শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু মঙ্গলবার
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৫:৪৫
শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু মঙ্গলবার
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা মঙ্গলবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। শনিবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের এ উৎসব। এর আগে আজ সোমবার সায়ংকালে দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কল্পারম্ভ এবং বিকেল ৪টায় বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন ষষ্ঠী পূজা সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে সকল মণ্ডপ। বুধবার মহাসপ্তমী, বৃহস্পতিবার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা, শুক্রবার মহানবমী বিহিত পূজা এবং শনিবার বিজয়া দশমী ও দর্পণ বিসর্জন।

 

রামকৃষ্ণ মঠের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ জানান, সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবীর আগমন নৌকায় চড়ে এবং বিদায় নেবেন ঘোড়ায় চড়ে।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

এদিকে, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে দেশ এক ভয়াবহ অমানবিক সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় দুর্গাপূজায় উৎসবের খরচ বাঁচিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। এ সিদ্ধান্তের কথা দেশের পূজা কমিটিগুলোকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান পরিষদ নেতৃবৃন্দ।

 

দুর্গা শব্দের অর্থ হলো আবদ্ধ স্থান। যা কিছু দুঃখ-কষ্ট মানুষকে আবদ্ধ করে যেমন- বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা, যন্ত্রণা থেকে তিনি ভক্তকে রক্ষা করেন। শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন। দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।  

 

উমা থেকে পার্বতী। পার্বতী থেকে দুর্গা। এই নামেই তিনি বেশি পরিচিত। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে আছে, তিনি গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা ও পর্বতের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তাই তিনি পার্বতী। পরের অধ্যায়ে তিনি হয়ে ওঠেন দানব দলনী দশভুজা। আর তখনই তার নাম হয় দুর্গা।  

 

দুর্গাপূজার সঠিক সময় বসন্তকাল। কিন্তু বিপাকে পড়ে রামচন্দ্র, রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি বসন্তকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে শরতেই দেবীকে অসময়ে জাগ্রত করে পূজা করেন। সেই থেকে অকাল বোধন হওয়া সত্যেও শরৎকালে দুর্গাপূজা প্রচলিত হয়।

 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল জানান, সারাদেশে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩০ হাজার ৭৭টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৩৯৫টি। এবার অতিরিক্ত ৬৮২টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় এবার পূজা হচ্ছে ২৩১টি মণ্ডপে, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২৯। এ বছর দুটি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি পূজা হচ্ছে চট্টগ্রামে, ১,৭৬৭টি। এরপর দিনাজপুরে ১,২৪২টি। গোপালগঞ্জে পূজা হচ্ছে ১,১৭৫টি।

 

এদিকে, রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

 

এর আগে মহালয়ায়ার একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গত বছরের মতো এবারও সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে।

 

এর আগে, পূজা উদযাপন পরিষদের এক সভায় প্রত্যেক জেলা কমিটি ও মহানগর কমিটিকে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়।  

 

নির্দেশনায় প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেস্টনি নির্মাণ, পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষের আগমন এবং নির্গমন পথ পৃথক, পরিচয় কার্ডধারী নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা তদারকি বা পাহারার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়।  

 

এছাড়া, কোনোরকম আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরতি থাকা এবং ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন এবং ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেয়া হয়।  

 

ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মণ্ডপে পূজার পাশাপাশি অঞ্জলি মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং সন্ধ্যায় ভোগ আরতির আয়োজন করা হয়েছে।

 

রাজধানীতে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপ, রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম, গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, গুলশান বনানী সার্বজনীন পূজা পরিষদ মণ্ডপ, বাসাবো বালুর মাঠ, শাখারী বাজারের পানিটোলা মন্দিরসহ অন্যান্য মণ্ডপে দুর্গোৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

 

দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।  

 

বিবার্তা/নিশি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com