কৃষিপণ্যে কারসাজি : বাড়ছে সাজা
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৮, ১৯:৩১
কৃষিপণ্যে কারসাজি : বাড়ছে সাজা
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

কৃষিপণ্য সরবরাহে বাধা এবং গুদামে থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলেই ব্যবস্থা নেবে সরকার। এক্ষেত্রে দোষী ব্যক্তির এক বছর কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে চূড়ান্ত করা হয়েছে খসড়া ‘কৃষি বিপণন আইন-২০১৮’। আর কোনো ব্যক্তি একই অপরাধ এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার করলে সাজার পরিমাণ হবে দ্বিগুণ। বর্তমান আইনটিতে এমন অপরাধের জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার টাকা আর কারাদণ্ডাদেশ ছিল ছয় মাস।


বাজার কারসাজি বন্ধে আইনটি যুগোপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত এই আইন আগামী ৬ মার্চ প্রশাসনিক উন্নয়ন সংস্কার সচিব কমিটিতে উত্থাপনের জন্য তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এরপর মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা খসড়া আইনে কৃষিপণ্য বলতে বোঝানো হয়েছে, ধান, চাল, গম, আলু, ভুট্টা, কাউন, চিড়া, যব, পাট, চা, তুলা, তামাক, ডাল, তেল, ভোজ্যতেল, ফল, শাকসবজি, মাংস, মসলা, পেঁয়াজ, আদা, রসুন প্রভৃতি অনেক পণ্যকে।


খসড়া আইনে বলা হয়, ব্যবসায়ী অথবা সরবরাহকারী কৃষি উপকরণ তার গুদাম বা ওয়্যারহাউজ থেকে খুচরা বা ভোক্তার কাছে বিক্রিতে অস্বীকার করলে শাস্তির আওতায় আসবেন। কখনো কোনো এলাকায় কৃষিপণ্যে মজুদ সংকট হলে, সেখানে বিক্রির ক্ষেত্রে অনিচ্ছা দেখালে তাকেও শাস্তি পেতে হবে।


আইনের ছয় নাম্বার অধ্যায়ে বলা হয়েছে, কৃষিপণ্য, কৃষি উপকরণ, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদক, সরবরাহকারী, ডিলার, ব্যবসায়ীকে পণ্যের রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। ক্রয়কৃত মূল্যের উপর মুনাফা করতে হবে। সরকার-নির্ধারিত হারের অধিক মুনাফা নিলে, সংকট সৃষ্টি করলে অথবা পরস্পরের যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে মুনাফা লুটলে শাস্তি পেতে হবে।


কৃষিপণ্য কেনা-বেচার সময় পাইকারী ও খুচরা পর্যায়ের রশিদ সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া সঠিক বাটখারা এবং ইলেকট্রনিক মাপ যন্ত্র থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে খসড়া আইনটিতে। অভিযানের সময় এসব যন্ত্র যাচাইয়ের সময় অসহযোগিতাকারীও শাস্তির আওতায় আসবে। কোনো বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রিতে বাধাদানও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অপরিপক্ক ফল পাকানো, পচন বিলম্বিতকরণ এবং দুগ্ধ, মাংস, ফল, শাকসবজিসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সংরক্ষণ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক বা অন্য কোনো দ্রব্য ব্যবহার করলে তার জন্যও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।


কোনো গুদাম অথবা হিমাগারের মালিক আমানতকারীর কাছ থেকে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলেও অপরাধ হবে। এছাড়া কোনো ব্যবসায়ী লাইসেন্স না নিয়ে কৃষিপণ্য গুদামজাত করলে তিনি শাস্তি পাবেন। কোনো বাজারকারবারি অথবা কৃষি ব্যবসায়ী ব্যবসায়িক কাজ পরিচালনার জন্য একের অধিক লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও প্রয়োজনীয়সংখ্যক লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করলে আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।


প্রস্তাবিত আইনে মোট আটটি অধ্যায়, ৩৩টি ধারা এবং দুটি তফসিল রয়েছে।


খসড়ায় বলা হয়, এই আইনটি প্রণীত হলে কৃষিপণ্যের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা, কৃষি ব্যবসায় উন্নয়ন এবং গতিশীল হবে দেশের কৃষি অর্থনীতি।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com