মহান শিক্ষা দিবস : কী বলছেন শিক্ষাবিদরা?
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:১৫
মহান শিক্ষা দিবস : কী বলছেন শিক্ষাবিদরা?
মহিউদ্দিন রাসেল
প্রিন্ট অ-অ+

১৭ সেপ্টেম্বর ‘মহান শিক্ষা দিবস’। ১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মাঠে নামে এদেশের ছাত্রসমাজ। কিন্তু তাদের দমিয়ে দিতে তৎকালীন স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের নির্দেশে ছাত্রদের উপর অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করে পুলিশ। ফলে এদিন আন্দোলনে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা ও বাবুল নামের তিনজন ছাত্র। এছাড়া আহত হন অসংখ্যজন। পরে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি প্রতিষ্ঠা পায় ‘মহান শিক্ষা দিবস’ হিসেবে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ফিরে এসেছে এই দিবসটি।


দিবসটি ঘিরে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা বলছেন,শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সময়ে বাঙালির যে সংগ্রামমুখর সময় কেটেছে, সেটার প্রতিটি পর্বই আমাদের নবীন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জানানো দরকার। একইসাথে মহান শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে শিক্ষার পরিমাণগত সম্প্রসারণের সাথে এর গুণগত মান বাড়ানো অর্থাৎ কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় জোর দেয়ার কথা বলেছেন তারা।


মহান শিক্ষা দিবস নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিবার্তাকে বলেন, আমি মনে করি, ঔপনিবেশিক আমলে আমাদের উপর ঔপনিবেশিক শাসকেরা যে শিক্ষানীতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, সেটা ছিল আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি -কৃষ্টি থেকে নিশ্চিহ্ন করা অর্থাৎ আমরা যে স্বাধীন বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছি, সেটাকে নানাভাবে কৌশলে দমানোর চেষ্টা করেছিল। সেই কারণে কুখ্যাত শিক্ষানীতি আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর এ বিষয়ে আমরা আন্দোলন -সংগ্রাম করলাম। ছাত্র-ছাত্রীরা জীবন দিল এবং এভাবে আমরা ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে পৌঁছালাম। এগুলো পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক আমলে এক একটি মাইলফলক, যেগুলো ধারাবাহিকভাবে একটার পর আরেকটা আমরা অতিক্রম করে এসেছি।




তিনি বলেন, এদেশের স্বাধীনতা তো রাতারাতি আসেনি। ঔপনিবেশিক আমল থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাতে প্রায় ২৪ বছর সময় লেগেছে। এই দীর্ঘ সময়ে বহু মানুষ বহুভাবে জীবন দিয়ে গেছে। সেই কারণে আমাদের নবীন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে জানানো উচিত। পাকিস্তানি সময়ে বাঙালির যে সংগ্রামমুখর সময় কেটেছে, সেটার প্রতিটি পর্বই ছেলে-মেয়েদের জানানো দরকার। তাহলে তারা স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে।



ঢাবির সাবেক এই উপাচার্য বলেন, শিক্ষা যে মানুষের মৌলিক অধিকার, সেই শিক্ষার নীতির জন্যও মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এই ধরণের সংগ্রামী ইতিহাস পৃথিবীতে খুব বেশি পাওয়া যাবে না। বাঙালি এই ধরণের নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হয়েও পিছু হটেনি।


