নরসিংদী ক‌লেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বিভ্রান্তি
প্রকাশ : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৭:৫৫
নরসিংদী ক‌লেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বিভ্রান্তি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনে ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক রাব্বির হোসেন অতুলের সাংগঠনিক পদবী থাকা-না-থাকাকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসহাক খলিল বাবু ও সাধারণ সম্পাদক এহসানুল ইসলাম রিমনের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিভ্রান্তিটি আরো ঘনীভূত হচ্ছে।


সম্প্রতি নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যথাক্রমে শিব্বির আহমেদ শিবলী ও রাব্বির হোসেন অতুলের নাম ঘোষণা করা হয়। তবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অতুলের নাম ঘোষণার পরই জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসানুল ইসলাম রিমন আপত্তি জানান এবং কমিটিতে স্বাক্ষর না করেই সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। ওই রাতেই রিমনের বাড়ির সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।


প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের রাজনীতি করা এবং মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসানুল ইসলাম রিমন বিবার্তাকে বলেন, যার বিরুদ্ধে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নেশা করার ছবি এবং অস্ত্রসহ ছবি প্রকাশ পেয়েছে, এমন ব্যক্তি শুধু সংগঠনই নয়, দেশের জন্যও ক্ষতিকারক। একে সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেনে নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না।


কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কারো নির্বাচিত হওয়ার খবরের সত্যতা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সে (অতুল) সাধারণ সম্পাদক হতে পারেনি। কারণ, আমি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছি, আমি কোনো কমিটি অনুমোদন দিয়ে স্বাক্ষর করিনি। কিন্তু আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য চাচ্ছিলেন অতুলকে নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করতে। কিন্তু আমি কোনো কমিটিতে স্বাক্ষর দেইনি। সুতরাং বাস্তবিক অর্থে নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের কোনো কমিটি হয়নি।


এদিকে সম্মেলনের পর থেকেই নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক অতুল এবং তার অনুসারীরা তাকে ‘নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে প্রচার শুরু করেছেন। ওই কমিটির বৈধতা দাবি করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসহাক খলিল বাবু বলেন, এই কমিটি মাইকে ঘোষণা দিয়েছি আমি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেকে করছেন। তবে তার (অতুল) বাবা ১৪ বছর জেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তার বাবা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছেন এবং এখনো তিনি আমাদের শহর আওয়ামী লীগের ৩ নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি। তার দাদা আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার ফুফাতো ভাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক। আমার মনে হয়, পারস্পরিক খারাপ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে কেউ কেউ এই অভিযোগগুলো করছেন।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতুলের কিছু বিতর্কিত ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক সংশ্লিষ্ট যে ছবির কথা বলা হয়েছে সেখানে অন্য ছেলের হাতে সিগারেট রয়েছে, অতুলের হাতে নয়। শর্টগানসহ যে ছবিটা দেখা গিয়েছে সেটা লাইসেন্সকৃত এবং সেটি তার এক বড়ভাইয়ের, যা তুলের হাতে ছিল না, তার বন্ধুদের হাতে ছিল।


ছাত্রদল নেতার সাথে অতুলের ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, তার বামের যে ছেলেটি ছিল সে ছাত্রদল করলেও আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আবার তার বামে যে লোক তিনি আমাদের শহর আওয়ামী লীগের সদস্য। কোনো কারণে ওই ছেলেটির পাশে গেলে কেউ ছবিটি তুলেছে।


কমিটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করেছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রিমন স্বাক্ষর করেননি, কিন্তু মন্ত্রীর সামনে যখন কমিটি ঘোষণা দেয়া হয় তখন বিচার-বিশ্লেষণ করেই নিশ্চয়ই করা হয়। সেখানে মন্ত্রী স্টেজে থাকা অবস্থায় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী একজন লাঠিসোঠা ও বৈঠা নিয়ে প্রবেশ করে। তখন তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন প্রার্থী অতুলকে সমর্থন করে এবং তখন সে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক হয়। তখন পর্যন্ত রিমন স্টেজে ছিল। পরে যখন আমি মাইকে কমিটি ঘোষণা করবো তখন রিমন ছিল না।


যার বিরুদ্ধে এতসব অভিযোগ সেই অতুলের সাথে কথা হয় বিবার্তার। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিকভাবে আমরা আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত। স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করছে।



এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শের বাইরের কেউ ছাত্রলীগের নেতা হতে পারবে না। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে দেখতে হবে। কারো বিরুদ্ধে যদি ছাত্রদলের রাজনীতি করা, মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অভিযোগ থেকে থাকে তবে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।


বিবার্তা/ওরিন/হুমায়ুন/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com