যে কারণে আস্থা রাখবেন নৌকায়
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৭, ১৬:৩৯
যে কারণে আস্থা রাখবেন নৌকায়
আস‌িফ তালুকদার
প্রিন্ট অ-অ+

উন্নয়নের জয়যাত্রার মধ্য থেকে উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যতোটুকু প্রত্যক্ষ করা যায় তার থেকে ঢের বেশি উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করা যায় আপনি যদি আপনার দেশের বর্তমান অবস্থার সাথে ১০ বছর পূর্বের অবস্থা তুলনা করতে থাকেন। সচেতন বিবেক দিয়ে বিচার করুন, ১০ বছর আগে বাংলাদেশ কোথায় ছিল আর এখন কোথায় এবং এই ধারাবাহিতা অব্যাহত রেখে আপনি আগামী ১০ বছর পরে বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান।


শেখ হাসিনার সরকার সম্পর্কে বলতে গেলে বাঙালি জাতির ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান থাকতে হবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির ইতিহাসের পাতা থেকে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করে এ দেশে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল।


পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাথে বঙ্গবন্ধুর সব থেকে বড় সাদৃশ্য আমার কাছে মনে হয় নিজের জীবন বাজি রেখে অসহায় বাঙালির ভাগ্য উন্নয়নে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার ক্ষমতা। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেই স্বপ্ন লালন করে বাঙালি জাতির ভাগ্য উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকাকালীন পাঁচটি বছরই ছিল ১৯৭৫ সালের পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সব থেকে সফল সময়। অর্থাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল এই পাঁচ বছরের উন্নয়ন নীতির উপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রথমিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যার রূপকার ছিলেন শেখ হাসিনা।


১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুর নির্মাণকমাণসম্পন্ন করা, ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা সহ আরো অনেক উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে শেখ হাসিনার হাত ধরে। এই সময়ে দ্রব্যমূল্য ছিল ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এবং দেশ প্রথম খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্যে সার এবং সঠিক মানের ভালো বীজ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল। ২৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং যার ফলে মোবাইল টেকনোলজি সম্প্রসারিত হয়ে আমাদের দেশ প্রথম আধুনিকতার ডিজিটাল ছোঁয়া পায়। ধীরে ধীর মোবাইল ফোন বাজার দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হতে থাকে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল অপারেটর করার অনুমতি দিয়ে আকাশ সংস্কৃতিকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হয়। পিতার সাথে মাতার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়। কম্পিউটার আমদানি শুল্ক হ্রাস করায় কম্পিউটার আমদানি বাড়ে এবং দেশের মানুষ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ছোঁয়া পেতে শুরু করে।


মানুষ যখন উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছে তখন রাজৈতিক পটপরিবর্তন হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি-জামাত জোট। ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদী কার্যক্রম এবং দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দমননীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম বিপর্যস্ত ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।


২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন রেখে এসেছিল ৪৫০০ মেগাওয়াট। বিএনপি-জামায়াতের সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ৩২০০ মেগাওয়াটে। এখন আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৩৩৮৯মেগাওয়াট।


২০০৬ সালে গ্যাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল মাত্র ১৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বর্তমানে আমাদের দেশে আবিষ্কৃত ২৬ টি গ্যাসক্ষেত্রে ৩৮.০২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে, যেখান থেকে ২৭.১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য।


আমাদের দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার এখন ৭.২%, মাথাপিছু আয় ১৪৬৬ মার্কিন ডলার, দারিদ্রের হার কমে নেমে এসেছে ২৪.৮%। আমাদের দেশের বর্তমান খাদ্য উৎপাদন ৩৮৯.৯৭ লক্ষ মেট্রিক টন, যা যে কোনো সময়ের থেকে অনেক বেশি।


যোগাযোগ খাতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ হয়েছে এবং কিছু বৃহৎ প্রজেক্ট এগিয়ে চলছে। ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী উড়াল সেতু, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু, চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট উড়াল সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ অতিসত্বর শুরু হবে।


শেখ হাসিনা সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এটি বর্তমান সরকারের এক বড় চ্যালেঞ্জ। পদ্মা সেতুর প্রায় ৫০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।


অসংখ্য কষ্ট, অনেক বেদনা সয়ে আর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে একজন যোগ্য নেত্রী হয়ে ওঠার নাম শেখ হাসিনা। ভিন্নমাত্রার মানুষ তিনি। নানা অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতায় জীবনকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন। তাঁকে আর নতুন করে চিনিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে না। বাংলাদেশের জাতির পিতা নিহত হবার পর জননেত্রী দেশরত্ন খ্যাত শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকার হালটি সঠিকভাবে না ধরলে, এদেশের রাজনীতিতে হয়তো অন্যরকম ইতিহাস লেখা হতো।


আমাদের ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে একটু ফিরে তাকানো প্রয়োজন। ৫ জানুয়ারি, ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা শত শত গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ভাংচুর করেছে হাজার হাজার গাড়ী। মহাসড়ক সহ গ্রামের রাস্তার দু’পাশের হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলেছে। পুলিশ-বিজিবি-আনসার-সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। তাদের সহিংস হামলা, পেট্রোল বোমা, অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলায় নিহত হয়েছে শত শত নিরীহ মানুষ। সরকারী অফিস, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাতের দোকান এমনকি নিরীহ পশুও তাদের জিঘাংসার হাত থেকে রেহাই পায়নি। রেহাই পায়নি মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে হাজার হাজার পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিয়েছে। ট্রেনের লাইন উপড়ে ফেলে এবং ফিসপ্লেট খুলে শতশত বগি এবং রেল ইঞ্জিন ধ্বংস করেছে। নির্বাচনের দিন ৫৮২টি স্কুলে আগুন দিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ২৬ জনকে হত্যা করেছে। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগ সর্মথকদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে, আগুন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থকেরা।


কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যার ক্যারিসমেটিক নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে অব্যাহত রয়েছে আমাদের দেশের উন্নয়নের ধারা। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারণা থেকে বের হয়ে এসে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তথা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারণার সাথে বাঙালি জাতিকে প্রথম পরিচয় করিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।


অজ্ঞের মতন সিদ্ধান্ত নিয়ে নয় বরং বিজ্ঞের মতন সচেতন নাগরিক হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনাকেই যে উন্নয়নের মহাসড়কে যোগ দিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট হিসেবে দেখতে চান; নাকি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির যাঁতাকলে পড়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে স্থবির করে দেশটাকে দুর্নীতির আখড়া বানাবেন। আপনি যদি সচেতন হয়ে থাকেন, যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, যদি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে আপনার পছন্দ এবং একমাত্র পছন্দ হতেই হবে "নৌকা"।


লেখক : সাধারণ সম্পাদক, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ


বিবার্তা/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com