জুমআর দিনের সুন্নত আমলসমূহ
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:০১
জুমআর দিনের সুন্নত আমলসমূহ
ধর্ম ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

জুমাবার একটি মর্যাদাপূর্ণ দিন। এই দিনের মর্যাদার প্রমাণ বহন করে এমন অনেক হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। জুমআর দিনের সুন্নত ও আদবগুলোর মধ্যে রয়েছে জুমআর নামায পড়া, সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা, বেশি বেশি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ পড়া এবং দোয়ায় নিমগ্ন থাকা।


হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করল, আগে আগে মসজিদে গমন করল, পায়ে হেঁটে মসজিদে গেল, ইমামের কাছাকাছি বসল, মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল, কোনো কথা বলল না, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতি কদমে এক বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব দান করবেন। -মুসনাদে আহমাদ : ৫৮১


জুমআর দিনের সেরা আমল নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে জুমার ফরজ নামাজ আদায়ে আগে আগে মসজিদে চলে আসা। মসজিদে প্রবেশ করে কাউকে অতিক্রম না করে নামাজ পড়ে খুতবা শোনার অপেক্ষায় বসে বসে থাকা। কারো সঙ্গে কথা না বলে চুপচাপ জিকির-আজকার করা। ইমামের খুতবা দেওয়া শুরু করলে তা মনেোযোগের সঙ্গে শোনা।


জুমআর দিনের সুন্নাতি আমলের দিকনির্দেশনা


প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমআর নামাজ পড়া ছাড়াও বিশেষ কিছু সুন্নাতি আমলের কথা একাধিক হাদিসের বর্ণনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তাহলো-


১. দোয়া করা


হজরত আবু লুবাবা ইবনু আবদুল মুনজির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমআর দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর কাছে কোরবানির দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে বেশি সম্মানিত।


আল্লাহ তাআলা এ দিনে আদমকে (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি করেন। এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান আর এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে; যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে তখন তিনি তাকে তা দান করেন; যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে। আর এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। (এ কারণে) নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতারা, আসমান-জমিন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমার দিন শংকিত হয়।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহামদ, মিশকাত)


২. দরূদ পাঠ


হজরত শাদ্দাদ ইবনু আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমআর দিন। এ দিন আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দুরূদ পাঠ করো। তোমাদের দুরূদ অবশ্যই আমার কাছে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কীভাবে আমাদের দুরূদ আপনার কাছে পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সঙ্গে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, ‘আল্লাহ নবিদের দেহ মাটির জন্য খাওয়া হারাম করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমাহ, আবু দাউদ, মিশকাত)


৩. ইমামের পাশে বসে খুতবাহ শোনা


হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে জুমআর নামাজে এসে ইমামের কাছাকাছি হয়ে বসলো এবং নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ শুনলো, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের এবং আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। আর যে ব্যক্তি কংকর স্পর্শ করলো, সে অনর্থক কাজ করলো।’ (ইবনে মাজাহ, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)


হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি না কবীরা গুনাহ করা হয়।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ, তারগিব)


৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া


হজরত আওস ইবনু আওস আস-সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন (স্ত্রী সহবাসজনিত) গোসল করলো এবং নিজে গোসল করলো এবং সকাল সকাল যানবাহন ছাড়া পায়ে হেঁটে মসজিদে গিয়ে ইমামের কাছাকাছি বসলো, মনোযোগ সহকারে প্রথম থেকে খুতবাহ শুনলো এবং অনর্থক কিছু করলো না, তার জন্য প্রতি কদমে এক বছরের রোজা রাখা ও রাত জেগে নামাজ পড়ার সমান সাওয়াব রয়েছে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com