ঢাকার প্রধান তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ১১:৩৩
ঢাকার প্রধান তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীতে প্রধান তিনটি সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। রবিবার থেকে রিকশা চলাচল বন্ধ হলেও জনমনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ এটাকে ভালো উদ্যোগ হিসেবে মনে করলেও কেউ কেউ এটাকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারছেন না। আবার কেউ কেউ বলছেন এই উদ্যোগ সিটি করপোরেশনের একটি আইওয়াস মাত্র।


রাজধানীতে যানজট কমাতে এবং জনগণের ভোগান্তি দূর করার জন্য সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন সড়কে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করা হয়। এছাড়াও ঢাকার তিনটি সড়কে রবিবার থেকে রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।


সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে- কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ, গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর ও সায়েন্সল্যাব- শাহবাগ। ৩ জুলাই দক্ষিণ নগর ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভা শেষে এই সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এমন ঘোষণার পর রবিবার থেকে ওই তিন সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে।


তবে এমন ঘোষণা বাস্তবায়নে জনগণের ভোগান্তি কমছে কী? ঘোষণা কী বাস্তবায়ন হচ্ছে? বিষয়টি সাধারণ মানুষ কীভাবে দেখছে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে রবিবার সকাল থেকে ওই তিন রাস্তায় ঘুরেছেন বিবার্তার এই প্রতিবেদক। এ সময় রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।



রবিবার সকাল ৭টার দিকে গাবতলী-আসাদগেট-আজিমপুর সড়কের আসাদ গেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুর রাস্তার প্রবেশমুখে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা গলির ভেতর থেকে আসা রিকশাগুলোতে প্রধান সড়কে উঠতে বাধা দিচ্ছেন।


শুধু তাই নয়, কোনো রিকশা চালক আইন না মেনে মেইন রাস্তায় চলে গেলে তাকে শাস্তিও দেয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণের জন্য তার রিকশা রাস্তার পাশে উল্টে রাখা হচ্ছে।


এ সময় কথা হয় আলমগীর নামের এক রিকশাচালকের সাথে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে তিনি লালমাটিয়া এলাকায় রিকশা চালান। তবে মেইন রোডে আগে থেকেই রিকশা চলাচল করা নিষিদ্ধ থাকলেও কেউ মানত না। তবে আবার নতুন করে ঘোষণা আসছে। তাই বিষয়টি মেনে চলতে হচ্ছে। এতে আগের থেকে তাদের আয় কমে যাবে বলে মনে করেন ওই রিকশাচালক।


একটু পরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে গিয়ে দেখা গেছে, গলির প্রবেশমুখেই দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। তারা মেইন রাস্তায় রিকশা যাতায়াত করতে বাধা দিচ্ছেন।



এ সময় কথা হয় সাদেজুল ইসলাম নামের এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে। তিনি বিবার্তাকে বলেন, সকাল থেকে তারা এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু অনেক রিকশাচালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাই একটু সমস্যা হচ্ছে। সবাই সচেতন না হলে এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।


তবে সোবহানবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মেইন রাস্তার উপরেই কয়েকটি রিকশা রাখা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় কোনো পুলিশ সদস্য নেই। এক পর্যায়ে চালকদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানায়, বেশি ইনকামের আশায় তারা মেইন রাস্তায় অবস্থান করেন। তাই প্রতিদিনের মতো আজও মেইন রাস্তায় এসেছেন।


রহমান আলী ও ইয়াকুব আলী নামের দুই রিকশা চালক বিবার্তাকে বলেন, আইন করে কোনো লাভ নেই। এই আইন আমরা মেনে নিলেও যাত্রীরা মেনে নিতে চান না। তারাই আমাদের মেইন রাস্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বলেন। তাই আমরা মেইন রাস্তা দিয়ে রিকশা চালাই।


এ সময় আখলিমা নামের এক যাত্রী বিবার্তাকে বলেন, তিনি ধানমন্ডি ২৮ নম্বর এলাকায় থাকেন। কিন্তু তার বাসা থেকে বাসে বা লেগুনা দিয়ে চলাচল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই রিকশা দিয়েই অফিসে যাতায়াত করতে হয়।


কিন্তু রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়াতে হেঁটে হেঁটে অফিসে যেতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যদি সিএনজি অটোরকিশা রিজার্ভ করে অফিসে যাই; তাহলে অনেক বেশি টাকা খরচ হবে। এতে মাসে যে বেতন পাই; তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়ে যাবে। তাই এই উদ্যোগকে তিনি গ্রহণ করতে পারছেন না।



কলাবাগন মোড়, ধানমন্ডি ১২ নম্বরের মোড়, সাত নম্বর ও আট নম্বরের মোড়ে গিয়েও দেখা গেছে যেখানে পুলিশ সদস্য আছে সেখানে রিকশা চলাচল করছে না। আবার যেখানে পুলিশ সদস্য নেই, সেখানে রিকশা চালকরা মেইন রাস্তায় চলাচল করছে। সাইন্সল্যাব এলাকায় এসেও একই চিত্র দেখা গেছে। তবে সেখানে পুলিশ ও আসনার সদস্যরা থাকায় রিকশাচালকরা মেইন রাস্তায় অবস্থান করতে পারছে না।


তবে সেখানে তিনটি রিকশা জব্দ করে রাখা হয়েছে। কেন রাখা হয়েছে জানতে চাইলে আনসার সদস্য মোহাম্মদ শিমুল বিবার্তাকে বলেন, মেইন রাস্তায় রিকশা চালানো নিষদ্ধ থাকার পরও তারা রিকশা নিয়ে মেইন রাস্তায় চলে গেছেন। তাই তাদের জন্য শান্তিস্বরূপ এমন কাজ করা হয়েছে।


একই অবস্থা সাইন্সল্যাব টু শাহবাগের রাস্তায়ও। তবে এলিফ্যান্ট রোড ও কাঁটাবন এলাকায় মেইন রোডে রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।


তবে বাটা সিগন্যাল এলাকায় শাহদৎ নামের এক আনসার সদস্য দুই রিকশা থামিয়ে যাত্রীদের সাথে কথা বলতে দেখা গেছে। যাত্রীরা এলিফ্যান্ট রোডের দিকে যেতে চাইলে তিনি তাদের সেখানে নামতে অনুরোধ করছেন এবং মেইন রাস্তায় রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি জানাচ্ছেন।


আনসার সদস্যের এমন অনুরোধের পর ওই যাত্রীরা সেখানে মেনে হেঁটে হেঁটে গন্তেব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।



একই অবস্থা কুড়িল-রামপুরা-সায়েদাবাদ রোডেও। সেই এলাকা ঘুরে সাংবাদিক সাব্বির আহমেদ বিবার্তকে বলেন, যেসব গলির মুখে পুলিশ অবস্থান করেছে; সেইসব গলি থেকে রিকশা মেইন রাস্তায় আসছে না। তবে যেসব গলির মুখে পুলিশ সেই সেইসব গলি থেকে রিকশা মেইন রাস্তায় নিয়ে আসছে।


তবে কয়েকজন রিকশাচালক ও যাত্রীর অভিযোগ, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শুধু মাত্র আইওয়াস।


তবে এটা মানতে নারাজ ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) শহিদুল ইসলাম।


তিনি বিবার্তাকে বলেন, এমন উদ্যোগ ঢাকাবাসীর জন্য খুব ভালো। এটা বাস্তাবায়ন হলে যানজট অনেকটা কমে যাবে। নগরবাসীর সেবার জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটা বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।


বিবার্তা/খলিল/উজ্জ্বল/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com