কল্পনাতীত শাস্তির হুঁশিয়ারি দিলেন ড. কামাল
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮, ২১:৪১
কল্পনাতীত শাস্তির হুঁশিয়ারি দিলেন ড. কামাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রিন্ট অ-অ+

আওয়ামী লীগ তথা সরকারদলীয় নেতাদের 'কল্পনাতীত' শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট'র উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন। শনিবার চট্টগ্রামের কাজীর দেউরিতে জনসভায় তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন সবাই চায়। জনগণ হাত তুলে রায় দিয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অমান্য বা উপেক্ষা করলে, যে শাস্তি আপনারা পাবেন তা কল্পনাও করতে পারবেন না।


বন্দরনগরীর নূর আহমেদ সড়কে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে তিনি বলেন, 'তারা (সরকার) মনে করে নিজেরাই দেশের একমাত্র মালিক। এটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আসলে এটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। দেশের মালিক হলো জনগণ আর তারা সেবক। দেশ সেভাবেই চলবে যেভাবে জনগণ চাইবে। দেশের মালিকরা সচেতন হয়েছে, জেগে উঠেছে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করলে যে শাস্তি পেতে হবে তা তারা কখনো কল্পনাও করতে পারছেন না।'


ড. কামাল বলেন, বার বার সংবিধান লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এর জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সংবিধান লঙ্ঘনের জবাবদিহি আদায় করে ছাড়বে জনগণ।


তিনি বলেন, আমরা লালদীঘি মাঠে জনসভা করতে চেয়েছিলাম। অনুমতি দেয়া হয়নি। প্রায় চার ঘণ্টা কষ্ট করে দাঁড়িয়ে জনগণকে বক্তব্য শুনতে হয়েছে। এর জন্য কৈফিয়ত আদায় করতে হবে। শাস্তি দিতে হবে। লালদীঘি মাঠ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটাও জনগণের সম্পতি। এখানে জনসভা করতে না দিয়ে সংবিধান লংঘন করা হয়েছে। অসাংবিধানিক কাজ একটার পর একটা হচ্ছে।


ড. কামাল বলেন, যারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে অসাংবিধানিক কাজ করছেন, তাদের শাস্তি দিতে হবে। একদিন না একদিন বিচার করতেই হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর বলা হয়েছিল আরেকটা নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু এরপর ৫ বছর নির্বাচন দেয়া হয়নি। এটা সংবিধানবিরোধী ও ঘোরতর অপরাধ। জনগণ অতীতকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে ভবিষ্যৎমুখী হওয়ায় চিন্তা করেছে। এ জন্য তারা পার পেয়ে গেছে। এবার সেটা হবে না।


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়ার নয়, হওয়ার ব্যাপার বলে মন্তব্য করেন ড. কামাল হোসেন।


জনসভায় বিশেষ অতিথি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জনগণকে সরকার ভয় পায় বলেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভার অনুমোদন নিয়ে গড়িমসি করেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন দিলে জনগণ ভোট দেবে। যাকে খুশি তাকে দেবে। জনগণ আর ভাঙা নৌকায় উঠবে না।


মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ভয় পেয়েছে। এমন ভয়, সভাও করতে দেয় না। জনগণকে আটকে রেখে কোনো স্বৈরশাসক টিকে থাকতে পারে না। দেশে এখন নতুন লড়াই শুরু হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের সেই লড়াই করছে জনগণ।


তিনি সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, এত ভয় কেন? জনসভা তো গণতন্ত্রের অংশ। আপনারা নাশকতার কথা বলেন। নাশকতা, সহিংসতা তো আপনারা করছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যেদিন বাতিল হয়, সেদিন থেকেই দেশকে অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।


বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন হবে। জনগণ ভোট দেবে। যাকে খুশি তাকে দেবে। এটাই তো নিয়ম। কিন্তু আপনারা নির্বাচন দিতে চান না। কারণ আপনারা জানেন, জনগণ ভোট দিতে গেলে আপনাদের ভাঙা নৌকায় আর উঠবে না।


