রাতের আধাঁরে রাস্তায় ঘুরে অসহায় মানুষের হাতে খাবার দিচ্ছেন তিনি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২০, ১৬:১০
রাতের আধাঁরে রাস্তায় ঘুরে অসহায় মানুষের হাতে খাবার দিচ্ছেন তিনি
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারিতে সারা বিশ্ব জিম্মি হয়ে পড়েছে। আর ওই ভাইরাস বাংলাদেশেও আঘাত এনেছে। তাই সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ জন্য রাজধানী ঢাকা এখন ফাঁকা হয়ে গেছে। ফাঁকা ঢাকায় অসহায় দিনমজুররা বেকার হয়ে পড়েছেন। ঠিকমত খাবার পাচ্ছেন না তারা। তবে না খাওয়া ওইসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। এর মধ্যে অন্যতম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য তানভীর হাসান সৈকত।



তিনি গত ছয়দিন ধরে নিরলসভাবে শ্রমজীবী অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার বিরতরণ করেই যাচ্ছেন। প্রথমে ৫০ জনকে খাবার দিলে গতকাল শনিবার রাতে তিনি ৫০০ জনের কাছে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এখন থেকে প্রতিদিন রাতে ৫০০ মানুষের কাছ খাবার পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও দিনে আরো একশত মানুষের কাছে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তার এই উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন।



জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়। এরপর থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা উপজেলায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধির জন্য কাজ শুরু করেন তানভীর হাসান সৈকত। এরপর সরকারের পক্ষ থেকে ছুটি ঘোষণার পর রাজধানীর বাসিন্দারা অনেকেই বাড়ি চলে যান। আর যারাও ঢাকায় অবস্থান করেছেন তারা অতি জরুরি কাজ ছাড়া বাসা থেকে বের হচ্ছে না। এছাড়াও অনেক অসহায় মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় পাশে রাত্রী যাপন করছেন। দোকান পাঠ ও কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় তাদের ঠিকমত খাবার খেতেও পারছিলেন না তারা। তবে তাদের খাবার দেয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।



তারপর থেকে গত এক সপ্তাহ ধর তিনি অসহায় মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন। সৈকত কেন্দীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য। ডাকসুর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।


জানা যায়, প্রতিদিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নিজ হাতে রান্না করেন তিনি। পরে ওই খাবার রাজধানীর ভাসমান রিকশা চালক, দিনমজুরের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। শুধু খাবার নয়, চাল, ডাল, পেঁয়াজও বিতরণ করছেন তিনি।



তানভীর হাসান সৈকত বিবার্তাকে বলেন, দেশের এ ক্রান্তিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমি কর্তব্য মনে করছি। কেউ যদি এটিকে শো-অফ মনে করে করুক। দেশের এই সময় শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি।


তিনি বলেন, দয়াকরে শো-অফের জন্য হলেও মানুষের পাশে দাঁড়ান, তা নাহলে এই মানুষগুলো না খেয়ে মারা যাবে। এদের জীবনেরও মূল্য আছে।



খাদ্য সহযোগিতার যোগান নিয়ে সৈকত বলেন, আমার বন্ধুরা, দুই একটি সংগঠন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফরাসহ অনেকেই আমাকে এ কাজে সহযোগিতা করছে। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।


সৈকত আরো বলেন, এমন দুর্দিন যতদিন থাকবে এবং মানুষের সহযোগিতা পাবো ততদিন মানুষের পাশে থাকতে চাই।



তিনি বলেন, প্রথমে ৫০ জনের কাছে খাবার পৌঁছে দেই। পরে ১০০ জন। সর্বশেষ গতকাল রাত থেকে ৫০০ জন অসহায় ছিন্নমূল মানুষের মাঝে রাতে খাবার পৌঁছে দেই। এখন থেকে প্রতি রাতে ৫০০ জন অসহায় মানুষের কাছে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়াও দিনে আরো ১০০ জন মানুষের হাতে চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য দেয়া হয়।



তিনি বলেন, শহরের কিছু শ্রমজীবী ছিন্নমূল অসহায় মানুষের খেয়ে ঘুমাচ্ছে দেখে আমি শান্তি পাই। এ কার্যক্রম প্রতিদিন চলবে। তবে এতে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তাকে সুযোগ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/খলিল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com