নেপাল ট্র্যাজেডি : স্বপ্ন পূরণ হলো না যাদের
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৭:০৮
নেপাল ট্র্যাজেডি : স্বপ্ন পূরণ হলো না যাদের
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন নেপালের ১৩ শিক্ষার্থী। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নিজ দেশ ও স্বজনদের ছেড়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর বছর তারা সিলেটের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করেছেন। স্বপ্ন পূরণের শেষ ধাপ এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষাও শেষ করেছিলেন তারা গত ১০ মার্চ। পরীক্ষা শেষ, এবার তারা নিজ দেশে ছুটি কাটাতে যাবেন। কিন্তু না, দেশে গেলেও যেতে পারলেন না নিজেদের বাড়িতে। উড়োজাহাজের চাকা দেশের মাটি ছুঁল ঠিকই, কিন্তু স্বাভাবিকভাবে নয়। আগুনে পুড়তে-পুড়তে সেটি ছিটকে পড়লো রানওয়ের বাইরে আর তাতেই ওই ১৩ শিক্ষার্থীর ১১জন চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। বাকি দু'জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


এ ১৩ শিক্ষার্থী হচ্ছেন- সঞ্জয় পাউডেল, সানজিয়া মহার্জন, নিগা মহার্জন, আনজিনা শ্রেষ্ঠা, পূর্ণিমা লোহানী, শ্বেতা তাপা, মিলি মহার্জন, সারুনা শ্রেষ্ঠা, আনজিনা বাড়াল, চারু বাড়াল, আসমা শেফায়া, প্রিন্সিধামী ও সামিরা। তাদের মধ্যে প্রিন্সি ধামি, সামিরা বায়জানকার নামের দু' শিক্ষার্থী বেঁচে আছেন। কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।


১১ শিক্ষার্থীকে হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবেদ হোসেন বলেন, ১৩ জনের মধ্যে ১১জন ছাত্রী এবং দু'জন ছাত্র ছিলো। তারা সবাই ১৯ তম ব্যাচের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী। কিছুদিনের মধ্যে তাদের এমবিবিএস সনদ প্রাপ্তির কথা ছিল। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে তারা দেশে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ছুটি কাটাতে যাচ্ছিল।


কলেজের উপ-পরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা শেষে ফল প্রকাশের জন্য দুই মাসের মতো সময় লাগে। সাধারণত ফল বের হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো অ্যাসাইনমেন্ট থাকে না। তাই ওই সময় সবাই বাড়ি চলে যায়।


তিনি আরো জানান, মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার থেকে ক্যাম্পাসে শোক পালন করা হচ্ছে।


এ দুর্ঘটনায় শুধু নেপালের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গ হয়নি, বাংলাদেশে থেকে অনেকেই নেপাল ভ্রমণে যাচ্ছিলেন, তাদেরও হয়েছে। এমনই এক দম্পতি আঁখি মনি জেসি ফারিয়া ও মিনহাজ বিন নাসির। নিহত আঁখির বন্ধু কুশল ইয়াসির জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গায়েহলুদ আর ৩ মার্চ বিয়ে হয় আঁখি ও মিনহাজের। এরপর পরিবারের উদ্যোগে তাদের নেপালে হানিমুনে পাঠানো হচ্ছিল। কিন্তু নেপালের মাটি স্পর্শ করার আগেই তাঁরা চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।


একইভাবে যশোর উপশহরের বাসিন্দা সাবেরুল হকের মেয়ে সানজিদা ও তার স্বামী রফিক তাদের একমাত্র ঢাকার ছেলে অনিরুদ্ধ জামানকে নিয়ে নেপাল বেড়াতে যাচ্ছিলেন ওই ফ্লাইটে। তারাও চলে গেছেন না-ফেরার দেশে।


নেপাল যাচ্ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বৈশাখীর স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল আহমেদ সরদার। দুর্ঘটনার পর ফয়সালের একটি ছবি দিয়ে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন তাঁর সহকর্মীরা। এতে দেখা যায়, তিনি জীবিত আছেন। সহকর্মীরা তাঁর সুস্থতা কামনা করছিলেন। কিন্তু সোমবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে জানান, ৩৬ জন বাংলাদেশির মধ্যে মাত্র ৯ জন জীবিত রয়েছেন, বাকিরা নিহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় আছেন ফয়সালের নাম।


এদিকে এ দুর্ঘটনায় কতজন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য হতাহতদের ৪৬ স্বজনকে নিয়ে নেপাল পৌঁছেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩৭ মিনিটে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করে।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম।


বিবার্তা/খলিল/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com