‘৭০ ভাগ করোনা রোগী ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়েছেন’
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০৪
‘৭০ ভাগ করোনা রোগী ডিজিটাল পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিয়েছেন’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে যে পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে, সেগুলো দারুণভাবে সফল হয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ ভাগ করোনা রোগী ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমেই চিকিৎসা নিয়েছেন।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশের জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল বিবার্তা২৪ডটনেট আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। ‘বিবার্তা সংলাপ’ শিরোনামের ওই ভার্চুয়াল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন গৌরব’ ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন। এ সময় অতিথিরা দেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।


মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে করোনা বিস্তার আমেরিকার পর্যায়ে হবে না। আমাদের যে লাইফ স্টাইল সেই লাইফ স্টাইলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু ভিন্ন মাত্রায়। করোনা রোগটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পরাস্ত করে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি রয়েছে।


তিনি বলেন, আমাদের জন্য করোনা সত্যি সত্যি একটা চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার ছিল। একটা পর্যায়ে যখন লকডাউনে চলে যাওয়া হয়, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাস্তা-ঘাট, যানবাহনসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় একটা মাত্র রাস্তা খোলা ছিলো, সেটি হচ্ছে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি। এ সময় একটা ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।


মন্ত্রী আরো বলেন, ২০০৮ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন অনেকেই অনেক কিছু মন্তব্য করেছিলেন। তবে করোনাকালটা তাদের মন্তব্যের সঠিক জবাব দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।


ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিসের সাথে যারা যুক্ত আছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, করোনাকালে তারা দিনে-রাতে পরিশ্রম করেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা পুরো ব্যবস্থাকে সচল রেখেছে এবং কোনো পরিস্থিতেই ভেঙে পড়ার মতো অবস্থাতে যায়নি। সেই জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।


ডিজিটাল পরিবর্তনের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে আমার অফিসের শতকরা ৯৫ ভাগ ফাইল পেতাম কাগজের এবং সেই কাগজের মধ্যেই সই করতে হতো। কিন্তু আজকে করোনাকালের মধ্যে পেন্ডিং কোনো ফাইল নেই। সব ফাইলই ডিজিটাল মাধ্যমে সাইন আপ করেছি। এটা এক সময় কিছু কিছু অফিসে ছিল। কিন্তু এখন এটা উপজেলা পর্যায়ে চলে গেছে। এমনকি ভলিউম বেড়ে যাওয়ার কারণে সার্ভারটা আগারগাঁও থেকে স্থানান্তর করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।


জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস আছে। গত ছয় মাস করোনার প্রাদুর্ভাব চলছে। তবে যখন যেখানে মূল ভ্যাকসিনটি আবিষ্কার হবে। সরকারের উচিৎ সেখান থেকেই ভ্যাকসিনটি নিয়ে আসা। আর সেটা নিয়ে আসার জন্য সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি রয়েছে কি না সেটা দেখার বিষয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেখানেই ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে সেখান থেকেই আমরা ভ্যাকসিন আনার জন্য তৈরি আছি এবং সে ক্ষেত্রে যে বাজেট দরকার সেটাও তৈরি আছে। এছাড়া যে কয়টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই সব প্রতিষ্ঠানের সাথেও যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হয়েছে। আবেদন করা হয়েছে। যে পর্যায়ে যোগাযোগ করলে এটা সহজে বাংলাদেশ পেতে পারে সেই রকম যোগাযোগ আছে। তবে যেখানে উৎপাদন হবে সেখান থেকে কোন দেশ কত পাবে সেটা নিয়েও একটা রাজনীতি রয়েছে।


তিনি বলেন, কার্যকর ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ার কারণে একেক দেশে একেক রকম ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেটির বিভিন্ন রকম ফলও পাওয়া যাচ্ছে। তবে সব কিছু যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা দরকার।


সাইফুল আলম আরো বলেন, করোনার জন্য বিশ্বের কোনো দেশই প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিকল্পনা মাফিক সবাই প্রস্তুতি নিয়ে করোনা মোকাবেলা করেছে।


এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪ জন শনাক্ত হয়েছে। তবে হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি করোনা রোগী রয়েছে। এছাড়াও ব্যাপক আকারে করোনা পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি।


ভ্যাকসিন রাজনীতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এমরান কবীর চৌধুরী বলেন, এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটা বৈশ্বিক একটি সমস্যা। আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের মত দেশেও এ বিষয়ে হিমশিম খাচ্ছে। কাজেই এটা এতো সহজ বিষয় নয়। এছাড়াও কোনো ভাইরাস বের হওয়ার আগে আজ পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি। এটা আবিষ্কার করা অনেক কঠিন। এটা আবিষ্কারের একটা নিয়ম আছে। নিয়ম অনুযায়ী তা আবিষ্কার হবে। কিন্তু এটা মিডিয়ার সামনে এক এক জন এক এক ভাবে নিয়ে আসছে। এভাবে মিডিয়ার সামনে নিয়ে আসলে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হবে।


করোনাভাইরাস শনাক্তের ব্যাপারে করা আরেক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, করোনাভাইরাস যে পদ্ধতিতে নির্ণয় হয় সেই পদ্ধতি অনেক ব্যয় বহুল। এছাড়াও আমাদের দেশে এটার জন্য কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। তারপরও যে টেস্ট যেগুলো হচ্ছে; সেগুলো অনেক বেশি হচ্ছে। তবে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্ব ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় নাই বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/খলিল/জাই

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com