ধনী হতে চেয়ে ''সম্রাট'' হয়েছে আলম
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৫
ধনী হতে চেয়ে ''সম্রাট'' হয়েছে আলম
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

ছোট বেলা থেকে আলমের স্বপ্ন ছিল অনেক টাকাপয়সার মালিক অর্থাৎ ধনী হবার। তবে ভাগ্য তার প্রতি প্রসন্ন হয়নি। সে ধনী হতে পারেনি। তবে তার বদলে সে হয়েছে ''সম্রাট''। রাজ্য নেই, রাজপাট নেই। তাতে কী, সে তো সম্রাটই। হোক না ‘ইয়াবা সম্রাট’।


এ কাহিনী দেশের সর্বদক্ষিণের উপকুলীয় জেলা কক্সবাজারের বাসিন্দা শামসুল আলমের ছেলে মো. আলমের (৪০)।


অনেক দিন থেকে এ ''সম্রাট''কে খুঁজছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে গত বুধবার বিকালে রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকায় তাকে পেয়ে যায় র‌্যাব। এরপর থেকে তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি বেরিয়ে আসে তার ''ইয়াবা সম্রাট'' হয়ে উঠার গল্প।


র‌্যাব জানায়, আলমের লেখাপড়া তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত। লেখাপড়ায় যেমনই হোক, তার খায়েশ ছিল বড় - তার অনেক টাকা চাই। পয়সাওয়ালা হতে সে প্রথমে চিংড়ি মাছের পোনার ব্যবসা শুরু করে। তবে সেই ব্যবসায় তেমন সফলতা আসেনি।


তাতে দমেনি সে। পোনা ব্যবসার পাশাপাশি এবার সে কটেজ ব্যবসা ও জমি ক্রয়-বিক্রয় শুরু করে। এতে কিছুটা সফলতা পেলেও ওতে তার পয়সাওয়ালা হওয়ার ক্ষুধা মেটে না। তবে অল্পকিছু টাকা হাতে আসতেই সে ইয়াবা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। একই সময়ই মিয়ানমারের অনেক মাদক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় হয় তার। আর তাদের হাত ধরে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে আলম।



মাদক কারবার রমরমিয়ে এগিয়ে চলে। আলমের চোখ খুলে যায়। সে বুঝতে পারে, এ ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে ও বড় করতে হলে একটা কভার দরকার। তাই কভার হিসেবে শুরু করে নতুন-পুরাতন গাড়ী ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা। ওই ব্যবসার অন্তরালে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে প্রথমে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার শামীম গেস্ট হাউজে মজুদ করা হয়। পরে সেগুলো কখনো প্রাইভেট কারে, কখনো পিকআপে, বাসে ঢাকায় নিয়ে আসা হতো।


এভাবে চলছিল আলমের ইয়াবা ব্যবসা। দীর্ঘদিন থেকে সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া করে ওই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার-উজ জামান জানান, আলম তার ছোট ভাই ও গাড়িচালককে নিয়ে ইয়াবা ব্যবসার একটি চক্র তৈরী করেছে। আলমকে গ্রেফতারের পর ওই চক্রের আরো তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে জসিম উদ্দিন ওরফে আরমান (২৩), সালাউদ্দিন (২৭) ও মিজানুর রহমান (৩৩)। তাদের মধ্যে জসিম ওরফে আরমান আলমের আপন ছোট ভাই। সালাউদ্দিন গাড়িচালক এবং মিজান তার সহযোগী।


এদিকে, গ্রেফতার হওয়া আলম ও তার চার সহযোগীর ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বুধবার সকালে র‌্যাব-২ এর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ জামান জানান, আটকদের কাছ থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার পিস ইয়াবা, নগদ ৮১ হাজার টাকা, সাতটি সিমসহ মোবাইল, একটি ট্রলি ব্যাগ, তিনটি টালি খাতা, ডায়রী, নোট বুক, একটি ক্যালকুলেটর এবং দুইটি ভিজিটিং কার্ড বক্স উদ্ধার করা হয়েছে।


বিবার্তা/খলিল/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com