ব্যবহারকারীর যেসব তথ্য সংরক্ষণ করছে পাঠাও
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৪১
ব্যবহারকারীর যেসব তথ্য সংরক্ষণ করছে পাঠাও
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

মোবাইল ফোনে থাকা ম্যাসেজ, নম্বরসহ অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য গ্রাহকদের অজান্তেই নিয়ে নিচ্ছে দেশীয় রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও। শুধু নিয়ে যাওয়া নয়, নিজস্ব সার্ভারে সেগুলো সংরক্ষণও করছে বলে অভিয়োগ উঠেছে।


পাঠাও অ্যাপস ডাউনলোড করার পরেই মোবাইল ফোন থেকে পাঠাওয়ের কাছে চলে যাচ্ছে সব মেসেজ, ফোন নম্বর, ইন্সটল করা অ্যাপস সংক্রান্ত তথ্য। একই সঙ্গে চলে যাচ্ছে মোবাইলের হার্ডওয়ার সংক্রান্ত তথ্যও। এসব তথ্য যোগ হচ্ছে পাঠাওয়ের রিমোট সার্ভারে।


ফিরোজ নামে পাঠাও ব্যবহারকারি জানান, হ্যাকার যদি পাঠাওয়ের ডেটাবেজ হ্যাক করে পাবলিক করে দেয় বা আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করে তখন অনেক সমষ্যা তৈরি হবে।


ইসমাইল নামে পাঠাও ব্যবহারকারী জানান, আমাদের তথ্য অবৈধভাবে নিয়ে পাঠাওয়ের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। যদি ডাটাবেজ কোনভাবে হ্যাক হয় এর দায় ভার পাঠাওকে নিতে হবে।


ইনফরমেশন সিকিউরিটি রিসার্চ বিষয় নিয়ে কাজ করা সিলেটের ছেলে আসিক ইশতিয়াক ইমন সম্প্রতি এমন তথ্যই জানিয়েছেন। সম্প্রতি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সে একটি ভিডিও আপলোড দিয়েছে। ভিডিওটিতে ইমন দেখিয়েছেন কিভাবে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য চলে যাচ্ছে পাঠাওয়ের হাতে।


মোবাইলের যে সকল তথ্য সংরক্ষণ করছে পাঠাও


# ফোন নাম্বার
# ব্যাংকিং ট্রান্সজেকশান
# কাছের মানুষের সাথে এসএমএস
# ফোনের ব্যালেন্স
# বিকাশ তথ্য
# মাসের স্যালারি
# ইন্সটল করা অ্যাপস সংক্রান্ত তথ্য
# মোবাইলের হার্ডওয়ার সংক্রান্ত তথ্য।


ধারণা করা হচ্ছে, স্মার্টফোনের ইন্সটল করা অ্যাপস সংক্রান্ত তথ্য রাখাতে গ্রাহকের ব্যক্তিগত ছবি ভিডিওসহ গোপন তথ্য রয়েছে পাঠাও এর কাছে ।


অ্যাপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে পাঠাও। ফলে পাঠাওয়ের সার্ভারে হ্যাকাররা হানা দিলে বেহাত হয়ে যেতে পারে পাঠাও গ্রাহকদের গোপনীয় তথ্য। এসব তথ্য কোনোভাবে হ্যাকারদের কাছে চলে গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।


তারা আরও জানান, পাঠাওয়ের কাছে সব ম্যাসেজ সংরক্ষণ থাকায় তারা একজন ব্যবহারকারীর গোপন বার্তা সম্পর্কে জানতে পারছে। একই সঙ্গে যেসব মাধ্যমে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের (ওটিপি) প্রয়োজন হয় সেসবও তাদের কাছে চলে যাচ্ছে।


পাঠাও কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে। তবে পাঠাও কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতেই মেসেজ ও নম্বর সংরক্ষণ করে থাকে পাঠাও।


পাঠাওয়ের প্রাইভেসি পলিসিতে পাঠাও কী কী তথ্য সংরক্ষণ করে এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখা রয়েছে। সেখানে ব্যবহারকারীর নম্বর সংরক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও মোবাইল ফোনে থাকা অন্যান্য তথ্যসহ নম্বর সংরক্ষণের বিষয়ে কিছু লেখা নেই।


পাঠাওয়ের ঘোষিত পলিসি অনুযায়ী, তারা তাদের কাছে ব্যবহারকারীদের সংরক্ষিত তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করতে পারবে। ব্যবহারকারীদের এসব তথ্য পর্যালোচনার কাজে ব্যবহার করতে পারবে পাঠাও।


চলতি বছরের ৮ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে। আইনের কোথাও ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ নামে কোনো বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। একই সঙ্গে আইনে মোবাইল ফোনের নম্বর বা মেসেজ সংরক্ষণ বা এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে কোনো কিছু লেখা নেই।


তবে ‘ব্যক্তি’ শব্দটির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি, অংশীদারি কারবার, ফার্ম বা অন্য কোনো সংস্থা, ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে উহার নিয়ন্ত্রণকারী এবং আইনের মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো সত্তা বা কৃত্রিম আইনগত সত্তাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।


আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আইনগত কর্তৃত্ব ব্যতিরেখে অপর কোনো ব্যক্তির পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, দখল, সরবরাহ বা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।


‘পরিচিতি তথ্য’ শব্দটির অর্থ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো বাহ্যিক, জৈবিক বা শারীরিক তথ্য বা অন্য কোনো তথ্য যাহা এককভাবে বা যৌথভাবে একজন ব্যক্তি বা সিস্টেমকে শনাক্ত করে, যাহার নাম, ছবি, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, মাতার নাম, পিতার নাম, স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর, ফিঙ্গার প্রিন্ট, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ই-টিআইএন নম্বর, ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল স্বাক্ষর, ব্যবহারকারীর নাম, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নম্বর, ভয়েজ প্রিন্ট, রেটিনা ইমেজ, আইরেস ইমেজ, ডিএনএ প্রোফাইল, নিরাপত্তামূলক প্রশ্ন বা অন্য কোনো পরিচিতি যাহা প্রযুক্তির উৎকর্ষতার জন্য সহজলভ্য।


আইনে কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া এই পরিচিতি তথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার করলে আর্থিক ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।


বিবার্তা/উজ্জ্বল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com