সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলো ঐক্যফ্রন্ট
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৪৭
সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলো ঐক্যফ্রন্ট
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোর সম্পাদকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ সহযোগিতা চাওয়া হয়।


সভায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে এবং সহযোগিতা করতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।


মতবিনিময় শেষে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এটি একটি মূল্যবান সভা ছিল। কেননা তারা (সম্পাদকেরা) বিভিন্ন ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। আমাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের কাছ থেকে তারা কি আশা করেন, তা জানতে চেয়েছেন।


গণফোরাম সভাপতি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি আছি, যারা নির্বাচন করতে যাচ্ছি তাদেরও কর্তব্য আছে। দলগুলোকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে যেন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়।


তিনি বলেন, সম্পাদকদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কী কী জিনিস দেখেছেন। সম্পাদকেরা মনে করেন, এবার আমাদের (ঐক্যফ্রন্ট) বিরত থাকতে হবে, সবাইকে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করতে হবে যেন জনগণ সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।


এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অবাধ ও নিরপেক্ষ যেন হয় সেটাই তাদের লক্ষ্য। এটাকেই তারা সত্যিকার অর্থে মূল্যবান মনে করেন। ঐক্যফ্রন্টের সেই চেষ্টা থাকবে।


এ সময় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেসব সহযোগিতা দরকার তার সবই সম্পাদকদের কাছে চাওয়া হয়েছে।


মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান তৌফিক ইমরোজ খালিদী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, দিনকাল সম্পাদক রেজোয়ান সিদ্দিকী।



এছাড়া এ মতবিনিময়ে অংশ নেন যুগান্তরের চিফ রিপোর্টার মাসুদ করীম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ইনকিলাবের মুন্সি আবদুল মান্নান, নিউজ টুডের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত হোসেন লিটন, সমকালের লোটন একরাম, সাপ্তাহিকের গোলাম মোর্তজাসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রের সিনিয়র সাংবাদিকরা।


ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, রয়টার্সের সিরাজুল ইসলাম কাদির, এএফপির শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন মতবিনিময় অনুষ্ঠানে।



জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, তানিয়া রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মনটু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ।


এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শামা ওবায়েদসহ ঐক্যফ্রন্টের শরিক নেতারাও ছিলেন।


সম্পাদকরা যা বললেন


মতবিনিময় সভা শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে এসে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলোতে কোরআন তেলাওয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কিনা? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে আমাদের সামনে তুলে ধরবেন কিনা। আমি জানতে চেয়েছি নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর উৎসব রয়েছে। তারা জয়ী বা পরাজিত হলে কিভাবে পালন করবেন। এসব প্রশ্নের নোট তারা নিয়েছেন, পরে উত্তর দেবেন।


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, আমি মতবিনিময় সভায় একটি প্রশ্ন করেছি, ঐক্যফ্রন্ট যদি জয়লাভ করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি। আমার মনে হয় এই ফ্রন্ট তথা সবাই যারা নির্বাচন করছে তাদের বলতে হবে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে তারা যদি বিজয়ী হন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে। যেমন আমরা বৃটিশ পার্লামেন্টারি সিষ্টেম অনুসরণ করার চেষ্টা করি, ভারতে হোক, বৃটেনের হোক বা অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সবাই কিন্তু আগে থেকে জেনে যান যে, এই দল বা এই জোট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবে। সেই বিষয়টা কিন্তু এই ফ্রন্টকে পরিষ্কার করতে হবে। সেটা তারা এখনো পরিষ্কার করেননি।



বৈঠক শেষে সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মর্তুজা বলেন, শেষ পর্যন্ত ঐক্যফ্রন্ট যেন নির্বাচন থেকে সরে না আসে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে এই আহবা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বলে সম্পাদকরা আশ্বস্ত করেছেন নেতাদের।


বিবার্তা/হাসান/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com