ছাত্রলীগ দেশকে যেদিকে পথ দেখায়, দেশের গতিপথ সেদিকে নির্ধারণ করে
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৭, ০১:১৪
ছাত্রলীগ দেশকে যেদিকে পথ দেখায়, দেশের গতিপথ সেদিকে নির্ধারণ করে
ইসতেয়াক আহমেদ শরীফ
প্রিন্ট অ-অ+

পান থেকে চুন খসতেই ছাত্রলীগের সমালোচনা, ছাত্রলীগের সমালোচনা না করলে যেন মধ্যরাতের তথাকথিত টকশোবিদের টকশো জমে না, ছাত্রলীগের সমালোচনা না করলে যেন সাংবাদিক ভাইদের পত্রিকার সার্কুলেশন বাড়ে না, ছাত্রলীগের সমালোচনা না করলে মনে হয় টিভি নিউজের টিআরপি বাড়ে না। ছাত্রলীগের সমালোচনা না করলে যেন মনে হয় বুদ্ধিবেশ্যাদের পেটের ভাত হজম হয় না।


ছাত্রলীগ গাড়িতে ছড়লে দোষ, বাড়িতে থাকলে দোষ, ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে খাইলে দোষ, কিছু বললে দোষ, আবার না বললেও দোষ। ছাত্রলীগকে একটু দোষারোপ করতে পারলেই মনে হয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা যায়।


ছাত্রলীগকে দোষারোপ কিংবা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সমসাময়িক কোনো বিষয় নয়। ছাত্রলীগ যেদিন থেকে সৃষ্টি হয়েছে, সেদিন থেকেই ছাত্রলীগ ষড়যন্ত্র আর সমালোচনা মোকাবেলা করে আসছে। ছাত্রলীগ ৫২'র ভাষা আন্দোলনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এদেশের মাতৃভাষা এনে দিয়েছে, ছাত্রলীগ ৫৮'র আইয়ুবের ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করেছে, ছাত্রলীগ ৬৬'র ছয় দফা দাবি পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক যেন বাস্তবায়ন না হয় সে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। ছাত্রলীগ ৬৮ সালের আগরতলার ষড়যন্ত্রমূলক মামলা রাজপথ থেকে মোকাবেলা করেছে। ছাত্রলীগ ৬৯'র গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি করে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। ছাত্রলীগ ৭০'র নির্বাচনে পশ্চিম পাকিস্তানের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে এদেশের মানুষের বিজয় চিনিয়ে এনেছে। ছাত্রলীগ ৭১'র মুক্তিযুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ১৭ হাজার নেতাকর্মীর জীবনের বিনিময়ে এদেশের নতুন মানচিত্র দিয়েছে, নতুন ভূখণ্ড দিয়েছে। ছাত্রলীগ ৭৫'র ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের পর সকল ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছে। ছাত্রলীগ ৯০'র গণ-অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছে। ছাত্রলীগ ১/১১'র কুশীলবদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আবারো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছে।


এক ছাত্রলীগ একটি দেশের মানচিত্র দিয়েছে, এক ছাত্রলীগ একটি দেশের স্বাধীনতা দিয়েছে। এক ছাত্রলীগ একটি দেশের গণতন্ত্র যতবার মুখ থুবড়ে পড়েছে, ততবার পুনরুদ্ধার করেছে। ছাত্রলীগ জানে কিভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়। ছাত্রলীগ নতুন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করে, প্রয়োজনে পুরাতন ইতিহাস ভেঙে নতুন রেকর্ড করে। ছাত্রলীগের সমালোচনা করা যত সহজ, ছাত্রলীগের কর্মী হওয়া তত সহজ নয়।


এই আপনারা যারা ছাত্রলীগের সমালোচনা করেন, বলেন তো এদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বা আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের অবদান কী? নিশ্চয়ই কোনো উত্তর নেই, থাকবে কিভাবে সমালোচনা করে কি একটি দেশের জন্য অবদান রাখা যায়?...! ছাত্রলীগ নিয়ে সমালোচনা তো দূরের কথা, ছাত্রলীগ নিয়ে কথা বলতেও একটা যোগ্যতা লাগে, একটা মানদণ্ড লাগে। আলোচনা সমালোচনা করলে তো নিজেদেরও অবদান থাকতে হয়। আপনাদের কী আছে যে ছাত্রলীগ নিয়ে যা ইচ্ছে তা বলে দেন। আপনাদের উপদেশ নিতে ছাত্রলীগ অনন্ত বেকার সময় নষ্ট করে না। ছাত্রলীগ দেশকে যেদিকে পথ দেখায়, দেশের গতিপথ সেদিকে নির্ধারণ করে।


অযথা ছাত্রলীগের সমালোচনা না করে নিজের কাজ করুন, অনন্ত নিজে ভালো থাকুন। অথবা, ছাত্রলীগকে জানুন, বুঝুন, তারপর কথা বলুন।


লেখক : সাহিত্য বিষয়ক উপ-সম্পাদক।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ


বিবার্তা/হোসেন/মোয়াজ্জেম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com