মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৭, ১৬:৪০
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ
মো. বাহাউদ্দিন
প্রিন্ট অ-অ+

প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির অনুপম সমন্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। লেকচারার হিসেবে ৬৮০০ টাকা স্কেলে চারটি ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া আর বিভিন্ন প্রান্তিক সুবিধা নিয়ে মোট সাড়ে এগার হাজার বা কোনো মাসে বার হাজার টাকা বেতন পেতাম।


দুই রুমের বাসা ভাড়া ৫০০০ টাকা, দোলাইরপার হতে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া ৩০০০ টাকা আর চাকরির শুরুতেই ছোট ভাইয়ের জন্য ব্যাংক থেকে উত্তোলিত লোনের কিস্তি ৪০০০ টাকা পরিশোধ করা লাগতো। ৫০০০+৩০০০+৪০০০=১২০০০ টাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্ত আমার বেতন এতেই শেষ! তখনো বাকি পরিবারের ভরণ-পোষণ আর আমার হাত-খরচ।


ভাড়া বাসাটির অদূরেই শ্বশুরবাড়ি থাকার সুবাদে নিত্যদিন টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার আমাকে বাঁচিয়ে দেয়। মায়ের কাছ থেকে দুই/তিন হাজার টাকা নানান কথা বলে এনে আমার হাতখরচ বা আনুষঙ্গিক জরুরি বিষয়গুলো সামাল দিতাম।


কয়েক মাস পর মা আমাকে কৌতুহলভরে জিজ্ঞেস করেন, তুই কি চাকরি করিস যে এখনো বাড়ি থেকে টাকা নিতে হয়?


আমি মাকে এর কোনো জবাব দিতে পারিনি। টানাপোড়েন লেগেই থাকতো।


আজ আমি অধ্যাপক। প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা শুধু বেতনই পাই; পরীক্ষাসহ অন্যান্য সম্মানী এবং শিক্ষা ও প্রশাসনিক সুবিধাদি মিলে মাসিক প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণটা আরো স্ফীত হয়। পারিবারিক ভরণ-পোষণ ভালোমতোই চলে, মাকে টাকা পাঠাই, সন্তান ও বোনদের পড়াশোনা চালাই, শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে নিয়মিত আপ্যায়ন করি, স্ত্রী ব্যাংকে এসডিএস করে টাকা জমায়, নিকটাত্মীয়দের সহযোগিতা করি, নিজের হাতখরচ চালাতে কার্পণ্য করি না; তারপরেও বেতনের টাকা শেষ হয় না। বরং প্রতি মাসে কিছু পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে গচ্ছিত থাকছে।


আজ মা আর কোনো প্রশ্ন করেন না, পরিবারের লোকজন খুশি, আত্মীয়-স্বজন গর্ববোধ করেন এবং আমি মেধা-মননশীলতার মিশ্রণে ও নিশ্চিন্তচিত্তে, দেশের সরবোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক হিসেবে জ্ঞান-গবেষণা কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারছি।


এই অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির পেছনে মূল কৃতিত্ব কার? অবশ্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। সম্প্রতি তিনি প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থদের সামনে বেতন বাড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে কর্তব্য-কাজে অধিকতর মনযোগ দিতে আর দুর্নীতি বন্ধ করতে তাগিদ দেন।


বেতন বাড়ানোর ফলে আমার দৈনন্দিন জীবনে যে অভূতপূর্ব পরিবর্তন সূচিত হয় তার বিবরণ উপরে দেয়া হলো। সকল বেতনভোগীরই একই ধরনের পরিবর্তন হওয়ার কথা; তাহলে অবশ্যই সবার উচিত কৃতজ্ঞচিত্ত হয়ে যার যার কাজে মনোনিবেশ করা। মহান আল্লাহর বাণী- ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞচিত্ত হও তবে তোমাদের উপর প্রদত্ত অনুগ্রহ আরো বাড়িয়ে দেয়া হবে।’ মহানবী (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় না সে মহান স্রষ্টার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে সক্ষম হয় না।’


প্রজাতন্ত্রের উচ্চপদস্থ থেকে অধস্তন ব্যক্তিরা কে কি করবেন জানি না, তবে প্রত্যাশার চাইতেও অধিক মাত্রায় বেতন বাড়িয়ে আমার মতো একজন অধ্যাপকের জীবনমানে যে পরিবর্তন ও স্বস্তি এনে দিলেন সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে ধন্যবাদ।


লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com