জননেত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বড় দেশপ্রেমিক হতে চাইলে
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৭, ১৭:৪৯
জননেত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বড় দেশপ্রেমিক হতে চাইলে
হায়দার মোহাম্মাদ জিতু
প্রিন্ট অ-অ+

হুমায়ুন আজাদ স্যার বলতেন, বিপ্লবীরা (!) দীর্ঘজীবী হলে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেন। স্যারের সেই কথার সত্যতা এখন টের পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে। একটা উদাহরণ দিলে হয়তো বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে বোঝানো সম্ভব হবে।


ক’দিন আগেও দেশের একটি ক্ষুদ্রাংশের কাছে রামপাল সম্পর্কিত ইউনেস্কোর রিপোর্টটি বাপ-মার আদেশের মতো মনে হতো। আর এখন সেই ইউনেস্কোই যখন রামপাল সম্পর্কে তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছে তখন তারা বলেন তারা ইউনেস্কোকে মানেন না।


চবাম সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা ক’দিন আগেও রামপাল নিয়ে ইউনেস্কোর দোহাই দিতেন। সেই তাঁকেই আজ দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখতে যে, “ইউনেস্কো ভুল করলেও বাংলাদেশ ভুল করবে না”। আরো সংক্ষেপে বললে রামপাল সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দাঁড়ায়, যে যা-ই বলুক, তালগাছটা আমার ! অর্থাৎ, তারা রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র হতে দিবেন না।


আরো তামাশার বিষয়টি এখানেই যে, যারা দুই-চার জনের পরিবার নিয়েই কোনো পরিকল্পনা করতে পারেন না, তারাই দেখা যায় জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা নিয়ে নিন্দা করতে বসে গেছেন। কিন্তু তারা হয়তো জানেনই না যে দেশের সবচেয়ে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তগুলো দেশরত্ন শখ হাসিনাই নিয়ে থাকেন।


উদাহরণস্বরূপ, ৯১’তে একেবারে নামমাত্র মূল্যে আমাদের অপটিক্যাল ফাইবার বা ইন্টারনেট সুবিধা পাবার কথা ছিল। কিন্তু তখনকার তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম তৎকালীন সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়াকে গিয়ে বোঝালেন, এসব অদরকারি (!) জিনিস সংযুক্তির ফলে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাত নাকি হুমকির মুখে পড়বে।
এবং আশ্চর্যের বিষয়, বেগম জিয়া বিষয়টিকে নিয়ে যুক্তি-তর্কের তোয়াক্কা ছাড়াই ফলাও করে বিবৃতি দিয়েছিলেন, “অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবস্থা এলে আমাদের দেশের সকল তথ্য পাচার হয়ে যাবে”।


তাদের সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল তার প্রমাণ মেলে ৯৬’তে ক্ষমতায় এসেই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেয়া তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্তে। সত্যিকার অর্থে ঝুঁকি কোন জায়গাটায় নাই? কিন্তু ঝুঁকি আছে বলে তো আর আমরা সেটাকে না গ্রহণ করে পিছিয়ে থাকে পারি না!


আর তাছাড়া আপনি আপনার চারপাশ একবার নজর দিলেই দেখবেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে আমাদের তরুণরা এখন কিভাবে উপার্জন করে চলেছে। আপনার, আমার এবং আমাদের সকলের যোগাযোগব্যবস্থা কোন জায়গা থেকে কত উঁচুতে গিয়ে পৌঁছেছে।


জননেত্রী শেখ হাসিনার চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বারবার তিনি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন বহির্বিশ্বের কাছে থেকে। কিন্তু তাঁর ট্র্যাজেডি হল পিতার মত তাঁরও অভ্যন্তরীণ শত্রুর অভাব নেই। যার অনন্য উদাহরণ, পদ্মা সেতু। দেশের খেয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে লবি ধরে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হচ্ছে ! কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা কতটা দূর্বার তারা হয়তো তখন পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকসহ মোড়লরা এখন বিস্ময় চোখে দেখে পদ্মা সেতুর গড়ে ওঠাকে।


মত প্রকাশের অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু কেউ যখন একই জিনিসের উপর হরেকবার হরেক রকমের মত দেন তখন তাদের প্রতি মানুষ হিসেবে বিশ্বাসের জায়গা নড়ে যায়। তাই তাদের উদ্দেশে এতটুকু বলতে চাই, সব কিছু না বুঝে হুটহাট করে এমন প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠবেন না। কারণ এতে মগজে রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে। যার কারণে আপনি বা আপনারা দেশরত্নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না দেখেই পরপারে চলে যেতে পারেন।


জননেত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বড় দেশপ্রেমিক হতে চাইলে আমি কেন পাগলও বুঝবে যে নিশ্চয়ই কিছু একটা উদ্দেশ্য আছে। কারণ, এই দেশকে নিয়ে আপনি যদি আগামী পাঁচ বছরের জন্যে ভেবে থাকেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ১০০ বছর পর পর্যন্ত ভেবে রেখেছেন।


লেখক : সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com