কোথায় আজ ল্যান্ড ফোন?
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৮:১২
কোথায় আজ ল্যান্ড ফোন?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন আসার আগে টিঅ্যান্ডটির ল্যান্ড টেলিফোনের ওপরই নির্ভর করতে হতো। সেই টেলিফোন ছিল যেন সোনার হরিণ। সাধারণ মানুষ একটি টেলিফোন সংযোগের জন্য আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সংযোগ পেতেন না। ভাগ্যবান যারা সেটা পেতেন, তাদেরও গুনতে হতো সরকারি মাশুলের বাইরেও মোটা অঙ্কের ঘুষ।


পেছন ফিরে দেখা


এ উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ল্যান্ড ফোনের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগ। ১৯৭৬ সালে এ বিভাগটিকে একটি কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তরের পর, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বিভাগকে পুনর্গঠন করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড (বিটিটিবি)। এরপর তারা দেশব্যাপী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান শুরু করে। ২০০১ সালে টেলিযোগাযোগ আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) নামে আলাদা একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে টেলিযোগাযোগ খাতের নীতি নির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ২০০৮ সালে বিটিটিবিকে লিমিটেড কম্পানিতে পরিণত করে এর নতুন নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। এ সময় বেসরকারি খাতেও ল্যান্ড ফোনের সেবা বিস্তৃত করা হয়৷ পাবলিক সুইচড টেলিফোন নেটওয়ার্ক (পিএসটিএন) নামের এক ধরনের ফোন কম্পানির সংখ্যা বিটিসিএলসহ মোট আটটি। বিটিসিএল-এর শতভাগ শেয়ার রাষ্ট্রের।


এগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ব বিটিসিএল-এর গ্রাহকসংখ্যা সারাদেশে মাত্র সাড়ে ছয় লাখ, অন্যদের গ্রাহক তেমন নেই - সব মিলিয়ে দেড় লাখের মতো হবে। এছাড়া বিটিসিএল-এর ল্যান্ড ফোনের জন্য নাগরিকদের অতীতের সেই আগ্রহও আর নেই। এখন চাইলেই ল্যান্ড ফোনের কানেকশন পাওয়া যায়, বিলও অনেক কম। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল, ন্যাশনওয়াইড ডায়ালিং, সারাদেশে একই কলরেট - তারপরও সাধারণ মানুষ এর প্রতি আর আগের মতো আগ্রহী নয়।


বিটিসিএল-এর বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন মাসুদ অবশ্য দাবি করেন, ‘‘সারা বিশ্বেই ল্যান্ড ফোনের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ কমছে, মোবাইল ফোনের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কারণ, এটি সহজে বহনযোগ্য।'' তিনি বলেন, তারপরও আমরা নানাভাবে ল্যান্ড ফোনের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছি। এখন আমাদেরও ল্যান্ড ফোন টু ল্যান্ড ফোন কলরেট প্রতি মিনিট ৩০ পয়সা। রাতের বেলা আরো কম, ১০ পয়সা। বিদেশের কলরেটও আগের চেয়ে কম। আমরা এখন টেলিফোনের পাশাপাশি ডাটা সার্ভিসও দেই।''


ল্যান্ড ফোনের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘‘এখন আর অভিযোগ নেই। এখন ঢাকায় ২১শ' টাকায় ল্যান্ড ফোন সংযোগ নেয়া যায়। উপজেলা পর্যায়ে মাত্র ৫০০ টাকা লাগে। আমাদের সার্ভিসও এখন নিরবচ্ছিন্ন।''


২০১০ সালের মে মাসের হিসেবে বিটিসিএল-এর গ্রাহক ছিল ৮ লাখ ৭২ হাজার। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ছয় লাখে। মোবাইল ফোনের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ, তাতে এই গ্রাহক সংখ্যা আরো কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের শহর এলাকায় একসময় কয়েনবক্সের মাধ্যমে এবং পরে কার্ডফোন চালু করা হয়েছিল। গ্রামাঞ্চলে টেলিকম সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ল্যান্ড লাইনে বেতারভিত্তিক পাবলিক কল অফিস স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সবই হারিয়ে গেছে মোবাইল ফোন বিপ্লবের জোয়ারে। সূত্র : ডিডাব্লিউ


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com