স্বপ্নের দেশে প্রথমবার…
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ১৪:১৬
স্বপ্নের দেশে প্রথমবার…
শামীমা দোলা
প্রিন্ট অ-অ+

টানা দুইদিনের প্লেন জার্নি শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে নামলাম নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারপোর্টে। ভীষণ ক্লান্তি জমে আছে শরীর আর মনে। এয়ারপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অপেক্ষা করছি গাড়ির। বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে গাড়ি আসবে আমাদের রিসিভ করতে। এই অপেক্ষা আর ভালো লাগছে না। প্লেনে আমি একদম দুই চোখ এক করতে পারিনি। ক্লান্তিতে পড়ে যাচ্ছিলাম।


এসেছি প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গী হয়ে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে একটি বাস পাঠানো হয়েছে পুরো টিমের সফস্যদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে। আমি এসেছি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী বাণিজ্য টিমের সদস্য হয়ে। এটি আমার যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সফর। এ নিয়ে বিপুল আগ্রহ আর উত্তেজনা! আমেরিকা দেখব। আহা, আমেরিকা! তাবৎ দুনিয়ার মানুষের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা। আমার সারা জীবনের আবেগের আমেরিকা! কিন্তু এখন ক্লান্তিতে আমার সমস্ত আবেগ উত্তেজনা উবে গেল।


বিশাল এই টিমের সদস্য ছিল অনেক। টিমের সবাইকে এক এক করে তাদের গন্তব্যে নামিয়ে দিচ্ছিল বাংলাদেশ হাই কমিশনের বাস। সবার শেষে নামলাম আমি। আমি উঠেছিলাম ব্রোঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে।বাস থেকে নেমে আশপাশটা এবার ভাল করে দেখলাম। দেখে কিছুটা হতাশই হলাম! এই হল আমেরিকা! কোন চকচকে, ঝকঝকে ভাব নেই। দেয়ালে দেয়ালে পুরনো ব্যাপার। কালিঝুলির মত, কয়লা দিয়ে এঁকে রেখেছে কতকিছু, ঢাকার মত প্রচুর দেয়াল লিখন! হলিউডের মুভিতে আমেরিকাকে যেমন দেখেছি তেমন তো যেন লাগছে না। আমেরিকা নিয়ে আমার মানসপটে কিছু ছবি আঁকা আছে। উচু উচু বিল্ডিং, চওড়া চওড়া রাস্তা, সাই সাই আওয়াজ করে গাড়ি ছুটে যাওয়া।সুন্দরী, স্মার্ট, দারুণ সব মেয়েরা দৃপ্ত পায়ে হেঁটে যাবে। কিন্তু এখানে এসবের কিছুই মিলছে না। পরে অবশ্য নিউইয়র্কের এই কালি ঝুলি ব্যাপারটিই ভাল লেগেছে।


হতাশ মনে হোটেলে ঢুকে রুমে সব কিছু রেখে একটু ফ্রেশ হলাম। খাবারের সন্ধানে হোটেলের রেস্টুরেন্টে গেলাম।এবার টের পেলাম ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে। এতক্ষণ ঝামেলায় টের পাইনি। ধোয়া ওঠা এক প্লেট ভাতের জন্যে মনটা কেঁদে উঠল। মনকে প্রবোধ দিলাম।হবে হবে পরে হবে। নিশ্চয়ই বাংলা খাবারের রেস্টুরেন্ট কোথাও আছে। ফাষ্ট ফুড আমার চির অপছন্দ। শুকনা বার্গার আর কোল্ড ড্রিংকস খেতে খেতে জেনে নিলাম এই এলাকাটা বেশ ফাকা, মোটামুটি জনমানব শুন্য। এখান থেকে ইউএন হেড কোয়ার্টার বেশ দূর। রোজ সেখানে যেতে হলে বেগ পোহাতে হবে। বাংলা খাবার দূরে থাক খাবার পাওয়াই কষ্টকর। ভাবলাম এবার কাজিনকে ফোন দেই। তার বাসায় চলে যাই। বার বার অনুরোধ করে বলেছে হোটেলে না উঠে যেন তার বাসায় উঠি। প্রাইভেসির চিন্তা করে উঠতে চাইনি। ভেবেছি তার পরিবার আমাকে আন্তরিকভাবে রিসিভ নাও করতে পারে!এখন মনে হচ্ছে ভাতের কষ্টের কাছে দুনিয়ার আর সব কষ্ট মিথ্যা। ফোন দিলাম ভাইকে! তিনি দ্রুত এসে নিয়ে গেলেন তার বাসায়। অবশ্য ঠিকানা খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে তাকে।


