দুঃসময় থেকে পরিত্রাণের আমল ও দোয়া
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২২, ১৩:৩০
দুঃসময় থেকে পরিত্রাণের আমল ও দোয়া
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি রয়েছে।’ (সুরা ইনশিরাহ, আয়াত : ০৬)। দুঃসময়ে ধৈর্যধারণও এক ধরনের নেক আমল। দুর্দিনে মহানবী (সা.) ও সাহাবায়ে কিরাম ধৈর্যসহকারে আল্লাহর সাহায্য চাইতেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের দুর্দিনে ধৈর্যধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা তা করতে পারে, মহান আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন।


ইরশাদ হয়েছে, ‘ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফেরাবে; বরং ভালো কাজ হলো যে ঈমান আনে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, এতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্য ধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় এবং যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭৭) অনেক ক্ষেত্রেই দোয়ার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।


অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যও করতে হবে দোয়া। নবীজি (সা.) দুর্ভিক্ষ থেকে মুক্তি পেতে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেছিলেন। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, নবীজি (সা.)-এর যুগে (অতিবৃষ্টির কারণে) মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হলে একদিন জুমার দিন রাসুল (সা.) মিম্বারে উপবিষ্ট হয়ে লোকদের সামনে জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এক বেদুইন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, ধন-সম্পদ বরবাদ হয়ে গেল, সন্তান-সন্ততি ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ছে। ...রাসুল (সা.) বলেছেন, হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে, আমাদের ওপর নয়। এরপর রাসুল (সা.) হাত দিয়ে যেদিকেই ইশারা করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে সেদিকেই ফরসা হয়ে গেছে। এমনকি আমি মদিনাকে আয়নার মতো পরিষ্কার দেখতে পেলাম। এদিকে ‘কানাত’ নামক প্রান্তরে এক মাস ধরে পানির ধারা বয়ে গেল। যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউই এসেছে সে-ই অতিবৃষ্টির সংবাদ দিয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৬৪)


দুঃসময়ে পরিত্রাণ পেতে নবীজি (সা.) জীবনাচারে সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। জাবালা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদিনায় কিছুসংখ্যক ইরাকি লোকের সঙ্গে ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবনে জুবায়ের (রা.) আমাদের খেজুর খেতে দিতেন। ইবনে উমর (রা.) আমাদের কাছ দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া একসঙ্গে দুটো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ২৪৫৫)


বিবার্তা/এসবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com