তিনি বলেন, সেই সময়ে সাক্ষরতার হার অনেক কম ছিল। তখন বাঙালিদের অনেকে নিজে শিক্ষা নিতে পারে নাই অর্থাৎ নিজে নিরক্ষর থাকলেও পরবর্তী প্রজন্ম যাতে উপর্যুক্ত শিক্ষাটা পায়, সেই বিষয়ে তারা সচেতন ছিল। আর এ সচেতনতার কারণেই তারাই রাস্তায় নেমে এসে শিক্ষার জন্য রক্ত দিয়েছে। এভাবে সেই পাকিস্তানিদের কুখ্যাত শিক্ষানীতি বাতিল করা হয়েছে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, শিক্ষা যে একটা অধিকার, সেই অধিকারের পূর্বশর্তগুলো পূরণ করার জন্য প্রত্যেক জাতি বা দেশের একটা শিক্ষা নীতি থাকা দরকার। কিন্তু পাকিস্তান আমলে যে নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছিল, তা মূলত বাঙালিদের কোণঠাসা করতে এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রাখতে করা হয়েছিল ৷ ফলে এ নিয়ে সমালোচনা এবং এক পর্যায়ে আন্দোলন শুরু হয়। কাজেই এ দিবসের মাধ্যমে শিক্ষা বর্তমানে কেমন আছে এবং ভবিষ্যতে কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে সভা -সেমিনার, আলোচনা এগুলো হচ্ছে শিক্ষা দিবসের মূল পরিবর্তন।



তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল সমস্যা যেটা, সেটা হচ্ছে- আমরা বলছি-শিক্ষার হার বাড়ছে, অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বাড়ছে, শিক্ষার সম্প্রসারণও হয়েছে। কিন্তু মানগত যে পরিবর্তনের দরকার ছিল, সেটা আমরা এখনো করতে পারি নাই। কাজেই এটার জন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে। আমাদের কর্মমুখী শিক্ষা, জীবনমুখী শিক্ষা অর্থাৎ শিক্ষার সাথে কর্মের যে যোগসূত্র থাকা দরকার সেটা নাই। যারা উচ্চ শিক্ষিত তাদেরও অনেকে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। আমরা এতো চেষ্টা করেও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত শিক্ষার যে বরাদ্দ অর্থাৎ জিডিপির ৬ শতাংশ এবং বাজেটের ২০ শতাংশ দিতে পারি নাই। বাংলাদেশের এই বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশের উপরে উঠে নাই এবং একইসাথে বাজেটের ১২ শতাংশের আশেপাশে উঠানামা করতেছে। এছাড়া শিক্ষিত অনুপাতে শিক্ষা খাতের বরাদ্দের মিল নেই। দেখা গেছে, ১৬২ টা দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ১৫৫ তম। আমরা জিডিপি বরাদ্দে আমাদের আশেপাশের দেশগুলো যেমন- আফগানিস্তান,নেপাল, ভূটানের চেয়েও পিছিয়ে আছি। পাকিস্তানের মতো দেশেও যেখানে বরাদ্দ ২.৫ শতাংশ অথচ আমাদের দেশে তা ১.৯ কিংবা ২ এর আশেপাশে রয়েছে।


জবির সাবেক এই উপাচার্য বলেন, শিক্ষাখাতে যদি আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে না পারি, ভালো সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করতে না পারি, ভালো শিক্ষক তৈরি করতে না পারি এবং শিক্ষক -শিক্ষার্থী অনুপাত যদি ঠিক করতে না পারি তাহলে আমাদের শিক্ষা আগাবে না।


তিনি বলেন,আমরা অনেক উন্নয়ন করেছি। প্রচুর স্কুল -কলেজ স্থাপন করেছি। একইসাথে এটাও সত্য যে, এখনো অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসার বেঞ্চ নাই, বসার ঘর ভাঙা, খেলার মাঠ না থাকাসহ নানা সমস্যা বিরাজমান। অর্থাৎ এসব জায়গায় আমরা স্কুলকে আকর্ষণীয় করতে যা দরকার, তা দিতে পারি নাই। এদিকে করোনার কারণেও একটা গ্যাপ তৈরি হয়েছে। অভাবের তাড়নায় অনেকে স্কুল ছেড়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়েছে। তারা আবার শিক্ষায় ব্যাক করতে অনেকক্ষেত্রে পারছেও না অর্থাৎ দারিদ্র্যতা এখনো এদেশে শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে। এখনো অনেক জায়গা আছে, যেখানের বাচ্চারা পেট ভরে খেয়ে স্কুলে আসবে, সেটা পারে না। এটা নিয়ে এখন অবশ্যই পরিকল্পনা চলছে। ১০০ উপজেলায় দুপুর বেলায় বাচ্চাদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজেই আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে বাচ্চাদের এক বেলা পেট ভরে খেতে দিলে শিক্ষার্থী ড্রপ আউট হওয়া কমে যাবে। একইসাথে উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের মানগত গভীরতা বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার মান খুবই অপ্রতুল। সুযোগ- সুবিধাও তেমন নাই। সেই বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দিতে হবে।


