সমাধানের আগেই তফসিল একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫১
সমাধানের আগেই তফসিল একতরফা নির্বাচনের ইঙ্গিত: রিজভী
ফাইল ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নিম্ন আদালত সরকারের আজ্ঞাবাহী হওয়ার কারণে সারা দেশে লাখ লাখ নেতাকর্মীকে প্রতিদিন হয় কোর্টের বারান্দায়, না হয় কারাগারে থাকতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়ার আগেই আকস্মিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।’


শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'সব বিরোধী দলের দাবি ছিল, মাঠ সমতল এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করে তফসিল ঘোষণা। এমনকি পর্যাপ্ত সময়ও রয়েছে কমিশনের হাতে। রাজনৈতিক দলগুলোর অনুরোধে নির্বাচনের পিছিয়ে দিলে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটত না।’


বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, 'নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কিছুই নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাইকারি হারে গ্রেপ্তার অব্যাহত রয়েছে। পুলিশি তল্লাশির নামে বাড়িতে বাড়িতে তাণ্ডব চলছে। চারদিকে শুধু আতঙ্ক আর ভয়। দেশে আইন, বিচার সবই একজন ব্যক্তির হাতের মুঠোয় বলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’


তিনি বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাবেন না বলে প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী ও মহাজোটের নেতারা মুখস্থ কথাই আউড়িয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু নিজেরাই একের পর এক সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। মন্ত্রী ও অন্য সাংবিধানিক পদধারীরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী সাংবিধানিক কোনো পদে আসীন ব্যক্তি অথবা কোনো মন্ত্রী রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি কার্যকর হয়। এ ক্ষেত্রে চাকরিজীবীদের মতো পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা বা না করার কোনো বিধান নেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন, কিন্তু আবার দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন।’


রিজভী বলেন, 'সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক আওয়ামী কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি দণ্ডিত হলেও তাঁদের মন্ত্রিত্ব ও এমপিত্ব বজায় থাকে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে সুচিকিৎসার অধিকারকেও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আবারও একতরফা নির্বাচন করতে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে জোরপূর্বক কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কী অদ্ভুত ব্যাপার! খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ছাড়পত্রের প্রয়োজন পড়েনি। ছাড়পত্রে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানো হয়েছে পিজির চিকিৎসক নন এমন একজন শিক্ষার্থী-চিকিৎসক দিয়ে। এমনকি খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগরে নেওয়া হয়েছে, তাঁর মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তা জানেনও না। খালেদা জিয়ার ওপর নানামুখী চাপেরই এটি একটি অংশ। সরকার নিজ উদ্দেশ্য সাধনে খালেদা জিয়ার ওপর নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি করছে। সুতরাং চিকিৎসা শুরু না হতেই তড়িঘড়ি করে তাঁকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সরকারের প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়ার জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’


রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও আশপাশের জেলায় চলছে গ্রেপ্তার অভিযান, এমন অভিযোগ করেন রিজভী। ঢাকায় ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গত চার দিনে ২৩০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহদপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।


বিবার্তা/হাসান/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com