নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতিতে জাতীয় পার্টি
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৫১
নির্বাচনের দ্বিমুখী প্রস্তুতিতে জাতীয় পার্টি
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

বেশ আটঘাট বেঁধেই আগামী সংসদ নির্বাচনে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় পার্টি। আর এ প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে দ্বিমুখী ধারায়।


পার্টিসূত্র জানায়, প্রথমত আওয়ামী লীগের সঙ্গে আবারো জোট করে নির্বাচন করলে ১০০ আসন চাইবে জাতীয় পার্টি। তা থেকে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোকে চারটি আসন দেবে জাপা। দ্বিতীয়ত, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে দলটি। বর্তমানে তারা সেরকম প্রস্তুতিই নিচ্ছে। তবে নির্বাচনের সময় এলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে মহাজোটে থেকে নাকি এককভাবে নির্বাচন করবে জাতীয় পার্টি ।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বিবার্তাকে বলেন, জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা, ক্লিন ইমেজ ও ত্যাগী নেতাদের যোগ্যতম ভাবছি। আগামীতে প্রার্থী হতে হলে এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতেই হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসার সুযোগ নেই।


তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য - তা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় নেয়া। তাই আমরা আগেভাগেই নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হবে।


জাতীয় পার্টির একাধিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মনে করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে হলে প্রধান দুটি জোট যত শক্তিশালীই হোক, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সেক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার লক্ষ্যে সংসদে ৪০ আসন নিয়ে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টিকে নিয়ে শুরু হবে টানাটানি। এ ক্ষেত্রে জাপার যে কোনো দাবি পূরণে বড় দুই দল পিছপা হবে না। জাতীয় পার্টি সে সুযোগই খুঁজছে।


তাঁরা দাবি করেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি যে একটি বড় ফ্যাক্টর হবে, তা বুঝে এখন থেকেই দলটির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলছে অন্যান্য রাজনৈতিক দল।


পার্টির আরেকটি সূত্র জানায়, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে নয়, শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকার জন্যই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার কৌশল নিয়েছে জাতীয় পার্টি। এ জন্য আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরে তৈরি করেছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ। এ রোডম্যাপ অনুযায়ী বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পাটির নির্বাচনী কৌশল হবে একরকম। আর অংশ না নিলে কৌশল হবে অন্যরকম। এখন নির্বাচনী প্রচার চলবে একরকম, আবার নির্বাচনের সময় জাপার নির্বাচনী কর্মকৌশল হবে ভিন্ন। এ সব কিছু মিলিয়ে জাতীয় পার্টি তৈরি করেছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ।


এদিকে ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির গুরুত্ব বাড়াতে সম্প্রতি ৫৮ দলীয় জোট গঠন করেছেন এরশাদ। হেফাজতে ইসলামের সমর্থন আদায়েও দলটি কাজ করছে। সেই সমর্থন পেলে ভোটের মাঠে প্রধান দুই দলের জন্য বড় ফ্যাক্টরই হতে পারে জাতীয় পার্টি।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় এরশাদ নিজেই তত্ত্বাবধান করছেন। তাঁকে সহায়তা করছেন পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। ইতোমধ্যে দলের সংসদ সদস্যদের যার যার নির্বাচনী এলাকায় আরও বেশি সময় দেয়ার জন্য বলেছেন পার্টির চেয়ারম্যান। সংসদ সদস্যদের বাইরে দলের শীর্ষ নেতা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদেরও যার যার এলাকায় যাতায়াত বাড়াতেও বলেছেন তিনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীর একটি খসড়া তালিকা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন এরশাদ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজটি সম্পন্ন করতে চান তিনি। এর অংশ হিসেবে দলের নেতারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করতে চান, তা জানতে চেয়েছেন এরশাদ।


এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রেস সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায় জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন। নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক রোডম্যাপ নিয়ে তারা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।


দলের অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান বলেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের জন্য আমরা যে কোনো ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারি, তবে তা হবে নির্বাচনের আগে।


বিবার্তা/বিপ্লব/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com