করে নামের ক্রম পরিবর্তন করা হলো, তখন এটাকে সমর্থনও করলেন আমাদের রেজিস্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি বাহালুল মজনুন চুন্নু।এই সময় মাইক্রোফোন অন করেছিলেন আমাদের শিক্ষক ক্যাটাগরি থেকে সবচেয়ে প্রবীণতম শিক্ষক, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ। তিনি তখন বলেন, মাননীয় উপাচার্য আমাদের একটি কথা আছে, প্যানেল ক্রমানুসারে হয়নি। এটা তিনি একবার নয় কয়েকবার বলেছিলেন, কিন্তু উপাচার্য সেই কথা শোনেননি।


সাদেকা হালিম অভিযোগ করে বলেন, এক পর্যায়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সামাদও এ বিষয়ে কথা বলতে শুরু করলে তাকে থামিয়ে দেয়া হয়। তখন অধ্যাপক সামাদ বলেছিলেন, এটা তো একটা অধিবেশন এখানে আমরা সবাই কথা বলতে পারি। এটা গণতান্ত্রিক চর্চার একটা জায়গা, এখানে আপনি সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেন। তখন উনি (উপাচার্য) এটা এড়িয়ে গিয়ে জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মধ্য দিয়ে অধিবেশনের সমাপ্তি করেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে নীল দলের সাবেক আহ্বায়ক এবং বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ বিবার্তাকে বলেন, সিনেট অধিবেশনে আমি পয়েন্ট অফ ওয়ার্ডার করে প্রশ্ন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে ‍সুযোগ দেয়া হয়নি। আমি এর বেশি মিডিয়ার কাছে কিছুই বলবো না।


বিশ্ববিদ্যালয়ের জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আফতাব উদ্দিন বিবার্তাকে বলেন, বেশি কিছু বলবো না। শুধু এইটুকুই বলবো , নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে এসব হচ্ছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ এ বিষয়ে বিবার্তাকে বলেন, আমি যেহেতু এখন দায়িত্বশীল পদে আছি, সেহেতু এ বিষয়ে এখন কথা বলতে চাচ্ছি না।


সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।


বিবার্তা/রাসেল/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com