বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কতিপয় বুদ্ধিজীবী
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৩১
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কতিপয় বুদ্ধিজীবী
হায়দার মোহাম্মদ জিতু
প্রিন্ট অ-অ+

তাত্ত্বিক গ্রামসির ‘প্রিজন নোটবুকস’ মতে, একক হিসেবে সব মানুষই বুদ্ধিজীবী, কিন্তু সবাই সামাজিক বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নেতৃত্ব দিতে পারেন না। তাঁরাই নেতৃত্ব দিতে পারেন যারা সমাজ থেকে কিছুটা দূরে নির্জনে অবস্থান করেন। তাঁদের ধর্ম হল তাঁরা এমন মাটিতে দাঁড়িয়ে কথা বলবেন যেখানে সবারটা সমানভাবে ধ্বনিত হয়।


কিন্তু আজ এই মাটিতে সেই সংজ্ঞা প্রায় নির্বাসিত!


এখানে বুদ্ধিজীবীরা একটা অংশের পক্ষে ঝান্ডা ধরতে ভীষণ সুড়সুড়ি অনুভব করেন। আর যে পক্ষ দেশ-পতাকা-মানচিত্র আনতে ঘরের শেষ সম্বলটুকু হারিয়েছেন তাঁদের নাস্তানাবুদ করতে পুলকিত বোধ করেন।


ছাত্রলীগ, ইতিহাসের রক্তস্রোতে লেখা এই সংগঠন এখন তাঁদের মূল টার্গেট। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্রান্ত ভিসিকে লাঞ্ছিত হওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে এখন এই সংগঠনটি তথাকথিত সুশীলদের তোপের মুখে।


প্রসঙ্গে ফিরি। কিছু মানুষ বলেন, ভিসিকে রক্ষা করতে কেন ছাত্রলীগই গেল? তাদের জ্ঞাতার্থে বলি, তারা কিন্তু আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পরে ছাত্রলীগ। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তারা তাদের সর্বোচ্চ অভিভাবককে লাঞ্ছিত হতে দেবে না - এটাই তো স্বাভাবিক।


আর আন্দোলনের কথাই যদি বলি, বাম সংগঠনগুলো তাদের লোগোয় থাকা কাস্তে-হাতুড়ির মাঝে হয়ত হাতুড়ির অর্থাৎ, লোহার ব্যবহারটাই বেশি জানেন। তা না হলে কী করে রড ও লোহা-লক্কর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন-তিনটি লোহার কেচি গেট ভেঙ্গে ফেললেন! যেখানে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে গ্রামের কৃষক-মেহনতি মানুষের টাকায়।


তাদের অভিযোগ রয়েছে নিপীড়নের। অথচ লিখতে লজ্জা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী তার স্পর্শকাতর অঙ্গের ছবি সম্পর্কিত ভাইরাল পোস্টের মালিক হয়েছেন! ‘প্রথম আলো’ নামের একটি পত্রিকা ২৫-১-২০১৮ তারিখে লিখেছে, এই নেতার মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। অথচ সকাল ১১টায় তাকে দেখা গেল তিনি মধুর ক্যান্টিনে দিব্যি চা-সিগারেট ফুঁকছেন! কাজেই এটা স্পষ্ট, ছাত্রলীগ একটা বিশেষ পক্ষের মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার।


তাছাড়া এরা কাদের এবং কী ধরনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছেন তাও কিন্তু সকলেই জানে। সাধারণ মানুষ ভুলে যাননি ‘মাহমুদুর রহমান মান্নার’ সেই ফোনালাপের কথা, যেখানে ক্ষমতার মসনদে বসার তাগিদে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাশ ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ বলা যায়, একটা দীর্ঘ পরিকল্পনার ছকে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


এবার দেশের বুদ্ধিজীবী, যারা ফোঁড়ন কাটতে ব্যস্ত, তাদের প্রসঙ্গে আহমদ ছফার একটি উদ্ধৃতি স্মরণ করিয়ে দেই। তিনি এক প্রবন্ধে লিখেছেন, “শেখ মুজিব যদি তৎকালীন বুদ্ধিজীবীদের কথা শুনতেন তাহলে বাংলাদেশ কখনো স্বাধীন হতো না।” এ তল্লাটের বুদ্ধিজীবীদের দৌড় কতটুকু তা বুঝতে আহমদ ছফার এই উক্তিই যথেষ্ট।


তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধকালে বঙ্গবন্ধুর পাশে ঘেঁষা বামদের প্রসঙ্গে শহীদ বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা তাঁর “রাইফেল, রোটি, আওরাত” উপন্যাসে লেখেন, “পরিস্থিতির কারণে বামরা বঙ্গবন্ধুর পাশে ঘেঁষলেও সুযোগ পেলেই এরা তাঁকে বেকায়দায় ফেলবে।” যার প্রমাণ আমরা ইতিহাস থেকে জেনেছি। আর এখন তো দেখতেই পাচ্ছি।


এই আন্দোলনে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা নিয়ে বললে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ১৯ দফা ঘোষণা করেন। যা সম্পর্কে জানলে যে কেউ বাধ্য হবেন এটা স্বীকারে যে, তাঁরা শিক্ষার্থীবান্ধব। কাজেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেয়া ভিসিকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ এবং সম্পদ বিনষ্টের দায়ে দোষীদের বিচারের দাবিতে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক।


আর ছাত্রলীগকে অপবাদের তুড়িতে যারা গ্লাসে আবদ্ধ করতে চান তাদের উদ্দেশে বলি, ছাত্রলীগ গ্লাসের জল নয়, উত্তাল সাগর। কাজেই সহস্র ঝঞ্ঝা-বঞ্চনার পথকে হটিয়ে এরা জননেত্রীর পথকে এবং উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে বারবার বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে। এটাই এই বঙ্গের ধারাবাহিক বাস্তবতা।


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com