কে এই ঘাতক মাজেদ?
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০৯:২৩
কে এই ঘাতক মাজেদ?
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টা ১ মিনিটের সময় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।


ঘাতক ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাটামারা গ্রামের মরহুম আলী মিয়া চৌধুরীর ছেলে। তিনি ৪ কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের জনক।


১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যা করেছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দীর্ঘ ৩৮ বছর বিচারের অপেক্ষার পর একে একে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল ফারুক রহমান, মেজর বজলুল হুদা, মেজর একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ আর্টিলারি, মহিউদ্দিন ল্যান্সার ও সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খানকে। সর্বশেষ শনিবার রাতে তাদের আরেক সহযোগি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।


ঘাতক আবদুল মাজেদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ড শেষে তিনি অন্য সেনা সদস্যদের সাথে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ক্যু করা অফিসারদের সাথে বঙ্গভবনে দেশত্যাগ করার পূর্ব পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।


তিনি হত্যাকাণ্ড অংশগ্রহণকারী অফিসারদের সাথে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের আদেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তিনি ক্যু করা অফিসারদের সাথে প্রায় ৩ মাস থাকেন। সে সময়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্যু করা অফিসারদের হত্যাকান্ডের পুরস্কার স্বরূপ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে বৈদেশিক বদলি প্রদান করা হয়, তারই অংশ হিসেবে ক্যাপ্টেন মাজেদকে সেনেগাল দূতাবাসে বদলির আদেশ দেন।


পরে ১৯৮০ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান সরকার ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যোগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। পরে তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।


এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে ডাইরেক্টর ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং ওই পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর অব হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন। এছাড়া জেলে জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন এই ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। জেলহত্যা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।


১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্য শুরু করলে তিনি গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে আত্মগোপন করেন। তিনি ২৩ বছর ধরে পলাতক থাকলেও গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।


পরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সিটিটিসি। এসময় মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। গত ৮ এপ্রিল মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনানোর পর সব দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান আবদুল মাজেদ। প্রাণভিক্ষার আবেদনটি নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।


তারপর শনিবার রাতে বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে মো. আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ ১০ জন জল্লাদের একটি দল তৈরি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটের সময় তারা ঘাতক আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করেন।


এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষের ডাকে আবদুল মাজেদের স্বজনরা কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। এসময় স্বজনদের সাথে শেষ স্বাক্ষাৎ করেন তিনি।


বিবার্তা/খলিল/জহির

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com