বিএনপির বর্তমান
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১৪:৫৭
বিএনপির বর্তমান
মো. লুৎফর রহমান
প্রিন্ট অ-অ+

বেশ কিছুদিন যাবৎ বিএনপির নেতা-নেত্রীর মুখে ‘সহায়ক সরকার’ নামক দুটি শব্দ শোনা যাচ্ছে। ‘সহায়ক সরকার’ জিনিসটা যে কি তার কোনো সুস্পষ্ট বোধগম্য ব্যাখ্যাও তারা দিতে পারছে না। এটা কি অশ্বডিম্ব নাকি শিয়াল ডিম্ব, যা ফুটে ‘সহায়ক সরকার’বেরিয়ে আসবে!


সহায়ক শব্দটির আভিধানিক অর্থ হল ‘সাহায্যকারী’। তাহলে ১৯১৮ সালের শেষ ভাগে বা তার পরের বছর প্রথম ভাগে দেশে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তাতে অংশগ্রহন করার জন্য বিএনপির কি সাহায্যকারী প্রয়োজন? বিএনপির রাজনৈতিক শক্তি সামর্থ্য কি শেষ? যদি তাই হয়, তাহলে তো বলতে হয়, বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচন চলাকালীন এবং নির্বাচনের পরে বিএনপি- জামায়াত জোট নিরীহ মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয় ঘটাতে চেয়ে, ভোটকেন্দ্র, স্কুল ধ্বংস করে নির্বাচন বানচালের চেষ্ট করে ব্যর্থ হয়ে যে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করেছিল ‘সহায়ক সরকার’কি তারই প্রতিধ্বনি? একি তাহলে নতুন বোতলে পুরাতন মদ!


‘সহায়ক সরকার’মনে হয় জামায়াত নেতা-নেত্রীদের গোবর-উর্বর মস্তিষ্কের কোনো নোংরা, কুৎসিত পুতি গন্ধময় কুট কৌশল। আসলে ‘জামায়াত’শব্দটা মনে এলেই কেমন যেন একটু দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস নাকে লাগে। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর দু’লক্ষ মা-বোন-স্ত্রীর ইজ্জত কেড়ে নেয়ার ফলে অর্জিত স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতের হাতে যে রক্ত লেগেছিল, তা তাদের মনের মাংস, হাড্ডি, চামড়ায় এতদিনে পঁচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।


বাংলাদেশের সংবিধানে কোথাও ‘সহায়ক সরকার’বলে কোনো শব্দ যুগল নেই। তাহলে তো বলতে হয় বিএনপি সংবিধান মানতে চায় না। কি আশ্চর্য! সংবিধান মানতে না চাইলে তো তারা দেশের সার্বভৌমত্ব আর অস্তিত্বকেই বিশ্বাস করে না।


বিএনপি অন্ধের হাতি দেখার মতো অন্ধকারে দিশেহারা হয়ে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে, কি করলে বা কোনো না কোনো উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মসনদে বসতে পারবে। হা হতোস্মি অর্থাৎ নিরাশ হয়ে উদ্বেগকুল হয়ে পড়েছে। আমরা জানি ডুবন্ত মানুষ বাঁচার জন্য খড়-কুটা পেলেও জড়িয়ে ধরে। তাই কি বিএনপির এহেন ‘সহকারি সরকার’শব্দ যুগলের আমদানি?


১৯৯৪ সালের নির্বাচনের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কয়টি মন্ত্রণালয়ে বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া চান, তাই তাকে দেয়া হবে বলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি, জামায়তের উদরস্ত হয়ে হজম হয়ে যাবার ফলে সে সঙ্গত আমন্ত্রণ সাড়া দেয়নি।


এবার একটা গল্প বলি। একবার এক ছেলের এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও সে পরীক্ষা দেয়নি। জানতে পেরে আমার সাথে দেখা হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুই পরীক্ষা দিসনি কেন? ছেলেটি অকুণ্ঠভাবে চটপট উত্তর দিল যে, যদি ফেল করি তাই পরীক্ষা দেইনি। ঠিক তেমনি বিএনপি-জামায়াত নেতা-নেত্রীদের জিজ্ঞেস করা হয়, সত্যি করে বলুন তো, নির্বাচনে আপনারা অংশগ্রহন করেননি কেন। তারা নির্লিপ্তভাবে জবাব দেবে, যদি নির্বাচনে ফেল করি তাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করিনি।


‘সহায়ক সরকার’আমদানি করে বিএনপি জামাত জোট আগামী নির্বাচনে একটা গণ্ডগোল বাধানোর তালে আছে। তারা বলেছিল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার কথা আর এখন বলছে ‘সহায়ক সরকার’ এর অধীনে নির্বাচন করার কথা। বিএনপি-জামায়াত জোট জানে যে, নির্বাচনে এলে তাদের অভাব্যভাবে পরাজয় হবে। তাই তারা নির্বাচনে আসতে চায় না। নির্বাচনকে তারা ভয় পায়।


আসলে বিএনপি-জামায়াত জোট বর্তমানে জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা এখন লাইফ সাপোর্টে রাজনৈতিক হাসপাতালের বিছানায় শোয়া অবস্থায় মৃত্যুও অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এখন তাদের রাজনীতি বাদ দিয়ে তীর্থস্থানে গিয়ে ধম্মো কাম্মো করার সময় এসেছে।


বিবার্তা/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com