অতন্দ্র প্রহরীর মত জেগে থাকুক ছাত্রলীগ
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৩
অতন্দ্র প্রহরীর মত জেগে থাকুক ছাত্রলীগ
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

পশ্চাৎপদ জাতিকে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যেতে যে সংগঠনের জন্ম, সেটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ‌‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে ছাত্রলীগের জন্ম। দেশের এক ক্রান্তিকালে মানুষকে রাজনীতি সচেতন করে নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।


বলা যায়, ছাত্রলীগের জন্মই হয়েছে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের জন্য। দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হওয়ার পরপরই বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনা শুরু হয়। বাংলা ভাষায় কথা বলার অধিকারটুকুও কেড়ে নিতে ব্যর্থ চেষ্টা চালায় শাসকগোষ্ঠী। বঙ্গবন্ধু অনুভব করেছিলেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে ছাত্রদের আন্দোলন এবং সমর্থন সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



তৎকালীন সময়ে নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ নামে ছাত্রসংগঠন থাকলেও তারা ছাত্রদের অধিকার নিয়ে তেমন কাজ করতো না। বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ সংগঠনের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত হন নঈমুদ্দিন আহমেদ। ১৯৫৩ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিলে সংগঠনের পরিচিতি দাঁড়ায় ‘পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ’ নামে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর এই সংগঠনটি ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ নামে নবযাত্রা করে।


শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছাত্রলীগ মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন যখন তুঙ্গে বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি। বন্দি অবস্থায় রাজনীতির মাঠে থাকতে না পারলেও ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে রাষ্ট্রভাষার দাবি আদায়ের দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত জানার পর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ও নিজের মুক্তির দাবিতে শেখ মুজিব কারা অভ্যন্তরে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকেই অনশন পালন করতে শুরু করেন। টানা ১৩ দিনের অনশন পালনের পর ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়।


আর এভাবেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নেয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলা আদায়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ৬দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব খানের পতনের আন্দোলনে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ফলে বলা যায়, ছাত্রলীগের উত্থান হয়েছিল মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে।



১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে ছাত্রলীগ গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, এক ভোটারের দরজা থেকে অপর ভোটারের দরজায় ঘুরে আওয়ামী লীগকে জয়ী করে আনে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রলীগের ১৭ হাজার নেতাকর্মী শহীদ হন। ‌‌‘আন্দোলন’ ও ‘সংগ্রাম’ এই শব্দযুগল ছাত্রলীগের নামের সঙ্গে মিশে আছে।


স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ছাত্রলীগের আন্দোলন সংগ্রামের দিনগুলোর মধ্যে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন অন্যতম। চিরযৌবনা ছাত্রলীগের অবদান মিশে আছে এদেশের প্রতিটি পথে প্রান্তরে। দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে ছাত্রলীগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ যেন একটি একান্নবর্তী পরিবার। বর্তমানে এই পরিবারের সকলে দিনরাত বিনাস্বার্থে পরিশ্রম করে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।


ছাত্রলীগ সেই সংগঠন যেই সংগঠনে একদল কর্মী রণক্লান্ত হয়ে গেলে আরেকদল কর্মী এসে হাজির হয়। কাজেই সততা ও নিষ্ঠা থাকলে ছাত্রলীগকে দমিয়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নেই। চলার পথের ভুলত্রুটি শুধরে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেশের মানুষের পাশে অতন্দ্র প্রহরীর মত জেগে থাকুক ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মী। মেধা মনন ও বিশ্বাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে ছাত্রলীগ সকল ইতিবাচকতার ব্রান্ড এম্বাসেডর হবে জন্মদিনে এমনটাই প্রত্যাশা।


লেখক: আশিকুর রহমান লাভলু ,আইন বিষয়ক সম্পাদক, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/লাভলু/জহির

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com