বিএনপির হিংসার আগুনে বাংলাদেশ না পুড়ুক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২০:২৪
বিএনপির হিংসার আগুনে বাংলাদেশ না পুড়ুক
খন্দকার হাবীব আহসান
প্রিন্ট অ-অ+

দীর্ঘদিন ধরে জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দলের শীর্ষনেতা খালেদা জিয়া-তারেক রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের লাগামহীন দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ জাতির কাছে অতিস্বচ্ছ। ২০০৮ সালের পর থেকে মানুষ বিএনপির ক্ষমতার নিষ্পেষণ থেকে মুক্তি পেলেও মুক্তি পায়নি তাদের সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিদের হাত থেকে।


২০০৯ সালে প্রধান বিরোধী দল হয়ে পরবর্তীতে ২০১৪ সালের পর জাতীয় রাজনৈতিক বলয় থেকে ছিটকে পড়া এই রাজনৈতিক দলটি জনগণের কোনো চাহিদার দাবি জানিয়ে নয়; বরং নিজেদের দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদের কালো মুখোশ আড়াল করে সাধারণ মানুষের ওপর আগুন সন্ত্রাসসহ হিংস্র কর্মকাণ্ড চালিয়ে প্রকাশ্য মিথ্যাচারের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে।


চলতি দশকে একদিকে চলেছে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতির আলোকবর্তিকা, অন্যদিকে চলেছে বিএনপির কুচক্রান্তের ফলাফল হিসাবে জঙ্গিহামলাসহ আগুন সন্ত্রাস।


বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী মনোভাব, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্নীতির প্রমাণ জাতির সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দলটি সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট গঠন করলেও তেমনটা ঘুরে দাড়াতে পারছে না। রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন অনেক রাজনৈতিক দলই হারিয়ে গেছে সময়ের বিবর্তনে। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসমুদ্রের মাঝে আসছে নির্বাচনী হওয়ায় পড়ে বিএনপি এখন দিশেহারা।


একদিকে বিএনপির এই করুণ অবস্থা, অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উন্নত বাংলাদেশের পথে দুর্বার হেটে যাওয়ায় বিএনপির নেতাকর্মীদের হৃদয়ে ক্রোধ-হিংসার আগুন জ্বলছে। নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়ে জনগণের তেমন দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি দলটি।


তারেক রহমান দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বিদেশ পলাতক। খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাগারে থাকায় জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কোনো সুযোগ খুঁজে পাচ্ছে না বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সব চক্রান্তের কোনো নকাশাই শেখ হাসিনার চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি। সবমিলিয়ে নির্বাচনী রাজনৈতিক মাঠে বিএনপি নেতৃত্বশূন্য এবং সাংগঠনিকভাবে বিশৃঙ্খল। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা এই রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীরা মনোনয়ন ফরম কিনে তাদের জাতীয় রাজনৈতিক পথচলা আবার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ২০১৪ সালে ফিরে গিয়েছে।


বর্তমানে সিদ্ধান্তহীন থাকায় তারা তাদের সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্ত হিসাবে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার লোভ থেকে আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে মানুষ পুড়িয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করার স্মৃতির ক্যালেন্ডার থেকেই আবার শুরু করেছে আগুন সন্ত্রাস। ২০১৪ সালের পর যেখান থেকে তারা জাতীয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছিলো সেখান থেকেই আবার শুরু করতে চাচ্ছে। হিংসার আগুনে পোড়াতে চাচ্ছে নিরীহ মানুষ, যানবাহন, ঘরবাড়ি, আসতে চাচ্ছে আলোচনায়। কিন্তু সময় অনেক বদলেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেত্রী। সেই বাংলাদেশ এখন স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশের মানুষ এখন আর্থসামাজিকভাবে আগ্রগতির পথে। স্বপ্ন এখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসমৃদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া।


বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের পথে দুর্বার এগিয়ে যাওয়া সম্ভাবনাময় দেশ। যেখানে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, আগুন সন্ত্রাসের বিশৃঙ্খলা মানুষ দেখতে চায় না। স্বাধীনতার পর অনেক বছর পেরিয়েছি, এখন আর হিংস্রতার দিন নেই। পরাধীনতার জীবন নেই। এখন সমৃদ্ধির জীবন।


বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে অনুরোধ- নিজেদের হিংসার আগুনে আর একটিও রাষ্ট্রীয় সম্পদ পোড়াবেন না। মানুষের গায়ে আগুন দেবেন না। আপনাদের হিংসা হলেও বোঝা উচিত আওয়ামী লীগের এই আর্জন ভয় দেখানোর ফসল নয়। ভালবাসার ফসল। ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে আসুন সবাই এগিয়ে যাই। আপনাদের হিংসার আগুনে বাংলাদেশ না পুড়ুক, বরং পুড়িয়ে ফেলুন স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক, সন্ত্রাসবাদী যত স্বপ্ন।


লেখক : সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, ঢাবি ছাত্রলীগ


বিবার্তা/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com