শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করুন, দেশ বাঁচান
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০১৮, ১৬:১৩
শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করুন, দেশ বাঁচান
কাদের বাবু
প্রিন্ট অ-অ+

যখন রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী সুশীলরা মুখে কুলুপ দেয়, তখন শুদ্ধ কিশোর-তরুণরাই আলোর মিছিল নিয়ে হাঁটতে থাকে। এবারও তারা নিজেদের, সহপাঠীদের এবং দেশের সবার জীবনের নিরাপত্তার জন্য আন্দোলনে নেমেছে। এটা কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এ আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে। অন্যায় দূর হলে তো সরকারেরই সুনাম।


১৯৭৫ সালের এ মাসেই আজকের প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিবার হারিয়েছেন ঘাতকদের হাতে। তিনি জানেন, প্রিয়জন হারানোর বেদনা। শিক্ষার্থীরা যে রাজপথে বেরিয়ে এসেছে, কেন এসেছে, কোন বেদনায় দীর্ণ তারা, আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর চাইতে বেশি কেউ বুঝবেন না।


প্রতি ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় কয়েক শ' যাত্রী মারা যায়। সবাই জানেন, এর বেশিরভাগই ঘটে বাস-ট্রাক চালকদের হঠকারিতার কারণেই। অথচ এর বিরুদ্ধে কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে শোনা যায় না। জানতে ইচ্ছা হয়, বিআরটিএ কি করতে আছে?


প্রায় প্রতিদিনই আমরা দেখতে পাই, পুলিশ যেখানে-সেখানে গাড়ি থামায় লাইসেন্স দেখার জন্য। কিন্তু টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। ফলে অন্যায়কারী সহজেই পার পেয়ে যায়। তারা জানে, লাইসেন্স ও ফিটনেস ছাড়াই গাড়ি চালানো যায়। তারা এভাবেই গাড়ি চালায়; লাইসেন্স থাক আর না থাক। আর জীবন দিতে হয় আমাদের।


শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিলেন, স্কুল বন্ধ। এটা তো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত না। তিনি তো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। বলতে পারতেন, তোমরা ক্লাসে ফিরে যাও, আমি তোমাদের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। যোগাযোগ ও সড়কমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। তোমাদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সবারই।


কিন্তু তিনি এটা করেননি। হয়তো করার কথাই ভাবেননি।


আরো আশ্চর্যজনক কথা, ঢাকার একটি স্বনামধন্য স্কুল থেকে অভিভাবকদের কাছে এসএমএস গেছে ‘'যদি কোনো শিক্ষার্থী রাস্তায় যে কোনো প্রকার সহিংসতায় অংশ নেয়, তাহলে তাকে সরাসরি টিসি দেওয়া হবে।'’


মাননীয় ''স্বনামধন্য স্কুল'' কর্তৃপক্ষ, দয়া করে বলবেন কি, শিক্ষার্থীরা কী সহিংসতা করেছে? এমন অহিংস আন্দোলন কখনো দেখেনি দেশ।
আরে, স্কুল কর্তৃপক্ষ, যেদিন তোমাদের পরিবারের কোনো সদস্য বাসচালকের হঠকারিতার শিকার হয়ে অকালে মারা যাবে, তখন কী করবে? শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন তো অহিংস। তারা একজন সাধারণ মানুষের গায়েও হাত তোলেনি।


রাজধানীর রাজপথে সারিবদ্ধভাবে রিকশা চলছে - এমন দৃশ্য এ মহনগরী কখনো দেখেনি। বাস ভাঙার কারণে রাস্তায় কাচ পড়ে রয়েছে। তা পায়ে লেগে কেটে যেতে পারে। তাই নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কার করছে - এমন পবিত্র দৃশ্য দেখে মন ভালো হয়ে যায়।


বাস-পিকআপ ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করছে তারা। কারো তা না-থাকলে পুলিশের হাতে তুলে গাড়ির চাবি। কতটা সৎ এবং ভালো হলে এমন করতে পারে, ভাবা যায়?


তাই বলি, এই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান। তাদের আশ্বস্ত করুন। দেশকে বাঁচান।


লেখক : শিশুসাহিত্যিক, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিশু-কিশোর প্রকাশক পরিষদ


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com