করোনা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত মিটফোর্ড হাসপাতাল?
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২০, ১৭:০০
করোনা মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত মিটফোর্ড হাসপাতাল?
আদনান সৌখিন
প্রিন্ট অ-অ+

করোনাভাইরাসআতঙ্কে কাপছে সারা পৃথিবী, বাংলাদেশেও ৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করার পরে এদেশেও করোনা ভীতি ছড়িয়ে পরেছে দ্রুত।যদিও সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে বলা হচ্ছে ভীতি গুজব বা আতঙ্ক না ছড়িয়ে বরং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিলেই কমানো যাবে করোনা আক্রান্তের ভয়াবহতা।ইতমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয়ের নির্দেশনায় দেশের বেশ কিছু হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে শুধু করোনা রোগী ভর্তি ও তার বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য।তবে রাজধানী ঢাকায় কম বেশি প্রায় সকল হাসপাতালেই করোনা মোকাবিলায় নেয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।



সম্প্রতি রাজধানীর পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল ) সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায় কি ধরনের বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে করোনা মোকাবেলায়।


আক্রান্ত রোগীদের কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা ও আইসোলেশনের জন্য আলাদা এস এস এম সি মিটফোর্ড এর ১১ তলা (ভবন-১) কেবিন ব্লকের ১১ তলার একটি অংশ ধোয়া মোছা করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।বেলা ১১ টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও করোনা ওয়ার্ড এর তালা খোলার বা সেখানে কর্তব্যরত কাউকে পাওয়া যায়নি।


জানতে চাইলে সিনিয়র ওয়ার্ড মাস্টার হাবিবুর রহমান বিবার্তাকে বলেন, আমি আসলে করোনার ওয়ার্ড এর দায়িত্বপ্রাপ্ত না।তবে করোনার জন্য আমাদের পরিচালক মহোদয় সহ আরো ছয় জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও ২০ জন নার্স, ওয়ার্ডবয় এর সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।শুরুতে আমরা অল্প সংখ্যক রোগীর জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড রেডি করেছি, যদি দরকার হয় তবে আমরা এর ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারব।


সরেজমিনে দেখা যায়, ১১ তলার করোনা ওয়ার্ডে যেতে মাত্র ১টি লিফট আছে, যা আবার রোগী বা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।এমতো অবস্থায় করোনা আক্রান্ত রোগী কতটা আইসোলেশন পাবে বা আক্রান্তদের থেকে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ থাকবে সে প্রশ্ন ছিল মিটফোর্ড হাসপাতালের সহকারী পরিচালক অধ্যাপক শামসুল ইসলামের কাছে।



তিনি বিবার্তাকে বলেন, আসলে করোনা নিয়ে আমরা যতটা শঙ্কিত, পরিস্থিতি কিন্তু আসলে ততটা ভয়াবহ নয়।১১ তলায় ওঠার জন্য আমাদের সিঁড়ি, লিফট সবই আছে।যদি কোনো রোগী পাই, তবে একটি লিফট সম্পূর্ণ ডেডিকেটেডই থাকবে করোনা রোগীর জন্য। প্রাথমিক ভাবে আমরা ২০টি বেড করেছি করোনা মোকাবেলার জন্য, তবে আমাদের সক্ষমতা আছে ১১তলা পুরোটাই নিয়ে কাজ করার।তখন সেখানে আমরা ১০০ থেকে ১৫০ রোগীর দেখভাল করতে পারব।তবে আমার মনে হয় আমাদের দেশের অবস্থা ততটা করুনের দিকে যাবে না, গেলেও আমাদের প্রস্তুতি নেয়া আছে।


সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্শেদ রশীদ বিবার্তাকে জানান, করোনা নিয়ে আমরা সচেতন আছি, কিন্তু উদ্বিগ্ন নই।আমাদের ছয় জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইতমধ্যে করোনা চিকিৎসা নিয়ে ট্রেনিং করে এসেছেন।আরো সাত জন কে প্রশিক্ষণ দেয়ার কথা চলছে।স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই আরো ১৫ দিন আগেই আমরা ১১ তলায় ওয়ার্ড রেডি করেছি আইসোলেশনের জন্য। আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত সেসব ওয়ার্ড পরিষ্কার করছে।যদিও এখনো কোনো রোগী পাইনি আমরা, তাই সেই ওয়ার্ড আপাতত তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।রোগী আশার সাথে সাথেই আমরা চিকিৎসা শুরু করে দিতে পারব।



করোনা নির্ণয় ও তার চিকিৎসা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু এটি সম্পূর্ণ একটি নতুন ভাইরাস আক্রমন, তাই সারা পৃথিবীর মত আমরাও কিছুটা ধোয়াশায় আছি।তবে যেহেতু জ্বর কাশি, শ্বাসকষ্ট করোনার প্রধান লক্ষণ, তাই আমরা বয়স্ক বা দীর্ঘদিন জ্বরে আক্রান্ত কোনো রোগী পেলে কিছুদিন নিবির পর্যবেক্ষণে রাখার চেষ্টা করছি, যদি দেখি রোগীর অবস্থা উন্নতি হচ্ছে না, তবে আমরা করোনা টেস্ট করার জন্য পদক্ষেপ নিব।তবে এটির উন্নত চিকিৎসা যেহেতু এখনো নিশ্চিত হয়নি, তাই রোগীকে আইসোলেশনে রেখেই আমরা চিকিৎসা দিব।তবে সবই নির্ভর করে, আমরা আদৌ কোনো করোনা রোগী পাব কিনা!


বিবার্তা/আদনান/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com