চলমান বৈশ্বয়িক মন্দা মোকাবিলা: বঙ্গবন্ধু কন্যার বিকল্প চাওয়া না বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক?
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২২, ১৯:৩৮
চলমান বৈশ্বয়িক মন্দা মোকাবিলা: বঙ্গবন্ধু কন্যার বিকল্প চাওয়া না বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক?
ওয়াসীম উদ্দিন জুয়েল
প্রিন্ট অ-অ+

গত এক যুগ আমরা তো ভালোই ছিলাম, সদ্য করোনা অতিমারীর ন্যায় মহা দুর্যোগ সামলে উঠছিলাম। তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অফিস-বেড রুম, শপিংমল-বিয়েবাড়ি-পাড়া-মহল্লায় আলোকসজ্জা, হাতে হাতে মোবাইল ফোন, পাড়ার দোকানে-সাধাণ মানুষের বাসায় ফ্রিজ-টিভি, পীপিলিকার পালের মত অটোরিক্সা চার্জ করার প্রয়োজন গত ১২ বছর আগেও ছিলো না। তখন কিন্তু সাধারণ ব্যবহার ও সীমিত শিল্প কারখানায় দেয়ার মত বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা কিংবা পরিকল্পনাও ছিলো না। তাইতো বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ দাবি করায় কানসাটে গুলি করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়, আবার ডেমরায় জনরোষ থেকে বাঁচতে সাংসদ সালাউদ্দিন সাহেব দৌড়ে পালান। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, পায়ে পায়ে বিদ্যুৎচালিত অটো, হাতে হাতে মোবাইল ফোন, প্রত্যন্ত এলাকার ঘরে ঘরে-পাড়ার দোকানেও ফ্রিজ-টিভি, অফিস-বেডরুম-ট্টেন-লঞ্চ-পাবলিক/প্রাইভেট গাড়ী শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। বিদ্যুৎ নির্ভর জীবনের এতো এতো আয়োজনের জন্য গত ২/৩ মাস পূর্বেও সরকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিয়ে এবং রেকর্ড ১৪৫০০ মেঃ ওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল। ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে রুপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল-পায়রা-তালতলীতে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পেকুয়ায় বায়োবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। ২০০৯ সালে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ থেকে বাংলাদেশ আজ পারমাণবিক বিদ্যুতের দেশ হতে যাচ্ছে।


এতো গেলো বিদ্যুৎতের কথা। এবার যদি খাদ্যের কথা বলি তাহলেও আমদানি নির্ভর গম ব্যতিত ধান-চাল, সব্জি, মাছ, মাংস, দেশী ফল উৎপাদন করে বাংলাদেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা দেখি। আবার যদি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলি তাহলে চোখ খোলা/বন্ধ থাকলেও আমরা ঘর থেকেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখতে পাবো। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ বাড়ির সামনের ব্যক্তিগত পাকাসড়ক-ব্রিজ-কালভার্ট, গৃহহীনদের জন্য পাকাবাড়ি, মহাসড়ক চার লেনে উন্নিত, সকল আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সড়কে ব্রিজ-দুই লেনের পাকাসড়ক, ট্রেনলাইন সম্প্রসারণ, ইউনিয়ন ভূমি অফিস-ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা পর্যন্ত সকল সরকারি অফিসে আধুনিক সুরম্য অট্টালিকা; জেলার সরকারি দপ্তর আজ আধুনিক নিজস্ব ভবন/অফিস; কোথায় লাগেনি উন্নয়নের জোয়ার? উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠীকে রক্ষায় পাউবোর নদী/সাগর তীরবর্তী টেকসই বাঁধ নির্মাণ, গ্রামে গ্রামে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা, মৃতপ্রায় নদী ও ভরাট খাল খনন করা হয়েছে। এভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ, সকল স্কুল কলেজের ভবন পাকাকরণ, ৩০ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাইমারী সরকারিকরণ, উপজেলা পর্যায়ে কলেজে সরকারিকরণ ও মডেল স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, অঞ্চল ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়/ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এভাবে সেক্টর অনুযায়ী চিন্তা করলে গত ১৩ বছরে পূর্বেকার ৩৭ বছরের তুলনায় বেশী কাজ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছাড়া এ উন্নয়নের মন্ত্র কি?


