তিন মাসেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষণ মামলার আসামি রিয়াদ
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ২০:০৭
তিন মাসেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষণ মামলার আসামি রিয়াদ
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

রিজওয়ানুল ইসলাম ওরফে রিয়াদ (৩৩)। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, চাকরি করতেন রাজধানীর বনানীর বেসরকারি একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে। তিনি ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ে না করেই আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় ওই নারী রিয়াদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। কিন্তু মামলা দায়ের তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি তাকে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তাকে গ্রেফতার করতে একাধিক জায়গায় অভিযানও চালানো হয়েছে।


মামলা সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলার পূর্ব কুখাপাড়ার নতুন জেলখানা রোডে। তার বাবার নাম মো. শফিকুল ইসলাম। রিয়াদ বনানীর একটি সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি করতেন। এছাড়া থাকতেন মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটির ৪ নম্বর সড়কের ১৯৭ নম্বর বাড়িতে।


ভুক্তভোগী ওই নারীর দায়ের করা মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে রিয়াদের সঙ্গে ওই নারীর ফেইসবুকে পরিচয় হয়। তারপর প্রেমের প্রস্তাব দেন রিয়াদ। ওই নারী তখন বলেন, প্রেম নয়, বিয়ের ব্যাপারে তিনি চিন্তাভাবনা করছেন। এরই মধ্যে ওই নারী গত ফেব্রুয়ারিতে টিউমারের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। সেখান থেকে ফেরার পর রিয়াদ তার সুস্থতার জন্য অনেক যত্ন নেয়। ভালো আচরণের মাধ্যমে ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন রিয়াদ। এর কিছুদিন পর তারা দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গত ৫ মে রিয়াদ তার ছোট ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে ৪ লাখ টাকা ধার চেয়ে বসেন। ৭ মে ওই নারী তার একটি ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে রিয়াদকে আড়াই লাখ টাকা দেন। সেই টাকা নিয়ে বাড়ি যাওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন রিয়াদ। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে দুর্ব্যবহার শুরু করেন তিনি। কিছুদিন পর আরেক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পেরে মামলার বাদী নারী রিয়াদের বন্ধুদের মাধ্যমে তার খোঁজ করার চেষ্টা করেন।


একপর্যায়ে গত ২৬ মে রাতে রিয়াদ এই নারীর বাসায় যান। তার আচরণের জন্য ক্ষমা চান। সবকিছু ঠিকঠাক করে অল্পদিনের মধ্যেই বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সেই রাতে তার বাসায় থাকতে চান। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাকে ধর্ষণ করে কাউকে কিছু না বলার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যান রিয়াদ। পরদিন পাওনা টাকার জন্য মোহাম্মদপুরের বাসায় গেলে বাসার দারোয়ান দিয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীকে তাড়িয়ে দেন রিয়াদ।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রিজওয়ানুল ইসলাম ওরফে রিয়াদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাবা মো. শফিকুল ইসলামেকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরবর্তীতে তার ভাই ফাহাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কোনো কথা বলেননি।এরপর রিয়াদের আরেক ভাই নিসাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। এ সময় সাংবাদিক পরিচয় দিতেই কথা বলতে অপ্ররগতা প্রকাশ করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, যে অভিযোগ করেছে; ওই নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছে। উনার (ভুক্তভোগি) সম্পর্কে আগে খুঁজ নেন। তারপর আমাদের ফোন দেন।


এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই সুমিত আহমেদ বিবার্তাকে বলেন, মামলাটির তদন্ত তদারকিতে সিনিয়র কর্মকর্তা রয়েছেন। এখনো আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।


বিবার্তা/খলিল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com