কাজিনের বাসাটি ম্যানহাটান শহরে। ব্রোঞ্জ থেকে গাড়ি ছুটছে ম্যানহাটনের দিকে। হুমম, এবার মিলেছে কল্পনার আমেরিকার সাথে এই আমেরিকার। সারি সারি উচু বিল্ডিং, বিরাট রাস্তা ঘাট। পৌঁছে গেলাম ভাইয়ের বাসায়। নাহ, যে আশংকা করেছিলাম ঠিক না। কাজিনের পরিবার আমাকে পেয়ে ভীষণ খুশি। আমি আমার বাক্স, পেটরা হোটেলে রেখে এসেছি। যদি ভাল ভাবে তারা আমাকে গ্রহণ না করে তবে হোটেলেই থাকব এরকমই ভেবে রেখেছিলাম। পরদিন কোরবানী ঈদ। ভাইয়ের বড় মেয়েটি ভীষণ একটিভ। সকালে আমাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে লাগেজ, বাক্স, পেটরা সব নিয়ে এল। এক সপ্তাহের জন্যে ট্রেনের টিকেট কেটে দিল, গুগলে ম্যাপ বুঝিয়ে দিল।


সন্ধ্যায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী লা মেরিডিয়ানে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। লা মেরিডিয়ানে গিয়ে দেখি হুলস্থুল কান্ড। ভেবেছিলাম, এখানে ভীড় কম।বাংলাদেশের মত সিকিউরিটির এত কড়াকড়ি থাকবে না।কিন্তু এখানে দেখলাম বেশী কড়াকড়ি। দেশের এসএসএফের সাথে এখানকার সিকিউরিটি ফোর্সও আছে। তারা এসএসএফের চেয়েও বেশি কড়া। ইনভাইটেশন কার্ড ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না এমনই নিয়ম। এটিই চিৎকার করে মাঝে মাঝেই বলছিলেন। আমার কলিজা কেঁপে উঠছিল তাদের চিৎকারে। কেউ কেউ কার্ড ছাড়া ঢোকার চেষ্টা করছিল। আমার তো কার্ড নিয়ে ঢুকতেই ভয় হচ্ছে। আমাদের মাঝে একজনের কার্ড নেই। কিন্তু তার ভীষণ আগ্রহ অনুষ্ঠানে যাবে। কোনভাবেই কার্ড ম্যানেজ হচ্ছে না। ছেলেটির আগ্রহ দেখে তখনকার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব ভাই তাঁর নিজের কার্ডটা ছেলেটিকে দিয়ে দিলেন। অন্য সিনিয়র ব্যবসায়ীরা খুবই বিরক্ত হলেন। সভাপতি পদট খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তিনি থাকবেন না, এটি হয়ই না। কিন্তু মাতলুব ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবার কথা বলে চলে গেলেন। আমার দেখা এফবিসিসিআইয়ের সবচেয়ে সিম্পল মানুষ। কোন রকম আড়ম্বরতা নেই তাঁর মাঝে। আমি তাঁকে যত দেখি ভীষণ অবাক হই, শ্রদ্ধায় নত হই। অনেক বড় অসাধ্য বিষয়কেও সহজভাবে বলবেন সমাধান হয়ে যাবে এবং সমাধান হয়েও যায়। তাঁর আন্তরিক সহায়তা না পেলে আমি হয়ত সেবার আমেরিকা ভ্রমণের সুযোগই পেতাম না।


