করোনা: ঢামেকে বাড়তি সর্তকতা
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২০, ১৮:১৭
করোনা: ঢামেকে বাড়তি সর্তকতা
খলিলুর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়তি সর্তকর্তা নিয়েছে|ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে বৈঠক করেছে। ওই বৈঠক থেকে কলেজ ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা ও করোনা সন্দেহে রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে আলোচনা করা হয়|বুধবার (১৮ মার্চ) বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্যই জানিয়েছেন|


জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সন্দেহে কয়েকজন রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন|এরপর আতঙ্কে অনেক রোগী হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন|আর করোনাভাইরাস সন্দেহে আসা রোগীরা চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সরকারের বরাদ্দ করা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান|তবে ওই সব রোগীদের যারা চিকিৎসা দিয়েছিলেন এরকম চারজন চিকিৎসককে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে|


এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের সাথে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন এক জরুরি বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ দেড় ঘন্টা বৈঠকে করোনাভাইরাস নিয়ে আলোচনা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাঠদান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠক শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, সর্দি, কাশি নিয়ে প্রচুর রোগী প্রতিদিন আসছেন। এদের মধ্যে ৩ থেকে ৪ জন রোগীর বক্তব্য শোনার পর তাদের ঢামেকের বাইরে সরকারের বরাদ্দ করা হাসপাতলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখানে ওই রোগীদের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। তবে তাদের যেসব চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়েছেন এমন চারজন চিকিৎসককে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। তাদের মধ্যে দুইজন মেডিসিনের আর অপর দুইজন নেফ্রোলজিস্ট।


তিনি বলেন, এই চিকিৎসকদের কেউই আক্রান্ত নন। যেহেতু তারা ১০ জন রোগীকে অ্যাটেইন করেছিলেন, তাদের মধ্যে চার জনের রক্তে পজিটিভ এসেছিল। ফলে আমরা এই চিকিৎসকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছি।


তিনি আরো বলেন, যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশে চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা দেবে এ রকম শপথ নিয়ে চিকিৎসা পেশায় এসেছি আমরা। আগে চিকিৎসকদের প্রোটেকশনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কারণ তারা যদি অসুস্থ হয়ে যায়, তা হলে চিকিৎসা দেবে কারা। আমাদের আলোচনার মধ্যে একটি বিষয় উঠে এসেছে সেটা হলো, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি নিযে কোনো রোগীর হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই। বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাদের|


এদিকে, জরুরি বৈঠকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাঠদানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজে যারা ছাত্র এমবিবিএস করছে, তাদের জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত কলেজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কলেজের সব অফিস খোলা থাকবে। তবে যারা চিকিৎসায় নিয়োজিত তাদের জন্য খোলা।


আমাদের ঢামেক প্রতিনিধি বুলবুল চৌধুরী। তিনি প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাসপাতালেই দায়িত্ব পালন করেন। বুধবার বিকেলে তিনি জানান, গত কয়েকদিন থেকে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এছাড়াও যারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন; তাদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/খলিল/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com