বর্তমানে বাংলাদেশ যে সমস্যার সম্মুখীন তা সম্পূর্ণ বৈশ্বিক ও প্রাকৃতিক। এখানে বাংলাদেশ সরকারের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের দেশপ্রেম ও নীতিনৈতিকতাহীনতার দায় বেশি। এদেশের মানুষ সুইস ব্যাংকে যেমন টাকা রাখে তেমনী ভারত-মালয়েশিয়া-দুবাই-কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যে টাকা পাচার করে বাড়ী, গাড়ী, প্রতিষ্ঠান গড়ছে। সাধারণ মানুষ ঘুষ দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘুষ/পার্সেন্টেন্স নেয়া, সরকারি সম্পদ যথেচ্ছা ব্যবহার ও আত্নসাৎ করা অধিকার মনে করে। রাজনীতিতে সেবার লেশমাত্র নেই আছে লুটপাট ও জবাবদিহি না করার অধিকার; বখাটে, ছিচকেও বড় নেতা হয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যায়। বড় নেতা আবার অধস্তন ছোট নেতার কাছ থেকে পদ/মনোনয়ন দিতে টাকা নেন। শিক্ষকরা পড়ানোর চেয়ে রাজনীতিক, প্রশাসক কিংবা কোচিং ব্যবসায়ী হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন; প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ, বোর্ড চেয়ারম্যান কিংবা উপাচার্য হয়ে নিয়োগ-বাণিজ্য, উন্নয়ন বরাদ্দ লোপাট ও অফিসে ভোগ ও লুটপাটের মহোৎসব চালাচ্ছেন। ব্যাবসায়ী ও পরিবহন মালিকরা ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবে পরিণত হয়েছেন; ট্যাক্স ফাঁকি দিতে যতরকম ফাঁকফোকর আছে তা প্রয়োগ করে, ঋন নিয়ে ফেরত না দিয়ে আবার সিন্ডিকেট ও মজুতদারি করে, ভ্যাজাল খাদ্য ও ফিটনেসহীন যানবাহন চালু রেখে, দফায় দফায় দাম ও ভাড়া বৃদ্ধি করে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠিয়েছেন। সর্বত্রই নীতিহীন ও দুর্নীতিবাজদের আধিপত্য, সবাই কিন্তু বাংলাদশী এবং ৯৯% আবার ধর্মীয় অনুভূতি সম্পন্ন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক।


একসময়ে ৭-১০ কোটি লোকের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য পীড়িত বাংলাদেশ আজ ১৭ কোটি জনসংখ্যায় উন্নীত হলেও অভূতপূর্ব অবকাঠামো উন্নয়ন করে গোসম্পদ, মৎস্য সম্পদ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ ঘরের সামনে কালভার্ট-আধাপাকা রাস্তা, সকল সাঁকো/পুল/খেয়া তুলে ব্রিজ/সেতু থেকে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের অহংকার স্বপ্নের পদ্মা সেতু; পাড়া-মহল্লা-গ্রামীণ জনপদে পাকা রাস্তা থেকে স্বপ্নের মেট্রোরেল ও নদীর নীচে কর্ণফুলী ট্যানেল নির্মাণ তো গত ১৩ বছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারেরই সাফাল্য?


প্রত্যেক বছর একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে, স্বল্প আয়তনে ১৭ কোটির বিপুল জনসংখ্যার ও অভ্যন্তরীণ চাপ মোকাবিলা করে, গড়ে ৭.৫% প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প কোন নেতা কি বাংলাদেশে আছে? আর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানী ও খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বিশ্বের ধনি-দরিদ্র অধিকাংশ দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও জ্বালানি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎতে লোডশেডিং এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া উপায় কি?


যুদ্ধ, মহামারী, অর্থনৈতিক মন্দা ও নানান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাম্প্রদায়িক উস্কানী, সর্বস্তরের জনগণের দেশপ্রেমহীনতা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় মোকাবিলা করে বাংলাদেশেকে এগিয়ে নিয়ে চলা জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প খোঁজা বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঢুকিয়ে দেয়ারই নামান্তর।


লেখক-
ওয়াসীম উদ্দিন জুয়েল
সরকারী কর্মী, সাবেক ছাত্রনেতা


বিবার্তা/জেএইচ


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com