আপনার বিশ্বাস, আপনার পথ
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৩৫
আপনার বিশ্বাস, আপনার পথ
কবীর চৌধুরী তন্ময়
প্রিন্ট অ-অ+

চারদিকে সত্য-মিথ্যার মিশ্রণে নানা ধরনের তথ্য-উপাত্তের ছড়াছড়ি। দেশের সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্তির মাঝে পড়ে যায় - কাকে বিশ্বাস করবে, কোন সংবাদকে বিশ্বাস করবে।


পরিষ্কার করি, আমাদের বিচারকাজ পরিচালনায় কিছু উকিল মহোদয়ের বক্তব্য দিয়ে। আসামীপক্ষের উকিল মহোদয় সব সময় বলে থাকেন, আমার আসামীর বিরুদ্ধে একটাও সঠিক তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। উপস্থাপন করতে পারেনি একটা সাক্ষীও। আমার মক্কেল নিরপরাধ। তার একদিন তো দূরের কথা, এক মিনিটের জন্যেও সাজা ভোগ করতে পারে না।


তখন সাধারণ মানুষগুলো তাদের সহজ-সরল বিশ্বাস নিয়ে উকিল মহোদয়ের কথা বিশ্বাস করে। অনেক মানুষের ভিতর একটা সন্দেহ কাজ করে, হয়তো এই নিরপরাধ ব্যক্তিটি শুধু শুধু হয়রানির শিকার হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কারাগারে নেয়া হয়েছে।


আবার অন্যপক্ষের উকিল মহোদয়ও সব সময় বলে থাকেন, আমরা সকল তথ্য-উপাত্ত সঠিভাবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আসামীর সকল অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি। সঠিক তথ্য আদালতে পেশ করেছি। সাক্ষীগণও তাদের সঠিক সাক্ষ্য দিয়েছে। অতএব, এতো-এতো ধারায় অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।


তখনও সাধারণ জনগণ সহজ-সরল বিশ্বাস নিয়ে তা অবলোকন করে। উকিল মহোদয়ের কথা শুনে সবাই ভাবতে থাকে, সত্যিই যদি ওই ব্যক্তি অপরাধী না হয়ে থাকে তাহলে এতো-এতো সাক্ষী কি মিথ্যে বলেছে? সকল তথ্য-উপাত্ত কি মিথ্যে? শুধু-শুধু কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন হয়েছে ?


এই ধরুন, খালেদা জিয়ার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে জাতির সামনে একের পর এক মিথ্যাচার করেছে বিএনপি'র নেতা ও আইনজীবীরা। বিভিন্ন নাটকও মঞ্চায়ন করেছে। বিচারকের প্রতি অনাস্থা, আদালত পরিবর্তন এবং দীর্ঘ ১০ বছর সময় নষ্ট করার কৌশলও অবলম্বন করেছে। কিন্তু কোনোভাবে এ মামলাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পারেনি। আবার মামলার সাথে সম্পৃক্ত নয়; এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে আদালতের করুণা লাভের আশায় অভিনয় করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এমনকি স্বেচ্ছায় গ্রেফতারি পরোয়ানা গ্রহণ করে দেশের কতিপয় মানুষের আবেগ-অনুভূতি নিজেদের দিকে নেয়ার চেষ্টাও করেছেন।


অথচ ১৯৯৩ সালের ৪ ডিসেম্বর (চেক নম্বর ৪৮৮২৪০১) ৪ লাখ টাকা তুলে বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দাড়াইল মৌজায় ১৭টি দলিল মূলে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় ক্রয় করা হলেও সেখানে কোনও এতিমখানা তৈরি করেনি - মিডিয়াতে এই সংবাদ প্রকাশ হলে রাতের অন্ধকারে ওই জমির উপর নতুন সাইনবোর্ড সাটানোর কাজ করে বিএনপি।


কিন্তু কেন এই মিথ্যাচার? রাতের অন্ধকারে সাইনবোর্ড সাটানো প্রয়োজন কি হতে পারে - এই প্রশ্নগুলো সবার মনেই আসতে পারে। এর সোজা উত্তর হল, জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা থেকে কোনোমতেই খালেদা জিয়া রেহাই পাচ্ছেন না জেনেই দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটা অপকৌশল নিয়েছে। সেটা খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার আগে করা সংবাদ সম্মেলনেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। আর সাইনবোর্ড, সেটাও সেই অপকৌশলের অংশ।


জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে এতো-এতো কথা হয়েছে; কোনটা আলোচনা আর কোনটা সমালোচনা তা নিয়ে মানুষ রীতিমত ভাবনায় পড়ে যায়। আর বিএনপির সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীর সাথে তাদের অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট, বিএনপির আদর্শের সংবাদমাধ্যমগুলোর সাথে মামলা পরিচালনায় উকিল মহোদয়ের সুন্দর উপস্থাপনের উপর অনেকে শক্ত বিশ্বাস স্থাপন করে ফেলে। তারা যা বলেছে তাই সত্য এবং বাস্তব। সাথে তাদের কিছু বুদ্ধিজীবীর কয়েকজনের কন্ঠে কণ্ঠ মিলানোর সুর টিভি স্ক্রিনে ভেসে আসায় তা আরও শক্ত আকার ধারণ করেছে - এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।


মিথ্যা ভিডিও, ভুঁইফোড় সংবাদমাধ্যমকে সূত্র আকারে তুলে ধরে সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা বিচারকাজের উভয় পক্ষের উকিল মহোদয়ের সকল কথা একটা সময় সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে, যখন বিচারপতি রায় ঘোষণা করেন। আস্তে-আস্তে বিশ্বাস করতে সক্ষম হয় সাদা-কালোর মাঝে কী ছিলো! এক শ্রেণির মানুষ পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হলেও আরেক শ্রেণির মানুষ থাকে বির্তকের মাঝে। বিশ্বাসহীনতার মাঝে। এক. তাদের নিজস্ব সত্তার অভাব। দুই. অসচেতনতা এবং পরনির্ভরশীলতা। আর এটাকেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করে ষড়যন্ত্রকারীরা। কারণ, বিতর্ক সৃষ্টি এবং ষড়যন্ত্র করাই যে তাদের কাজ।


কিন্তু শত-সহস্র মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র করেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারেনি। তিনি দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে খালেদা জিয়া এখন কারাভোগ করছেন। মিথ্যে সাজানো মঞ্চায়ন করার পরেও দেশের সচেতন মানুষকে খালেদা জিয়ার পক্ষে মাঠে নামাতে পারেনি।


কিন্তু বাংলাদেশ শঙ্কামুক্ত নয়। আমাদের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গালভরা গল্প আর মিডিয়ার পাতাভরা লেখা বিশ্বাস করার আগেই আমাদের সকল কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। একান্ত মনে করার আগেই যাচাই করতে হবে। কারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দীর্ঘদিন লুকিয়ে রেখে মিথ্যাচার করেছে, কারা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতির সামনে তুলে ধরতে বাধা দিয়েছে, কারা পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছে, কারা স্বাধীনতাবিরোধীদের এদেশে রাজনৈতিক, সামাজিক, অথনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এনে প্রতিষ্ঠা করেছে; তা ভাবতে হবে, জানতে হবে। তাদের চিহ্নিত করে বয়কটের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে যারাই মিথ্যাচার করবে তাদেরও চিহ্নিত করতে হবে।


আপনার বিশ্বাস আপনাকে সঠিক ও সহজ পথ দেখাবে। আপনার শিক্ষা আপনাকে শয়তান চেনাতে সহায়তা করবে। আপনার ধর্ম আপনাকে মানবতার পাশে দাঁড়াতে শিক্ষা দেবে। আপনার অর্জন আপনাকে অপরের কল্যাণে ব্যয় করতে বলবে। আপনার সচেতনতা অপরকে সঠিক ও সুন্দর পথ দেখাবে। শয়তানের গর্জন ক্ষণস্থায়ী ও দূর্বল। মানুষ, মানবতা ও মানবপ্রেম সব সময় সত্য ছিনিয়ে এনেছে, মানবতার জয় হয়েছে। সেদিকেই আমাদের এগিয়ে যাওয়া উচিত।


লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)


বিবার্তা/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com