আমার ভাই দেশে সরকারি নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা ছিলেন। তাই তিনি খুব উৎকণ্ঠায় থাকেন আমি মিটিংয়ে সময়মত পৌঁছাতে পারব কিনা! তাই ট্রেনের টিকেট থাকতেও তাড়া দিয়ে ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দেন। বলেন, যাও যাও ট্যাক্সিতে যাও। ট্রেনে গেলে হারাবে না হয়ত, কিন্তু সঠিক স্টেশন খুঁজে পেতে, নামতে তোমার সময় নষ্ট হবে, মিটিংয়ে দেরী হয়ে যাবে। এভাবে ট্যাক্সিতে ঘুরে ঘুরে একদিন দেখি ছয়শ ডলার খরচ করে ফেলেছি। মনে মনে যখন টাকায় কনভার্ট করলাম, বুক ফেটে কান্না আসল। আমি কত কিছুই না কিনতে পারতাম! ঠিক করলাম, নাহ আর ট্যাক্সি না, ট্রেনে ঘুরব। আমার এই গল্প শুনে নিউহয়র্কের এক মামা খুব বকলেন। তিনি ভীষণ ধনী মানুষ। বললেন বাংলাদেশ থেকে যারাই আসে একবারও ভাবে না যে এক ডলার মানে আশি টাকা। আর ট্রেনে না চড়লে তোমার অভিজ্ঞতাও বাড়বে না। তারপর দাপিয়ে বেড়ালাম পুরো নিউইয়র্কের এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত। আমাকে এভাবে ঘুরতে দেখে অবাক হয়ে মাতলুব ভাই বললেন, আরে তুমি দেখি সব চেনো মনে হচ্ছে, এখানেই বড় হয়েছো! মজা করে বললেন, তুমি বরং এখানেই থেকে যাও!এখানে ভাল করবে।


এক দিন ইউএন হেড কোয়ার্টারে ঢুকছি তখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তখনকার চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সাথে দেখা। রিপোর্টার হিসেবে তাঁর সাথে আগেই পরিচয় ছিল। তিনি ইউএন হেড কোয়ার্টারে ঢুকতে আমার সাথে কুশল বিনিময় করে বললেন, চলেন আপনাকে ভেতরে নিয়ে যাই। এখানে আমি কয়েক বছর কাজ করেছি। যেহেতু ডেলিগেট হিসেবে এসেছি আমার প্রবেশাধিকার বেশি ছিল। শুধু নিউজ কাভারেজের জন্যে যেসব সাংবাদিক এসেছেন তাদের এত এক্সেস ছিল না। নজিব স্যার ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব দেখালেন, তিনি কোথায় কাজ করতেন তা দেখালেন, কফি খাওয়ালেন। ভিয়েনা ক্যাফেতে নিয়ে গিয়ে কফি খাওয়ালেন আর বললেন, এই যে এখানে সারা দুনিয়ার ব্যুরোক্র্যাটরা। জাতিসংঘের ভেতরে মিটিংয়ে যা আলোচনা হচ্ছে, সব এখানে তৈরী হচ্ছে। আমি বিস্মিত নয়নে দেখি, অভিভুত হই।


২৯ তারিখে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ হয়ে গেছে। তিনি মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সাফল্যের সাথে শেষ করেছে সেটি তুলে ধরলেন, আর এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেই রূপ রেখা জানালেন। সহযোগিতা চাইলেন দাতা দেশগুলোর। প্রধানমন্ত্রীর দারুণ উদ্দীপক এই ভাষণের গর্বিত সাক্ষী হলাম । সাংবাদিকতা জীবনে এটি আমার বড় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।


আমরা ডেলিগেশনের সবাই এখন ফ্রি। কয়েকজন মিলে ঠিক করলাম, স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে যাব। সবাই মিলে মাতলুব ভাইকে রাজী করালেন। কারণ, উনি সাথে থাকলে খাওয়া দাওয়াসহ গাড়ির সুবিধা পাওয়া যাবে। আমি সবমসয় বিদেশ মানে আমেরিকা-লন্ডন বলতে বুঝতাম শর্টকাট ড্রেস পরা, দারুন সুন্দরী মেয়েরা ছোট ছোট ড্রেস পরে ঘুরে বেড়াবে। ভাবতাম, পথে পথে, বাসে, ট্রেনে কপোত-কপোতীর অবাধ প্রেম দেখব। যেটি বাংলাদেশে কল্পনাই করা যায় না! আমি নিজেও অনেক কাপড় চোপড় নিয়ে এসেছি পরে ঘুরে বেড়াব আর অনেক ছবি তুলব বলে। কিন্তু কাজিনের বাসায় সবাই একেবারে বাসার ভেতরে বোরখা পরে থাকে।আর এখানে সেপ্টেম্বর মাসেও বেশ ঠাণ্ডা। সবাই গরম কাপড় পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার সাধ অপুর্ণই থেকে যায়!


