সৃষ্টির সেরা জীব: মানুষ?
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২০, ১০:১৯
সৃষ্টির সেরা জীব: মানুষ?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

আশৈশব আমরা জেনেছি মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু আমাদের কর্মকাণ্ডে কতটুকু সার্থকভাবে তার প্রমাণ রাখতে পেরেছি সেই প্রশ্ন থেকেই আজকের এই লেখাটি।


সেরা জীব হিসেবে আমরা পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীকুলের কতটুকু পরিচর্যা করতে পেরেছি? আমরা কি পেরেছি তাদের জীবন নির্বাহে আমাদের ন্যুনতম দায়িত্ব পালন করতে? আমরা শুধু আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এসব মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার অভিপ্রায়ে পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীকুলের অস্তিত্বের কথা যেন অনেকটা ভুলেই গিয়েছি। নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা চিন্তা করে উল্টো হানা দিয়েছি তাদের স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়ায়। নাকি শ্রেষ্ঠ জীবের এই গুণগুলো থাকতে নেই?


আজ করোনাভাইরাসের বিশ্বব্যাপী সংক্রমণের পর মানুষ যখন নিজেদের চলাচল সীমিত করে গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে, তখন বোঝা যাচ্ছে প্রকৃতি কত নির্মল, কত সুন্দর। কতটা অবিবেচকের মতো আমরা নির্যাতন করেছি আমাদের প্রকৃতিকে। নিজেদের উন্নয়নের চূড়ায় তুলতে গিয়ে ধ্বংস করছি প্রকৃতি, ধ্বংস করেছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ধ্বংস করছি গাছ-গাছালি এবং পশুপাখির অসংখ্য প্রজাতি। আর কত বস্তুগত উন্নয়ন এবং বিলাসিতা প্রয়োজন? নিজেদের বাঁচার তাগিদে এ প্রশ্ন রাখছি বিশ্ব নেতাদের মাঝে।


প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের কক্সবাজারের সমুদ্র তীরের কাছাকাছি ডলফিনগুলো নেচে বেড়াচ্ছে অবলীলায়। এমন দৃশ্য আজ পৃথিবীর সর্বত্রই বিরাজ করছে। এমনটিতো হবার কথা ছিল বনে-জঙ্গলে, নদী সমুদ্র কিংবা প্রাণীদের সকল আবাসস্থলে। তাই নয় কি?


হয়তোবা গৃহবন্দি না থাকলে এই বোধোদয়টুকু আমার নাও হতে পারতো। যাদের নিয়ন্ত্রণে পৃথিবীর সকল কর্মকাণ্ড আজ পরিচালিত হচ্ছে তারা যতদিন না এই সহজ বিষয়টুকু নিয়ে ভাববেন বা কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন ততদিন পর্যন্ত আমি অন্তত শ্রেষ্ঠজীব মানতে নারাজ। কেননা প্রকৃতির স্বাভাবিকতাকে বিনষ্ট করে, অন্য জীবকে ধ্বংস করে, অন্য জীবের বাঁচার রাস্তা সংকীর্ণ করে দিয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মানতে আমি পারছি না, তার যোগ্য আমি নই।


আমরা মানুষ হয়ে মানুষকে ধ্বংস করার জন্য প্রতিনিয়ত তৈরি করে যাচ্ছি অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও পরমাণু বোমা। করছি যুদ্ধ, মারছি মানুষ, ধ্বংস করছি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে। এরপরও নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ মনে করা যায় কি?


হয়তোবা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আমাদের জীবনযাত্রা, গতিবিধি, চিন্তা-ভাবনা সবকিছু পাল্টে দেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষমতার দাপট, যুদ্ধ-বিগ্রহ পুরনো অধ্যায়ের সমাপ্তি টেনে একবিংশ শতাব্দীতে আমরা হয়তো নিয়ে আসছি হাজার বছর আগের সেই পৃথিবী। যে অধ্যায়ে একত্রিত হয়ে হয়তোবা আমরা গড়তে যাচ্ছি এক নতুন বিশ্ব যেখানে মুছে যাবে ক্ষমতার দম্ভ কিংবা সীমান্তের ব্যবধান। আমরা হয়তো ভাবতে শিখবো পৃথিবী আমাদের নতুন বন্ধু। যাকে নিয়ে গড়ব আমরা নতুন মানব সভ্যতা।


লেখক: ড. সিদ্ধার্থ দে
সহযোগী অধ্যাপক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/জহির

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com