বিটিআরসিকে এক হাজার কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন
প্রকাশ : ২০ মে ২০২০, ২১:৫৫
বিটিআরসিকে এক হাজার কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আদালতের নির্দেশে অডিট আপত্তির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আরো ১ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছে বেসরকারি মোবাইল ফোন সেবা প্রদানকারী কোম্পানি গ্রামীণফোন।


মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান জহুরুল হকের হাতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডারের চেক তুলে দেয়।


এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসিতে ১ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে গ্রামীণফোন বিটিআরসির দাবির ২ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছে।


গ্রামীণফোনের ১ হাজার কোটি টাকা জমা উপলক্ষে অনলাইনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে বিটিআরসি। বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা ওই ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্ত ছিলেন।



বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ‘আগামী ৩১ মে’র মধ্যে বিটিআরসিতে গ্রামীণফোনের এই টাকা জমা দেওয়ার কথা ছিল। তারা তার আগেই টাকা জমা দিয়েছে। এজন্য গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ। করোনাভাইরাসের সময়ে এই অর্থ জমা দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের খুব উপকার হবে। গ্রমীণফোনের ন্যায্যতার যে পাওনা তারা তা পাবে। তার বিপরীতে তাদের কাছে আামাদের যে পাওনা তাও তারা পরিশোধ করবে।’


গ্রামীণফোনের পক্ষে বিটিআরসিকে এক সময় চাঁদাবাদ বলে অভিযোগ করা হয়েছিল, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা আইনের মাধ্যমে টাকা নিচ্ছি। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তারা টাকা জমা দিচ্ছে। চাঁদাবাজি না আইনগতভাবে টাকা নিচ্ছি তা তো প্রমাণিতই।’


একই প্রশ্নের উত্তরে গ্রামীণফোনের সিইও বলেন, ‘বারবার প্রশ্ন করে, শব্দটি ছুড়ে দিয়ে, ওই শব্দটি মুখ থেকে বের করিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ডিফারেন্ট কোশ্চেন করে এই বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল।’


অডিট আপত্তির বাকি অর্থ আদায়ে গ্রামীণফোনের সঙ্গে আলোচানায় বসা হবে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসি চেয়্যারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা উভয়পক্ষ বসবো। হিসাব করে দেখবো কম-বেশি হয় কি না। যদি উপযুক্ত প্রমাণ কেউ দেখাতে পারে সেটা মেনে নেবো। এটা অর্থ বিভাগ দেখছে। আমরা বসে আলোচনা করবো। হিসাবে গড়মিল থাকলে তা মেনে নেবো।’


পুনারায় অডিট হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আর রি-অডিট হবে না। গ্রামীণফোন বলছে টাকা কম বেশি হতে পারে। সেটা যাচাই করে দেখা হবে। তবে নতুন করে কোন অডিট হবে না।’


গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, ‘পে-অর্ডারের চেক আমরা হস্তান্তর করেছি। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দিতে পেরেছি এজন্য আমরা খুশি। আমরা বিটিআরসি থেকে সব রকমের সহযোগিতা পাচ্ছি। এসময় সবার একসঙ্গে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। করোনা ভাইরাসের মহামারির সময়ে প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রামীণফোন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছে।


তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন হাসপাতালে পিপিই দিয়েছি। ‘ডাকছে আমার দেশ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। কাস্টমারদের কাছ থেকে অনুরোধ ছিল কিছুটা সুবিধা দেওয়ার। আমরা করোনাকালীন গ্রাহকদের সেই সুবিধা দিয়েছি। করোনার সময় সাধারণ মানুষের পাশে আমরা এগিয়ে এসেছি। এতে আমরা প্রশংসিত, অন্যরাও এভাবে এগিয়ে আসবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’ তিনি বলেন, ‘ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে হবে। ভালো কাজগুলোকে তুলে ধরতে হবে। এই মুহূর্তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভয়েস কল ও ইন্টারনেটে আমরা যে সুযোগ দিয়েছি সেটাতে সবার উৎসাহিত হওয়া উচিৎ। এর ফলে প্রতিযোগিতা বিনষ্ট হবে না, আমাদের এটা আরও বেশি করে করা উচিৎ।’


উল্লেখ্য, বকেয়া রাজস্বসহ প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা রয়েছে বলে দাবি করে আসছে বিটিআরসি। এ টাকা আদায়ে কয়েক দফা চেষ্টার পর গ্রামীণফোনের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বিটিআরসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয় গ্রামীণফোন। আর আদালতের নির্দেশেই দুই কিস্তিতে ২ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছে গ্রামীণফোন।


বিবার্তা/গমেজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com