৩০ সেপ্টেম্বর সকাল।ঘুম ভেঙ্গে দেখি ঝকঝকে সানি ডে।পরিকল্পনা মাফিক স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে তৈরী হয়ে বেরিয়ে পড়ি। বাইরে গিয়ে দেখলাম, যথেষ্ট গরম পড়েছে। অযথা গড়ম কাপড় নিয়েছি সাথে! যাই হোক হাডসন নদী পাড়ি দিয়ে আমরা স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে ছোট একটি টিম রওনা হলাম। নদীর বুকে লিবার্টি আইল্যান্ড। আইল্যান্ডে দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটক। ছোট ছোট বাচ্চারা এসেছে তাদের বাবা-মার হাত ধরে, এসেছে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, নবীন, প্রবীন অনেক পর্যটক। তবে এখানে বেশ কিছু কাপলের দেখা মিলল।এখানে সেখানে অন্তরঙ্গ হয়ে বসে আছে। স্বল্পবসনা দারুন আকর্ষনীয় অনেক নারীর দেখা মিলল এখানে।


মিটিং শেষে সবাই দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হলেও আমি বিশ দিন ছিলাম। ভার্জিনিয়া গেলাম। বিশ বছর পর শিশুকালের বান্ধবীদের সাথে দেখা হল সেখানে। দারুন আবেগী অভিজ্ঞতা। সেকথা আরেক দিন হবে।


বিশ দিনের ভ্রমণ শেষ করে ফিরলাম দেশে। আমেরিকার পথে ঘাটে, বাসে, ট্রেন স্টেশনে যেটি দেখে খুব অবাক হয়েছি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হয়েছি, সেটি হল তারা খুবই হেল্পিং মানসিকতার। সবাই যার যার কাজে ভীষণ ব্যস্ত, পড়িমড়ি করে ছুটছে নিজ গন্তব্যে। কিন্তু কোনো প্রয়োজনে সাহায্য চাইলে, ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন সাহায্য করতে। পাতাল ট্রেন স্টেশনে এক নারী ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে লাগেজ সামলাতে পারছেন না, খুব কষ্ট হচ্ছে, আমি এই অবস্থায় আমতা আমতা করে ঠিকানাটি খুঁজে দিতে বললাম। নারীটি হাসি মুখে আমাকে অনেক সময় নিয়ে ভালভাবে বুঝিয়ে দিলেন। জিজ্ঞেস করলেন আর কোন সহযোগিতা লাগবে কী না! কী দারুণ ব্যাপার! অথচ জীবনভর শুনেছি তারা খুব ইনডিভিজুয়াল, নিজেদের ছাড়া কিচ্ছু বোঝে না! রাস্তায় একা একাধিক লাগেজ, ব্যাগ টানতে কষ্ট হচ্ছে দেখে রুদ্ধশ্বাসে ছুটে চলা মানুষটিও থমকে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইলেন। বাঙ্গালী মন, ব্যাগ বা লাগেজ হারানোর ভয়ে সাহায্য নিতে চাইনি। আবার সাহস করে লাগেজ বা ব্যাগ তাদের তুলে দিয়ে নিজের ভয় অমুলক প্রমাণ হয়েছে এমন অভিজ্ঞতা নেহাৎ কম না। তাই প্রথমবারের আমেরিকা ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফেরার সময় এয়ারপোর্টে বসে বার বার চোখ ভিজে উঠেছে! মনে মনে ভেবেছি, হাজার রঙ, হাজার বর্ণের অভিবাসীর দেশ আমেরিকা, প্লিজ তুমি এমনই থেকো, সবসময়।


লেখক : সাংবাদিক


বিবার্তা/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com