আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড়
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩২
আওয়ামী লীগের উপ-কমিটি নিয়ে সমালোচনার ঝড়
তৌফিক ওরিন
প্রিন্ট অ-অ+

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বিভিন্ন উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও সদস্যদের নামের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।


অভিযোগ উঠেছে, দলের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক নেতাদের একটা বড় অংশকে দলীয় পদ থেকে বঞ্চিত এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভু্ক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা।


বলা হচ্ছে, বিতর্কিত এসব উপ-কমিটিতে দলের দুর্দিনের পরীক্ষিত কর্মী বা ১/১১সহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামের নেতাদের জায়গা হয়নি। এমনকি গতবার দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত ৬৩ জন সহ-সম্পাদকের মধ্যেও মাত্র ১২-১৩ জন ছাড়া সবাই বাদ পড়েছেন। অথচ সক্রিয় কর্মীদের পেছনে ফেলে এবং একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে উপ-কমিটিতে ঠিকই ঢুকে পড়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। অথচ ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯ সালের ২৯নং আইনের ৪৭নং ধারার ৪নং উপ-ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, “কোন শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারিবে না।”


এই আইন লঙ্ঘন করেই আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির ২৮নং সদস্য মনোনীত হয়েছেন মশিউর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির ২৩নং সদস্য মনোনীত হয়েছেন ড. তুহিন ওয়াদুদ এবং একই কমিটির ২৪নং সদস্য হয়েছেন অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন।


এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে অধ্যাপক মোরশেদ হোসেন ও মশিউর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অধ্যাপক মোরশেদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং অপরজন ফোন ধরেননি। তবে কথা বলেন ড. তুহিন ওয়াদুদ। উপ-কমিটিতে স্থান পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বিবার্তাকে বলেন, “আমার একজন প্রিয় বড়ভাই টিপু মুন্সি অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য-সচিব। উনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করেন। উনি কমিটির করার পূর্বে আমাকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা বলেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম নির্বাচনের আগে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করার জন্য কমিটি গঠন করা হবে। সেই কারণে আমি কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলাম।”


তিনি আরো বলেন, “সেটা আমার বোঝার ভুল হয়ে থাকতে পারে। কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরিরত কেউ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারবে না। বিষয়টি আমি অবহিত হওয়ামাত্রই আমি মৌখিকভাবে কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে অবহিত করেছি। আগামীকাল আমি ডাকযোগে পদত্যাগপত্র পাঠাবো।”


একইভাবে তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য হয়েছেন ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের সহকারী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে ছাত্রজীবনে শিবিরের সাথে সখ্যের অভিযোগ রয়েছে। তবে সেই অ‌ভি‌যোগ‌কে ‘ভি‌ত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে দা‌বি ক‌রেন তি‌নি।


শিক্ষকদের সরাস‌রি ক্ষমতাসীন দ‌লের ক‌মি‌টি‌তে আসা প্রসঙ্গে তি‌নি ব‌লেন, “যে কমিটিতে নাম এসেছে সেটি খসড়া। আমার জানামতে ওসব উপ-কমিটিকে দল এখনো অনুমোদন দেয়নি। সুতরাং আমাকে উপ-কমিটির সদস্য বলা যায় না।আর আমরা যেহেতু ইনফরমেশন সিস্টেমের সাথে জড়িত সেহেতু রিসার্চের কাজের জন্য খসড়া কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছিল।”


তিনি আরো বলেন, “আর রাজনীতির বিষয়ে যদি বলতে হয় তাহলে বলবো, আমি শিক্ষক সমিতির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাছাড়া ছাত্রজীবন থেকেই আমার অন্তরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালিত হয়েছে। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি সেখানে তখন আমরা ছাত্রলীগের কমিটি করতে পারিনি।”


আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন শাহজাহান বিপ্লব। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ছাত্রসমাজের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। এ বিষেয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকে এ ধরনের উল্টাপাল্টা কথা বলে। আমি গত উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলাম। কুমিল্লা থেকে মেয়র পদের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলাম। বিএনপির আগুন সন্ত্রাসের সময় সার্বক্ষণিক মাঠে ছিলাম, মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিলাম। তখন তারা এসব কথা বলেনি কেন? কমিটিতে নাম আসায় অনেকে ঈর্ষান্বিত হয়ে এসব কথা বলছে।”


তিনি বলেন,“ওরা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাপ ভাইয়ের নামে কটুক্তি করেছিল। আমি কটুক্তির কারণ জানতে চেয়েছিলাম। এর পর থেকে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।”


ময়মনসিংহ বিভাগের সহ-সম্পাদক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান রাজু। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। তিনি আওয়ামী লীগের সাংগাঠনিকসম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবন এবং যৌন নিপীড়নের অ‌ভি‌যোগ র‌য়ে‌ছে। কয়েক বছর আগে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালে তিনি একটা মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে ভুক্তভোগী মেয়েটা উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। সেসময় জাতীয় দৈনিকগুলোতে এ খবর ছাপা হয়।


এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান রাজুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


এদিকে বিতর্কিত উপ-কমিটি নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রনেতাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সে সময় তার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ করেছেন দলটির উপ-কমিটিতে সহ-সম্পাদক পদ না পাওয়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিন মাসের সময় চান তিনি। এর আগে শনিবারও ওবায়দুল কাদের একইভাবে পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়েছিলেন।


প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত পৌণে ৮টার দিকে ওবায়দুল কাদের দলের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন পদবঞ্চিতরা। এ সময় তারা নানা ধরনের স্লোগানও দিতে থাকেন।


ত‌বে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা খসড়া তালিকা; এখনও চূড়ান্ত হয়নি।


বিবার্তা/ওরিন/মৌসুমী/হুমায়ুন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com