চিড়িয়াখানায় এখনো উপচে পড়া ভিড়
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৮, ২০:৫৯
চিড়িয়াখানায় এখনো উপচে পড়া ভিড়
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

‘পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় ঈদ করেছি। ঈদের ছুটিতে কোথায় যাইনি। ইতোমধ্যে ছুটিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই আজ (শুক্রবার) চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছি।ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সঙ্গে আমার এক আত্মীয় ও বন্ধুকে নিয়ে এসেছি।’


শুক্রবার বিকালে বিবার্তার প্রতিবেদকের কাছে কথাগুলো বলছিলেন সায়েম আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী। ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে এবার লেখাপড়া শেষ করেছেন। বর্তমানে একটি মোবাইল কোম্পানিতে ইন্টার্নি করছেন।


তিনি জানান, আগামীকাল পর্যন্ত তার ঈদের ছুটি। রবিবার থেকে অফিসে যেতে হবে। তবে এবার ঈদে তিনি কোথাও বেড়াতে যাননি। তাই চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গেছেন।


পরিবারের সঙ্গে মিরপুর এলাকায় বসবাস করেন জানিয়ে সায়েমা আক্তার জানান, তার জন্মও হয়েছে মিরপুরে। বেড়ে ওঠাও সেই এলাকায়। তাই ছোট বেলায়ও অনেকবার চিড়িয়াখানা ঘুরেছেন। এছাড়াও বড় হয়েও একাধিকবার সেখানে গেছেন। কখনো পরিবারের সঙ্গে, আবার কখনো বন্ধুদের সঙ্গে। স্কুলে বা কলেজে ছুটি পেলেই সেখানে যান তিনি।



এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে অনেক ধরনের পশুপাখি আছে। সেগুলো দেখলে ভালো লাগে। তার চেয়েও বেশি ভাল লাগে চিড়িয়াখানার ভেতরে ঘোরাঘুরি করতে।


সায়েমা আক্তারের সঙ্গে থাকা সুমাইয়া মাহিন জানান, তিনিও মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। চিড়িখানার পাশের একটি স্কুল থেকে লেখাপড়া করেছেন। বর্তমানে তিনি মিরপুর এলাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী।


তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে অনেক বার চিড়িয়াখানায় ঘুরতে গিয়েছেন। এছাড়াও স্কুল জীবনে অনেকবার ক্লাস ফাঁকি দিয়েও সেখানে গিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। পশুপাখির মিলনমেলায় সময় কাটাতে অনেক ভালো লাগে তার।


শুধু সায়েমা আক্তার বা সুমাইয়া মাহিনই নয়, শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় সারাদিনই তাদের মতো অনেকেই রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরতে এসেছিলেন। এখানে বন্য পশুপাখির বিচিত্র সব কাণ্ড-কারখানা দেখে মজার সময় কাটিয়েছেন তারা। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রচণ্ড ঈড় লক্ষ্য করা গছে।



রাব্বি নামের ১০ বছরের এক শিশু বিবার্তাকে জানান, তার বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি চিড়িখানা ঘুরতে এসেছেন। সেখানে তিনি অনেক প্রাণীই দেখেছেন। তবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও সাপ অনেক ভাল লেগেছে।


কুমিল্লা থেকে আব্দুর রহমান জানান, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে কয়েকজন বন্ধু ঢাকায় ঘুরতে এসেছেন। শুক্রবার সকালে তারা ঢাকায় পৌঁছার পরই মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় গেছেন। পরে ঢাকার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখেছেন।


১৮৬ একর জুড়ে গড়ে ওঠা ওই চিড়িয়াখানায় ১৯১ প্রজাতির ২১৫০টি প্রাণী রয়েছে। আর বছরে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করেছেন প্রায় ৩০ লাখ দর্শনার্থী। তাদের বেশিরভাগই রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় সিংহ, লোনা পানির কুমির, ইমপালা, এমু, টাপির, এশিয়ান কালো ভাল্লুক দেখতে পছন্দ করেন। এমনটাই জানিয়েছেন চিড়িয়াখানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।



তারা জানান, এবারের ঈদের দিন থেকেই চিড়িখানায় দর্শনার্থী অনেক বেশি। ঈদের ছুটি থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেশে দর্শনার্থীরা সেখানে আসেছেন। আরো দুই একদিন এমনভাবে ভীড় থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



এদিকে, ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে চিড়িখানার আশপাশের রেস্টুরেন্টগুলোতেও উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে সেই রেন্টুরেন্টগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন দর্শনার্থীরা। তাই অনেকেই চিড়িয়াখানা থেকে একটু দূরে গিয়ে মিরপুর এক নম্বর মোড়ে বা মিরপুর দুই নম্বর এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে নিজেদের পছন্দ মতো খাবার খেয়েছেন।


বিবার্তা/খলিল/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com