উর্বর নেতৃত্বই হবে ডাকসু জয়ের হাতিয়ার
প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৭
উর্বর নেতৃত্বই হবে ডাকসু জয়ের হাতিয়ার
সামসুল আরেফিন সেজান
প্রিন্ট অ-অ+

২৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবি ডাকসু নির্বাচনের বাজনা বেজে উঠেছে। সকল জল্পনা-কল্পনা শেষে আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট খ্যাত ডাকসু নির্বাচন। স্বাভাবিকভাবেই, এ নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা আর আনন্দ বিরাজ করছে ঢাবির ৩৬ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে। এ নিয়ে নিজেদের মত কাজ শুরু করে দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলো।


শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্র সংগঠনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কেমন, এটা বিচার করার একটি যথাপোযুক্ত প্লাটফর্ম হলো ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষার্থীদের কাছে যারা যত বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব এবং ক্যাম্পাসবান্ধব তারাই এগিয়ে থাকবে ডাকসুতে। প্রতিটি শিক্ষার্থী তার ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে ছাত্রসংগঠনকে বিচার করবেন প্রতিটি সংগঠনের নেতৃত্ব, কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অবস্থার মানদণ্ডে।


নেতৃত্বের বিচারে যারা তরুণ, মেধাবী, শিক্ষানুরাগী, জ্ঞানচর্চায় উৎসাহী, শিক্ষার্থীপ্রিয়, সাহায্যকারী, মানবিক কার্যক্রমে লিপ্ত, ক্যাম্পাসে যাদের সার্বক্ষণিক অবস্থান, বাগ্মিতাসম্পন্ন, যারা সম্মোহনী ক্ষমতা রাখে তারাই এগিয়ে থাকবেন। ছাত্র সংগঠনকে বিচারের মানদণ্ড হিসেবে আরও বিবেচিত হবে প্রতিটি সংগঠনের কার্যক্রম তথা কর্মসূচি সমূহ। ছাত্র সংগঠনগুলোর মাঝে যারা দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচিতে যত বেশি লিপ্ত, ভোটের ময়দানে তারাই এগিয়ে থাকবে।


ক্যাম্পাসের নানা সমস্যা, প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সোচ্চার থাকা এবং নবীনদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি প্রদান, হলে হলে যাদের নিজেদের সরব অবস্থান, যারা তাদের কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে, ইত্যাদি কার্যক্রমই নিশ্চিত করবে তাদের অবস্থান। প্রতিটি সংগঠনের নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থাও হবে তাদেরকে বিচার বিশ্লেষণের মানদণ্ড। যে সংগঠন যতটা আন্তঃকোন্দলমুক্ত, তারুণ্যনির্ভর এবং ক্যাম্পাসে সক্রিয় তাদেরকেই এগিয়ে রাখবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


অন্যদিকে, যে সব ছাত্রসংগঠন নেতৃত্বে ও কার্যক্রমে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে, ক্যাম্পাসে যাদের অবস্থান নেই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যারা পরিচিত নয়, তারা পিছিয়ে থাকবে ডাকসুতে।


একদা ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক আন্দ্রে মারলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘‘আমি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ছাত্রের সংখ্যা বর্তমানে জীবিত ছাত্রের সংখ্যার দ্বিগুণ’’। কাজেই ইতিহাসের জীবন্ত এই বিদ্যাপীঠে ডাকসু নির্বাচনে যথাযোগ্য নেতাদের নির্বাচিত করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সুউচ্চ জ্ঞানচর্চা, গবেষণা কার্যক্রম আর বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে; এমনটাই প্রত্যাশা।


লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি


বিবার্তা/কামরুল/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com