ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে জটিলতা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৯, ১৭:৫৪
ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে জটিলতা
আকরাম হোসেন
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরের পরিস্থিতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে।এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে গেছে।তবে এবার এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কত জন মারা গেছে সে সংখ্যা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে এ বছর ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে হাসপাতালগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় এ বছর ২৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।


ডেঙ্গু রোগে সকল তথ্য সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।মৃতের সংখ্যার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বির্বাতাকে বলেন, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।রোগ তত্ত্ব নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে যে তথ্য আসে সেটা আমরা সংগ্রহ করি।


স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৬০ জন, মৃত্যু হয়েছে দুই জনের।এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ছয় হাজার ৪৫ জন আর মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের।রাজধানীর ৩০টি হাসপাতাল থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।



তবে হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে ভিন্ন কথা।বির্বাতার অনুসন্ধানে দেখা যায় সরকারের দেয়া তথ্য থেকে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি।সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মিলিয়ে দেখা যায় এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।তবে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্কয়ার হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বির্বাতাকে বলেন, সব সময় সরকার মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে বলে।


ডেঙ্গুতে কোথায় কতজনের মৃত্যু হয়েছে:


ঢাকা শিশু হাসপাতালের দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বির্বাতাকে জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।মে মাসে তামিম ইসলাম ১০ নামের এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং ১৫/১৬ তারিখের দিকে লামিয়া (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।


আসলে তাদের হাসপাতালে আনতে অনেক দেরি করে ফেলেছিল যার কারণে আমাদের পক্ষে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।


তিনি আরো বলেন, বর্তমান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জন ভর্তি আছে।৪৫০ এর মতো ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছি।মৃত্যুসহ ডেঙ্গুর সকল তথ্য আমরা সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।সরকার বা আমাদের পক্ষে পুরোপুরি ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব না।প্রতিকারের জন্য সকল স্তরের মানুষের এগিয়ে আসতে হবে।নিজের বাসাবাড়িসহ আশপাশ আমাদের পরিস্কার রাখতে হবে।



শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।তবে হাসপাতালের পরিসংখ্যা কর্মর্কতা এস এ এম কামরুজ্জামান বির্বাতাকে বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে দুই জন মারা গেছেন।চলতি মাসের ১২ তারিখে জায়েদা (৪৫) নামের এক নারী এবং ১৫ তারিখে জেসমিন (২২) নামরে আরেক জন মারা যান।খোঁজ নিয়ে জানা যায় ১৭ তারিখে আরো একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।


ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াদ নাসের চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩২ জন ভর্তি রয়েছেন।এ পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে চার জন মারা যায়।তাদের মধ্যে তিনজন এখানে ভর্তি ছিল।একজন আউটডোরে মারা যান। এসব তথ্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইউডিসিআরে পাঠিয়েছি।


জানা যায়, গ্রিন লাইফ হাসপাতালের ডেঙ্গু জ্বরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।তাদের একজন গর্ভবতী ও একজন শিশু।ল্যাবএইড হাসপাতাল চলতি মাসের ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় ২৮ বছর বয়সী একজন নার্স মারা যান।বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ মাসে দুটি শিশু ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে।ইউনাইটেড হাসপাতালের এ মাসে চার বছরের একটি শিশু ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে।


স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বির্বাতাকে জানান, এ হাসপাতালে তিন জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।এদের মধ্যে একজন ডাক্তারও রয়েছে।সরকার যে মৃতের তথ্য দিয়েছে সেখানে স্কয়ার হাসপাতালে একজনের কথা উল্লেখ আছে।


ইবনে সিনার (শঙ্কর শাখা) প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. আকমান আলী বির্বাতাকে জানা, আমাদের এখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক জনে মৃত্যু হয়েছে। আমরা ডেঙ্গুর সব তথ্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের জানিয়ে দিচ্ছি।সরকার যে মৃতের তথ্য দিয়েছে সেখানে ইবনে সিনা হাসপাতালের কথা উল্লেখ আছে।


সরকারের তথ্য মতে বিআরবি, আসগর আলী ও অ্যাপোলো হাসপাতাল একজন করে মৃত্যু উল্লেখ আছে।


হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমে কর্তব্যরত ডা. আয়েশা আক্তার বির্বাতাকে বলেন, হাসপাতালগুলো থেকে মৃত্যুসহ ডেঙ্গুর সকল তথ্য আইইডিসিআরতে আসে।সেখান থেকে তারা আমাদের কাছে পাঠায়। আইইডিসিআর যদি আমাদের কাছে একটা মৃত্যুর তথ্য দেয় তাহলে আমাকে একটা মৃত্যু দেখাতে হবে আবার সেখান থেকে যদি দুইটা মৃত্যু তথ্য দেয় তাহলে আমাকে দুইটা দেখাতে হবে।


আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সাবরিনা বির্বাতাকে বলেন, আমাদের একটা মৃত্যু পর্যবেক্ষক কমিটি রয়েছে।হাসপাতালগুলো থেকে যে তথ্য আসে তা এই কমিটি পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।সেখান থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘটেছে বলে রিপোর্ট দিলেই কেবল মাত্র আমরা তাদের গণনাই ধরি।বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে।আমরা সে মৃতের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছি।পরীক্ষা শেষে সঠিক তথ্য জানা যাবে।


বিবার্তা/আকরাম/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com