শেরপুর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ফের বিতর্ক
প্রকাশ : ০৭ মে ২০১৮, ২২:৪৩
শেরপুর ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে ফের বিতর্ক
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

বিতর্কিতদের দিয়ে আবারো শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সদ্য ঘোষিত এই কমিটির সভাপতি সোয়েব হাসান শাকিলের বিরুদ্ধে চাঁদার দাবিতে শিক্ষককে লাঞ্ছনা ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।


অভিযুক্ত এই দুই জনের নাম উল্লেখ করে গত রবিবার মধ্যরাতে শেরপুর ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর সকাল থেকেই জেলা ছাত্রলীগের বঞ্চিত নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল শুরু করে। সোমবার দুপুরে ওই দুই নেতাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।



সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাট বলেন, সভাপতি সোয়েব হাসান শাকিল গত মাসে চাঁদার দাবিতে স্থানীয় জমসেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম রেজাকে মারধর করে। ওই ঘটনায় শাকিলসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলাও করেছেন অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম।



অন্যদিকে, সদ্য মনোনীত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়। বলা হয়, রেজার বড় ভাই মো. রুহুল আমিন শেরপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ছাত্রদলের নেতা। তার বাবা মো. আমজাদ হোসেনও জেলা বিএনপির রজানীতিতে সক্রিয়। তিনি ২০০১ সালের নির্বাচনে রাজাকার কামারুজ্জামানের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চেয়ে প্রচারণাও চালিয়েছেন।



কাউকে কোনো কিছু না জানিয়েই রাতের আঁধারে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম সম্রাট।


সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন দাবি করেন, বিতর্কিত এই নেতাদের বহিষ্কার করে এই কমিটি বাতিল করতে হবে। আওয়ামী পরিবার থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ছাত্রদের নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি করতে হবে।


এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান বাপ্পী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে স্থগিত হওয়া ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করা হয়েছে কিনা? গণতান্ত্রিকভাবে গঠন না করে রাতের অন্ধকারে কেন কমিটি দেয়া হচ্ছে?


জেলা ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বায়েজিদ হাসান অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রলীগ এখন জাতীয় সংসদের হুইপ স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিকের পকেট কমিটিতে পরিণত হয়েছে। তার ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য জেলার আওয়ামী পরিবারগুলোকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে, অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার দাবি জানানো হয়। ‘প্রকৃত’ নেতাকর্মীদের নিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠনের জোর দাবি জানান সংগঠনটির সাবেক নেতারা।



এ সময়, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাদিম সরকার, হাসিবুর রহমান হাসিব, মোস্তাক আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন রিপন, আব্দুল আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


এদিকে, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি সোয়েব হাসান শাকিল ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।


উল্লেখ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। এতদিন পর কোনো সম্মেলন ছাড়াই গত ফেব্রুয়ারিতে সোয়েব হাসান শাকিলকে সভাপতি ও মতিউর রহমান মতিনকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বঞ্চিতদের তোপের মুখে ১১ ঘণ্টা পরই ওই কমিটি স্থগিত করা হয়।


ওই সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সমালোচনা ও কটুক্তি এবং যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব তদন্ত করতে কেন্দ্র থেকে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গিয়েছিল সেখানে। ওই কমিটি প্রতিবেদন দিলেও তা প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওই কমিটি বাতিল করা হয়েছে কিনা তাও স্পষ্ট করা হয়নি।


এই অবস্থায় গত রবিবার রাত দুইটার দিকে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত নতুন এই কমিটি প্রকাশ করা হয়।


বিবার্তা/হাসান/কামরুল


<<শেরপুরে ফের বিতর্কিতদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের পাঁয়তারা

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com