আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৭, ১৭:৫১
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ
মো. মেহেদী হাসান
প্রিন্ট অ-অ+

আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকেই আমাদের বিদায় ঘটেছে। এখন আমরা একটু বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখতে পারি।


প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দারুণভাবে খেলতে থাকা তামিম ও মুশফিকের পার্টনারশিপ যখন দলের জন্য রান তুলছে তখন তামিম ছিল বেশ আগ্রাসী। এরপর ছন্দপতন ঘটল তার। ৭২ বলে ফিফটি করার পর যখন রান তোলার দরকার পড়ল তখন বেশ আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলে তামিম পৌঁছে গেল ১০০ বলে ৮৪ রানে। এভাবেই রান তোলাটা প্রয়োজন এবং সম্ভব ছিল দলের জন্য তখন। কিন্তু তামিম আবার ধীরে খেলতে শুরু করল। ৮৪ থেকে ১০০ তে যেতে তামিম খেললো ২৪ বল। ১০০ পেরোনোর পরে আবার আগ্রাসী হল তামিম। যৌক্তিকভাবে বলা যায়, সেঞ্চুরির জন্য তামিমের একটা অপেক্ষা ছিল, যা প্রফেশনালিজমের ক্ষেত্রে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। যেখানে আজ রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলি জুটিতে ছিল পারফেক্ট প্রফেশনালিজম। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরি নিয়ে কোনো আলাদা পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায়নি এই জুটিতে।


১২৮ রান করে তামিম আউট হওয়ার পর মুশফিকও বেশি সময় থাকতে পারল না ক্রিজে। রানের পাহাড় গড়ার সম্ভাবনা থেকে হঠাৎ করেই দল ধুঁকতে থাকলো। সেমিফাইনালেও একই ঘটনা ঘটলো মুশফিকের সাথে।


দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিম ছাড়া কেউ বলার মত কিছু করতে পারেনি।


তৃতীয় ম্যাচে তামিম খেলতে পারেনি এবং খুব দ্রুত ৪ উইকেট পড়ে গেল বাংলাদেশের। সেখান থেকে ক্রিকেটকে দুই ব্যাটের খেলায় পরিণত করে জয় তুলে আনলো সাকিব-মাহমুদুল্লাহ। এখানে বলার মত বাকি কেউই ছিল না।


শেষ ম্যাচের বাংলাদেশের ইনিংস এবং প্রথম ম্যাচের বাংলাদেশের ইনিংসের পুনরাবৃত্তি বলা যায় শুধু মাশরাফি আর তাসকিন শেষে কিছু রান যোগ করেছে এবং সবমিলিয়ে রানটা আরো কম হয়েছে।


বোলিং-এ বাংলাদেশি বোলাররা ছিল টুর্নামেন্ট জুড়ে ফ্লপ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০ ওভারের পর মোসাদ্দেক দ্রুত তিনটা উইকেট নিয়ে নেয়ায় রান আটকে যায় নিউজিল্যান্ডের। নাহলে সাকিব-মাহমুল্লাহকে ব্যাটিং-এ আরো বেশি চাপে থাকতে হত এবং ফলাফল ভিন্নও হতে পারত। হিথ স্ট্রিকের বাংলাদেশি পেসার আর কোর্টনি ওয়ালশের বাংলাদেশি পেসারদের ভিতর অনেক তফাত দেখা যাচ্ছে।


মাহমুদুল্লাহকে তিন নম্বরে খেলিয়ে সাব্বিরকে নিচে নামিয়ে খেলানোটা হয়ত আরো ভাল ফল দিতে পারত আমাদের। যদিও আয়ারল্যান্ডে ত্রি-দেশীয় সিরিজে রান না পাওয়ায় মাহমুদুল্লাহকে দলে রাখা নিয়ে অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে মাশরাফিকে। তবে একজন মাহমুদুল্লাহকে তৈরি করতে ৮-১০ বছর সময় লেগেছে বিসিবির। এত দ্রুত তার থেকে ভরসা হারানো যুক্তিযুক্ত হবে না এই মুহূর্তে।


বোলার মাশরাফি তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন সুন্দরভাবে।


ফিল্ডিং-এ মাঠটা ফিল্ডারদের কাছে আপন ছিল বলে মনে হয়নি, যেটা দেখা যায় মিরপুরে। সব মিলিয়ে খেলাটা যে বাইরের দেশে হচ্ছে তার ছাপটা চোখে পড়েছে। বাইরের মাটিতেও নিজের খেলাটা খেলতে পারাটা শতভাগ প্রফেশনাল খেলোয়াড়দের যোগ্যতার উদাহরণ।


তাই সব মিলিয়ে বলা যায় পাকিস্তান-ভারত যোগ্য দল হিসেবেই ফাইনালে। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলার অযোগ্য দল না হলেও যোগ্যতার ঘাটতি এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের আছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলাটা না হওয়া বাংলাদেশের সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করেছে সরাসরিভাবে।


তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই দলটার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটকে একসময় শাসন করবে সেই স্বপ্নের পথে অগ্রগতি আশা জাগানিয়া। প্রথবারের মত কোন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলাটা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য তারই পুরস্কার।


লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/হুমায়ুন/পলাশ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com