জাপাকে নিয়ে আর বেচাকেনা চলবে না: জিএম কাদের
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ১৮:৩০
জাপাকে নিয়ে আর বেচাকেনা চলবে না: জিএম কাদের
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে বেচাকেনা চলবে না। ভবিষ্যতে মনোনয়ন বাণিজ্য করতেও দেয়া হবে না। কেউ এ অপচেষ্টা করতে চাইলে সবাইকে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।


বুধবার দুপুরে রাজধানীর এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে চার দিনব্যাপী বিভাগীয় সাংগঠনিক সভার তৃতীয় দিনে জাপার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।


জিএম কাদের বলেন, বিগত নির্বাচনে পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয় নির্বাচনকালে যারা ছিলেন পরিস্থিতির কারণে তাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল না। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ থাকবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আসবে, তাদের জায়গা দিতে হবে। তবে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হবে না। আপনারা মতামত দিলে এক নেতার একপদ নীতি ফলো করতে পারি।


জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি পারিবারিক পরিচয়ে দলের নেতৃত্ব দিতে চাই না। আপনারা না চাইলে আমি নেতৃত্ব দেব না। আমি চাই এই দলের মালিক হবেন আপনারা সকলে। আমি দলের সকল কার্যক্রমে আপনাদের সম্পৃক্ত করতে চাই। আমি ক্ষমতার লোভী নই, অর্থলোভী নই। দলকে কাউকে বিক্রি করতে দেয়া যাবে না। কেউ করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।


সভার প্রারম্ভে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, শৃঙ্খলার অভাবে আমরা ৯৬ সাল থেকে ক্ষমতায় আসতে পারি নাই। এরশাদের সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগ ক্ষমতার চেহারা দেখতে পারতোনা। আমাদের সহযোগিতায় ক্ষমতায় এসে তারাই আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে।


তিনি বলেন, কোনো জেলা বা উপজেলার নেতার উপর যদি তারা হাত তুলে তাহলে আমাদের জানাবেন। আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


তিনি বলেন, ছিয়ানব্বই সালে রাতের ষড়যন্ত্র করে দলের বারোটা বাজিয়ে নিজে মন্ত্রী হয়েছেন। আমরা আগামীতে আর কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হবো না।


সভায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা নেতা জাহাঙ্গীর আলম ও জাপা ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুল আলম মাস্টার বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে সভার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেয়ায় সভাস্থল থেকে জাপার কেন্দ্রীয় নেতা মাখন সরকারকে বের করে দেন পার্টির মহাসচিব। পরে শাসমুল আলম মাস্টারকে বক্তব্য সংক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন।


সভায় চাটখীল উপজেলার সহসভাপতি আবু জাফর খান বলেন, সকালে কমিটি দিয়ে বিকেলে বিলুপ্তি করা হবে না। কথা ঠিক রাখতে হবে।


জাপার ভাইস-চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা বলেন, গতবার আমি সংসদ সদস্য ছিলাম। এবার আমার বিরুদ্ধে ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমার আসনে কেনো ভরাডুবি হলো তা তদন্ত করা হোক।


কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, এ ঘরোয়া সভায় সরকার বিরোধী বক্তব্য ও স্লোগান দিলে হবে না, সংসদে বলুন। জাপাকে সত্যিকারের বিরোধীদল হিসেবে গড়ে তুলেন।


নোয়াখালী সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দীন মিন্টু বলেন, যাদের পুরো পরিবার অন্যদল করে তাদের কাউকে জেলা বা উপজেলার দায়িত্ব দেয়া যাবে না।


হবিগঞ্জ সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে উড়ে এসে জুড়ে বসে সংসদ সদস্য ও দলের বড় বড় পদ পেয়ে যান। তা থেকে পার্টির সিনিয়র নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে।


এসময় আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি, পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ, জহিরুল আলম রুবেল, নজরুল ইসলাম বাবর প্রমুখ।


বিবার্তা/জাহিদ/আকবর

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

বি-৮, ইউরেকা হোমস, ২/এফ/১, 

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com