গুম ও খুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক গুম হয়েছে। অনেককে হত্যা করা হয়েছে। হাজারো মানুষ কারাগারে। তবু মানুষ দমেনি। রাস্তায় নেমে এসেছে। জনগণ জেগে উঠেছে। জয় জনগণের হবে। বেগম খালেদা জিয়া তখনই বলেছিলেন, আমি নাও থাকতে পারি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে দেশকে রক্ষা করতে হবে। সেই ঐক্য এখন গড়ে উঠেছে। সাত দফা দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে জনসভা বানচালের জন্য। এতে সফলতা আসেনি। জনগণকে বাধা দিয়ে আটকে রাখা যায় না। জাতির অস্তিত্ব তখনই টিকে থাকে যখন স্বাধীনতা রক্ষা হয়। আজকে স্বাধীনতা রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। মামলা অনেক দিয়েছেন। লাভ হবে না। জনগণ জেগে উঠেছে।


জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমাদের ৭ দফা মানা ছাড়া, আমাদের সাথে আলাপ করা ছাড়া তফসিল যদি ঘোষণার করেন, তাহলে বুঝব যে, আপনি ও আপনার সরকার নির্বাচন বানচাল করতে চান। আমরা নির্বাচন করতে চাই, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই।


আবদুর রব বলেন, সরকারকে বলব, নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করবেন না। তফসিল ঘোষণা আলোচনা না করে করলে, দেশের ১৬ কোটি মানুষকে যদি সংকটের ভেতরে ঠেলে দেন, এর সমস্ত দায়-দায়িত্ব আপনাদের বহন করতে হবে।


নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ওরা (সরকার) বলে তোরা যতই দাবি দিস, ৭ দফা ১১ দফা- আমরা মানবো না। আর আমরা চট্টগ্রামে বলতে এসেছি, দাবি মানতে হবে। ওরা বলছে, আমাদের অধীনেই নির্বাচন হবে, আমরা সরকারে থাকবো, আমাদের কেউ পরিবর্তন করতে পারবো না। আর আমরা বলতে এসেছি, তোমাদের অধীনে নির্বাচন হবে না। আমরা সমস্ত জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তোমাদেরকে গদি থেকে নামিয়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এই আন্দোলনের আহবান জানাতে আমরা এখানে এসেছি।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য ও জনগণকে ভয় পায়। আজকে যে ক্রান্তিকাল তা থেকে উত্তরণের নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে হবে। বিদেশি বন্ধুরাষ্ট্ররা বলেছেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপিসহ বিরোধী দল ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে পারে না।


স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এই ঐক্যের মাধ্যমে সরকারকে বাধ্য করব সংলাপে বসার জন্য এবং সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার করে তার অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। তা নাহলে দেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।



মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইফুল আলম ও বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদের পরিচালনায় জনসভায় বিএনপির মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সুকোমল বড়ুয়া, গোলাম আকবর খন্দকার, এসএম ফজলুল হক, মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, আওম শফিকউল্লাহ, একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, জানে আলম, জেএসডির তানিয়া রব, আবদুল মালেক রতন, বেলাল আহমেদ, শফিক উদ্দিন স্বপন, গোলাম জিলানী, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, সোহরাব হোসেন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ ও আবম মোস্তফা আমিন বক্তব্য দেন।


গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, সাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাবেক সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী, ওয়াদুদ ভুঁইয়া, লুৎফর রহমান কাজল, গাজী শাহজাহান জুয়েল, ম্যামা চিং, রেহানা আখতার রানু, নুরে আরা সাফা, সাকিলা ফারজানা, কোরবান আলী, আবু সুফিয়ান, ভিপি নাজিম উদ্দিন ও শাহ আলমও বক্তব্য দেন।



জনসভায় খেলাফত মজলিসের এমএ রকিব, মাওলানা মজিবুর রহমান, বিকল্পধারা একাংশের মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা শওকত আমীন, গণফোরামের মোশতাক আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের জাহিদুর রহমান, গণফোরামের রফিকুল ইসলাম পথিক, বিএনপির ফরহাদ হালিম ডোনার, মামুন আহমেদ, সানাউল্লাহ মিয়া, দীপেন দেওয়ান, নাজিমউদ্দিন আলম, শামীমুর রহমান শামীম, মীর হেলাল উদ্দিন, কাদের গনি চৌধুরী, রফিক শিকদার, আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, 'জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট'র সমাবেশ উপলক্ষে পুরো চট্টগ্রাম নগরজুড়ে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। নগরীর মোড়ে মোড়ে ছিল পুলিশের পাহারা। কোনো কোনো স্থানে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।


বিবার্তা/হাসান/কামরুল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com