ইসলামে দেশপ্রেমের বিধান
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৩:০৫
ইসলামে দেশপ্রেমের বিধান
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা... আমরা তোমাদের ভুলব না। হ্যাঁ, আমরা ভুলিনি তোমাদের। বছর ঘুরে ফিরে এলো মহান স্বাধীনতা দিবস। বিজয় আনন্দে উচ্ছ্বাসিত লাল সবুজের এ মাটি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয়েছিল আমাদের এই দেশ, বাংলাদেশ। দেশের প্রতি মায়া-মামতা ও ভালবাসা থেকে লাল সবুজের পতাকা হাতে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন লাখো বাঙ্গালি। শহীদ হয়েছিল লাখো মায়ের সন্তান। দেশের প্রতি এমন ভালবাসায় উদ্বুদ্ধ করে ইসলাম।


ইসলামে দেশপ্রেমের গুরুত্বও অত্যাধিক। প্রবাদ আছে, ‘হুব্বুল ওয়াতানে মিনাল ঈমান’ দেশকে ভালবাসা ইমানের অঙ্গ। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ বলে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। নিজ দেশ অর্থাৎ স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা চিরন্তন, শাশ্বত সত্য বলে ইসলামে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


দেশপ্রেম, রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা হচ্ছে ইমানদারের বৈশিষ্ট্য।


আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের ন্যায়পরায়ণ শাসকের আদেশ মেনে চল (সূরা নিসা : ৫৯)। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, দেশ রক্ষার্থে একদিন এক রাতের প্রহরা-ক্রমাগত এক মাসের নফল রোজা এবং সারারাত ধরে ইবাদতে কাটিয়ে দেয়ার চেয়ে উত্তম (মুসলিম শরিফ)। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, যে চোখ দেশের সীমান্ত রক্ষায় বিনিদ্র থাকে সে চোখকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না। মা-মাটি, মাতৃভাষা, দেশপ্রেম এত ইসলামের সুর।


আল্লাহর রাসূল নিজে স্বদেশকে ভালবেসে আমাদের জন্য নমুনা উপস্থাপন করে গেছেন। রাসূল সা. তার দেশ মক্কাকে অন্তর দিয়ে ভালবাসতেন, মক্কার জনগণকে ভালবাসতেন। তাদের হেদায়াতের জন্য তিনি কঠোর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। কোনোদিন মক্কাবাসীর অকল্যাণ পর্যন্ত কামনা করেননি। তায়েফে এত নির্যাতন করল তারপরও কোনো বদদোয়া করেননি।


মহানবী সা. সাহাবিদের কাফিরদের অত্যাচারে আবিসিনিয়ায় হিজরতের অনুমতি দিলেও তিনি মক্কায় নির্যাতন সহ্য করে অবস্থান করলেন।


পরিশেষে কাফিরদের কঠিন ষড়যন্ত্রের কারণে এবং আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে তিনি যখন মদিনায় হিজরত করেন, তখন মক্কার দিকে বারবার ফিরে তাকান। আর কাতর কণ্ঠে বলেন, ও আমার দেশ, তুমি কত সুন্দর! আমি তোমাকে ভালবাসি। আমার আপন জাতি যদি ষড়যন্ত্র না করত, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।


আমরা আমাদের বিজয় এবং দেশপ্রেমকে যদি ইসলামের আলোকে দেখি তাহেলে আমরা দেখব এসবই আমাদের জাতির গৌরবের, আনন্দের, অহঙ্কারের, আত্মমর্যাদার। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে হাজার বছরের বাঙালি জাতির স্বাধীন কোনো রাষ্ট্র ছিল না। হাজার বছরের বাঙালি জাতির আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল বাঙালি জাতির নিজস্ব আবাসভূমি।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com