ড. মীজানুর রহমান বলেন,বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান বিতরণ না। কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্য হলো- কলেজ শুধু জ্ঞান বিতরণ করে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আহরণ ও বিতরণ করে। তবে এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ও কিছুটা পিছিয়ে আছে। বাজেট কম দেয়া, সুযোগ সুবিধা না থাকাসহ নানা কারণ এর পেছনে দায়ী। কাজেই সামনের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের বিজ্ঞান নির্ভর শিক্ষায় জোর দিতে হবে।


তিনি বলেন,কাজেই শিক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য হোক, শিক্ষার পরিমাণগত সম্প্রসারণের সাথে এর গুণগত মান বাড়ানো অর্থাৎ কারিগরি ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় জোর দেয়া।



মহান শিক্ষা দিবসের ইতিহাস জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ বিবার্তাকে বলেন, পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের মাত্র দুই মাসের মধ্যে ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর তৎকালীন শিক্ষা সচিব ও আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এসএম শরীফকে চেয়ারম্যান করে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছয় জন ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে চারজন সদস্য নিয়ে শিক্ষা কমিশন গঠন করেন যেটা 'শরীফ কমিশন' নামে পরিচিত। ওই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬শে আগস্ট একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট প্রেসিডেন্টকে প্রদান করেন এবং সেটি ১৯৬২ সালে মুদ্রিত আকারে প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।


তিনি বলেন, শরীফ কমিশন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর মূল উদ্দেশ্য ও স্বার্থকে সমন্বিত রেখে একটি অসম গণবিরোধী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে। তথাকথিত সেই শিক্ষানীতির সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল- উচ্চ শিক্ষা শুধু উচ্চবিত্ত শ্রেণীর জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যে রূপান্তর করা। নিম্ন আয় থেকে সাধারণ মানুষের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত করা। অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে অবাস্তব কল্পনা বলে উল্লেখ করা। উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করা। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ডিগ্রী পর্যন্ত ইংরেজি পাঠ বাধ্যতামূলক করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ইত্যাদি।



তিনি আরো বলেন, ১৯৬২ সালেই আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেওয়া শোষণ ও স্বার্থ বিরোধী শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ আইয়ুব খানের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন চলতে থাকে এবং সেটি সাধারণ জনগণের সমর্থনে ব্যাপকভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছড়িয়ে পড়ে। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ওই দিন সকাল দশটায় হাজার হাজার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবেশে উপস্থিত হন এবং সমাবেশ শেষে মিছিল বের করা হয়।



অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ বলেন, সেদিন জগন্নাথ কলেজে গুলি হয়েছে এমন গুজব শুনে মিছিলটি হাইকোর্টের সামনে দিয়ে আব্দুল গনি রোডে প্রবেশ করলে পিছন থেকে পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। ফলে তাৎক্ষণিক ভাবে শহীদ হন গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। বহু ছাত্র-ছাত্রী হতাহত হন, আহত ওয়াজিউল্লাহ পরের দিন মৃত্যুবরণ করেন। গ্রেফতার করা হয় ৫৯ জনকে। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র ও জনগণের মধ্যে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে চেতনার উন্মেষ আরো পরিস্ফুটিত হয়। সেই থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকে মহান শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন‌গুলো।



এই শিক্ষাবিদ বলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে তাঁরই কন্যার নেতৃত্বে আমাদের বৈষম্যহীন উচ্চশিক্ষা, বিনামূল্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বই বিতরণ, বৃত্তি প্রদান, অবৈতনিক শিক্ষাসহ প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে চলেছে। তবুও ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের দিনগুলির মধ্যে এই ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি আমরা বিশেষভাবে স্মরণে রাখবো।


বিবার্তা/রাসেল/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com