কেমন হবে ডাকসু জয়ের লড়াই
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৬
কেমন হবে ডাকসু জয়ের লড়াই
শামসুল আরেফিন সেজান
প্রিন্ট অ-অ+

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯২২ সাল হতে ডাকসুর যাত্রা শুরু। এরপর কালে কালে জাতির প্রয়োজনের মুহূর্তে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে এই ডাকসু। সর্বশেষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সফলতাও এসেছিল ডাকসুর হাত ধরে।


কিন্তু তার পর থেকে দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে ডাকসুর কার্যক্রম। স্বাধীনতার পর যেখানে ৪৪ বার ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল, হয়েছে মাত্র ৬ বার। সর্বশেষ যখন ১৯৯০ সালে যখন ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের তখন জন্মও হয়নি।


এতদিন পর যখন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সব মহলে সরব আলোচনা চলছে তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জাগতে পারে, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রসংগঠনগুলোর মাঝে কারা এগিয়ে থাকবে।


প্রথমেই বলতে হয়, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র প্রতিনিধিগণ নির্বাচিত হবেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটের মাধ্যমে। কাজেই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে ছাত্রসংগঠনগুলোর যত বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম থাকবে, যে ছাত্রসংগঠনটির নেতৃত্ব এমন সকল কার্যক্রম নির্ধারণ করবে যা হবে শিক্ষার্থীদের জন্য, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং ক্যাম্পাসবান্ধব - তারাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে এগিয়ে থাকবে।


আমাদের দেশের প্রধান ছাত্রসংগঠনগুলোর গঠন ও কার্যক্রম মূলত মূল রাজনৈতিক দল দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। মূল দলের সাথে তাদের আদর্শ-উদ্দেশ্য থাকে এক ও অভিন্ন । এক্ষেত্রে ছাত্রসংগঠনগুলো তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে, কিন্তু দক্ষ ও কৌশলী নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থের সাথে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজেদের ইমেজ তৈরি করতে হবে। এতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেই রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠবে। কিন্তু শুধু মূল দলের রাজনৈতিক এজেন্ডায় মনোনিবেশ করে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি থেকে দূরে থাকলে ডাকসু নির্বাচনে তারা ব্যাপকভাবে পিছিয়ে থাকবে।


তাছাড়া ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে থাকা যেসকল ছাত্রনেতার আচরণ যত বেশি শিক্ষার্থীসুলভ, মেধাবী, দক্ষ ও মানবীয় গুণসম্পন্ন হবে, যারা নিজ সংগঠনের পরিচালনায় রোল মডেল হতে পারবে, সংগঠনকে কোন্দলমুক্ত রাখবে, নিয়মতান্ত্রিক আচরণের প্রতিফল ঘটাবে, মেধাবীদের মূল্যায়ন করবে, সততার পরিচয় দেবে এবং সর্বোপরি নিজের সম্মোহনী ক্ষমতা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারবে; সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা সেখানেই তৈরি হবে। কাজেই একটি ছাত্রসংগঠন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে কতটা বলিষ্ঠ এবং শিক্ষার্থী সমাজে কতটা জনপ্রিয় হবে তা নির্ভর সেই সংগঠনটির নেতৃত্ব থাকা ব্যক্তিদের দক্ষতা ও সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর।


কোনো ছাত্রসংগঠন যদি পরিচালিত হয় অছাত্র, অদক্ষ ও অপ্রিয়দের দ্বারা, তাদের কার্যক্রম কখনও সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে আকৃষ্ট করতে পারবে না। প্রতিটি ছাত্রসংগঠনের সকল কার্যক্রম এবং দলীয় আচরণ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে তারা ডাকসু নির্বাচনে কাদের এগিয়ে রাখবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/কামরুল/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com