স্মৃতিতে ভয়াল ২১শে আগস্ট
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৭, ১০:৫৭
স্মৃতিতে ভয়াল ২১শে আগস্ট
এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)
প্রিন্ট অ-অ+

২১ আগস্ট এই দিনে পেশাগত কারণে জনসভায় পৌঁছাতে আমার কিছুটা দেরি হচ্ছিলো। অস্পষ্ট শব্দ পেলাম, কিন্তু বুঝতে পারিনি। পথিমধ্যে একজন দৌড়ে এসে বললো ‘শেখ হাসিনা নাই আমাদের শেখ হাসিনা নাই।’ শোনার সাথে সাথে আমার শরীর রক্তশূন্য হয়ে পড়ে, আমি সম্বিত হারিয়ে ফেলি। কিছুক্ষণ পর চারিদিক থেকে কান্নামিশ্রিত একটি শব্দই আসতে থাকে, ‘রক্ত শুধু রক্ত’। আমরা যাওয়ার চেষ্টা করলেও বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে মানুষের ঢল সচিবালয়ের দিকে আসতে থাকে। ফলে বার বার বাধাপ্রাপ্ত হই।


তৎক্ষণাৎ জলস্রোতের সাথে কখন যে শাহবাগে চলে আসি বুঝতে পারিনি। মাথার মধ্যে শুধু একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছিলো জননেত্রীর কি অবস্থা? জনসভার নেতৃবৃন্দ কেমন আছেন? কেমন আছেন জনসভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষ? আমার মাথায় ১৫ই আগস্টের ভয়াভহতা কাজ করছিল। তৎক্ষণাৎ বিচলিত হয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের এক সদস্য কে ফোন দেই, জানতে পারলাম ইতিমধ্যে জননেত্রীকে সুধাসদনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই খবরে আমার মনে বল ফিরে পেলাম। কিন্তু তার কাছেই প্রথম জানতে পারি যে, আইভি রহমান গুরুতর আহত এবং অবস্থা আশংকাজনক আর ঝরে গেছে কিছু তাজা প্রাণ।


পরিচিত এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে বলেন আপনার নেতা গুরুতর আহত। সঙ্গে সঙ্গে আমার রাজনৈতিক নেতা নাসিম ভাইয়ের বাসায় খবর নেই এবং তার বাসায় যাই। তাকে আহত অবস্থায় বিছানায় কাতরাতে দেখি। আমি শুনি নেতার বড় ছেলে জয় বললেন ‘জনসভায় বোমা নয় গ্রেনেড ছোঁড়া হয়েছে, টিভিতে দেখাচ্ছে’।আমরা আঁতকে উঠি, স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। নাসিম ভাই বলেন ‘মতিন খসরু আমার পাশে ছিল, তার কি অবস্থা’? খোঁজ নিয়ে দেখি তিনিও আহত হয়েছেন। এরই মধ্যে সাহারা আপার আহত হবার খবর আসে।


আমাদের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি আছে শুনে ছুটে যাই শমরিতায়। পৌঁছে দেখি হাসপাতালে শুধু রক্ত আর রক্ত, কান্না আর চিৎকার। নেতৃবৃন্দকে দেখতে ওপরে উঠে ভেতরে যেতে চাইলে নিরাপত্তার স্বার্থে নিষেধ করা হয়। তবে সবার চিকিৎসা চলছে জানানো হয়। তারপর আমরা যাই কমর্ফোট হাসপাতালে সেখানে আহজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সেন্ট্রাল হাসপাতালেরও একই অবস্থা। সবচেয়ে করুণ দৃশ্যের অবতারণা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তবে প্রচণ্ড ভীড় আর অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির কারণে ভেতরে অবস্থান সম্ভব হয়নি।


এরই মধ্যে একজন আহত মহিলা যার পা থেকে কোমড় পর্যন্ত ব্যান্ডেজ আর দু পা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছিল। তিনি আমার সাথে থাকা নেতার হাত ধরে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সুজন ভাই নেত্রী বেচেঁ আছেন তো’। এরকম ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে নিজের কথা চিন্তা না করে নেত্রীকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তা দেখে আমার চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি পড়লো। নিজের বাঁচা-মরা নিয়ে এতটুকও উদ্বিগ্নতা ছিল না তার। এরকম ২২টি নিবেদিত প্রাণ ঝরে গিয়েছিল সেদিন। সেদিন এটাও বুঝেছিলাম, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি মানুষের ভালোবাসা! তারা নিজের প্রাণের চেয়ে জননেত্রীকে কতটা ভালোবাসে এই ভয়াল স্মৃতির মধ্যে স্পষ্ট হয়ে আছে।


লেখক: ব্যারিস্টার-এট-ল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা।


বিবার্তা/আদনান/জিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com